২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যমুনার ভাঙ্গন ঠেকাতে ৭শ’ কোটি টাকা জলে

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর, ১০ অক্টোবর ॥ জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে দিশেহারা অসহায় মানুষ। ভেস্তে যেতে বসেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) সাত শ’ কোটি টাকার প্রকল্প।

জামালপুর পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে যমুনার ভাঙ্গনরোধে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর ও সরিষাবাড়ি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার্থে ২০১০ সালে বাম তীর সংরক্ষণের জন্য প্রথমে ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করে পাউবো।

২০১০-১১ অর্থবছরে দেওয়ানগঞ্জের ফুটানিবাজার থেকে ইসলামপুর শশাড়িয়াবাড়ির মোরাদাবাদ, কুলকান্দী পর্যন্ত এবং সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনা এলাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু করে।

কিন্ত কুলকান্দি শক্ত অবকাঠামো বাঁধের ভাটি থেকে গুঠাইল বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার বাদ রেখে নদীর ভাটি অংশে কদমতলী ও উলিয়াবাজার পর্যন্ত বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এদিকে তিন বছব মেয়াদী প্রকল্পের দ্বিতীয় বছর কংক্রিট ব্লকের পাইলিং করে তৃতীয় বছর ২০১৩ সালের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতসহ কাজ সমাপ্ত করার কথা ছিল। কিন্তু পর্যায়ক্রমে ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয় প্রকল্পটি উন্নীত করে দ্বিতীয় দফা চার শ’ ৮৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়। এদিকে কুলকান্দি শক্ত অবকাঠামো বাঁধ থেকে গুঠাইল বাজার পর্যন্ত ভেঙ্গে পাঁচ কিলোমিটারে দাঁড়ালে বাধ্য হয়ে পাউবো আরও ২১৭ কোটি টাকার অপর একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বরাদ্দের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কর্তৃপক্ষ অর্থ বরাদ্দ না দেয়ার কারণে শুধু বস্তা ডাম্পিং করে ভাঙ্গন রোধ সম্ভব হয়নি। ফলে মাঝখানের অংশ প্রতিনিয়ত ধনুর বাগে ভেঙ্গে এখন প্রায় ৬ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। এ নিয়ে জামালপুরের যমুনার ভাঙ্গনরোধে সর্বমোট প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় সর্বমোট ৭০৬ কোটি টাকা।

বর্তমানে হুমকিতে পড়েছে গুঠাইল বাজার নৌ-বন্দর, গুঠাইল বাঁধ, গুঠাইল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, গুঠাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুঠাইল মাদ্রাসাসহ অসংখ্য সরকারী/বেসরকারী স্থাপনা, ঘরবাড়ি, গাছপালা, হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমিসহ যমুনার ভাটিতে বালির বস্তা ডাম্পিং করে ভাঙ্গন রোধ সম্ভব হলেও তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। ঘোনাপাড়া গ্রামের কাইজার, বদি, ফজলু পরিমল আক্ষেপ করে বলেন, পাঁচ বছর যাবত শুধু শুনছি ডাম্পিং শুরু হবে। কিন্তু আজও হয়নি। প্রতিবছর নদী ভেঙ্গে চলছে। ভাঙ্গন দেখা দিলে পাউবো তড়িঘড়ি করে বস্তা ফেলে দায়িত্ব শেষ করে। এবারও ৬ কিলোমিটার ভাঙ্গনরোধে বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ১০হাজার বস্তা, যা কোন কাজে আসবে না।

এদিকে স্থানীয় এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল ভাঙ্গনরোধে পাউবোকে এ ব্যাপারে বার বার অনুরোধ জানিয়ে আসছেন বলে জানান। অপরদিকে গত ৬ অক্টোবর জামালপুরের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মাহজাবিন খালেদ বেবী এবং জামালপুরের জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরীভাবে ভাঙ্গন রোধের প্রদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আপাতত ১০হাজার বালির বস্তা নদীতে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে তিন বছরের স্থলে বিগত ৫ বছর অতিবাহিত হলেও কংক্রিট ব্লক বসানো সম্ভব হয়নি।