২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আশা করছিলাম ওকে নিয়েই সুখী হব

  • মা আমি বাঁচতে পারলাম না

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর, ১০ অক্টোবর ॥ ‘মা আমি বাঁচতে পারলাম না, বড় আশা করছিলাম ওকে নিয়েই সুখি হব। কিন্তু মা রবিবারে ওর সঙ্গে আমার ঘটনার পর আজকে আনোয়ার দাদা আমাকে বলে যে সুমাইয়া তোর সঙ্গে অর বিবাহ হয় নাই। তুই একবার আমার ইচ্ছ (ইচ্ছা) মিটা। আমি সুজনের সঙ্গে তোর বিবাহ দিয়ে দেব। তোর বাবা-মা রাজি না হলে আমি তোদের কোথাও রাইখা তোদের বিবাহ দেব। সুমাইয়া তুই একবার আমার ইচ্ছা মিটা।’

‘মা আমার বাঁচার বড় আশা ছিল। ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না। তোমাদের ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করছে না। কিন্তু ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না। মা আমাকে ক্ষমা কর, রবিবার দিন এই ঘটনা হলো কেন। তা হয়ত তোমরা জানো না। ওরা আমাকে কলার মধ্যে যেন কী খাওয়াই ছিল। তাই এই ঘটনা হয়েছিল। এখন তোমাদের যা মনে হয় তাই কর, কিন্তু আমাকে ক্ষমা করে দিও। বাবাকেও বলো আমায় যেন ক্ষমা করে। আর একটা কথা কী জানো মা আল্লাহ যেন কাউকে গরিব বানায় না। আনোয়ার আমাকে এক হাজার টাকা দিয়ে বলে এই টাকা নিয়া তুই কিছু কিনিস। তাই তার এসব কথা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলাম। আর আজকেও সুজন আমাকে তার দোকানে দেখে কটু কথা বলে যে তুই এরকম করস তোর ঘটনা আমি ফেসবুকে ছেড়ে দেব। মা আমার ছোট ভাইকে তুমি দেখে রেখ। ভাইকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না।’ এভাবেই চিঠি লিখে মাদারীপুর রাজৈর উপজেলার আমবাগ কুঠিবাড়ি গ্রামের কিশোরী সুমাইয়া আক্তার আত্মহত্যা করে। সুমাইয়ার প্রেমিক দোকান কর্মচারী সুজন শেখ ও দোকানের মালিক আনোয়ার শেখ ধর্ষণ করে। এ ঘটনা ফেসবুকে দেয়ার ভয় দেখালে কিশোরী আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় কিশোরী সুমাইয়ার বাবা শাহ আলম বেপারী আদালতে মামলা করে। দীর্ঘ ২৫ দিন পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টো পুলিশ দুই লাখ টাকায় মীমাংসার চেষ্টা করছে বলে সুমাইয়ার বাবা অভিযোগ করেছে। সুমাইয়ার বাবা শাহআলম বেপারীর অভিযোগ, পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলার আমবাগ কুঠিবাড়ি গ্রামের শাহআলম বেপারীর কিশোরী মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বাড়ির সামনে একই গ্রামের আনোয়ার শেখের মুদি দোকানে পানি দেয়ার কাজ করত। কাজের সুবাদে ওই দোকানের কর্মচারী একই গ্রামের মৃত শাহআলম শেখের ছেলে সুজন শেখের সঙ্গে সুমাইয়ার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে সুমাইয়া দোকানে পানি দেয়ার জন্য যায়। পাশে টিউবয়েলে পানি আনতে গেলে সুজন শেখ নির্মাণাধীন ঘরের ভিতর নিয়ে ধর্ষণ করে। লোক লজ্জার ভয়ে ঘটনাটি চেপে যায় পরিবারের লোকজন।

এই ঘটনার পর ১৫ সেপ্টেম্বর দোকানের মালিক আনোয়ার শেখ নিজ দোকানে সুমাইয়াকে ডেকে এনে সুজনের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয়। এ সময় সুমাইয়াকে সে খাবার খাওয়ায়। এতে সে অচেতন হয়ে পড়লে আনোয়ার কিশোরীকে ধর্ষণ করে ঘটনাটি ভিডিও করে রাখে। ধর্ষণের ঘটনাটি আশপাশের লোকজন ও পরিবার টের পেলে তাৎক্ষণিক বিয়ের আশ্বাস দিয়ে চেপে যায়। পরের দিন সুমাইয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে উল্টো আনোয়ার ও সুজন তাকে খারাপ-বাজে মেয়ে বলে গালিগালাজ করে। ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ে সারাবিশ্বকে দেখাবে বলে হুমকি দেয়। এই ঘটনার পর সুমাইয়া ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে সবার অজান্তে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা শাহআলম বেপারী ২০ সেপ্টেম্বর মাদারীপুর আদালতে মামলা করে। ঘটনার ২৫ দিন পার হলেও প্রকাশ্যে আসামিরা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ কোন আসামিকে ধরছে না বলে কিশোরীর পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহত সুমাইয়ার বাবা শাহআলম বেপারী বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যার আগে চিঠি লিখে গেছে। দোকানের মালিক আনোয়ার ও তার কর্মচারী সুজন ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ধারণ করা চিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিলে সুমাইয়া লজ্জায় আত্মহত্যা করে।