২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীর রেস্তরাঁয় একটি বৈঠক নিয়ে গুঞ্জন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর শংকরে একটি রেস্টুরেন্টে বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। শনিবার রাতে ফোর সিজনস রেস্টুরেন্টে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে একজন উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তা, বেশ কয়েকজন জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ, সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী, তাঁতী লীগের সভাপতিসহ অন্তত ২০ জন অংশ নেন। এক পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সটকে পড়েন তারা। খবর পেয়ে এক সাংবাদিক মোবাইলে বৈঠকের ছবি ধারণ করতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। মোবাইল থেকে ছবি বাদ দিয়ে ওই সংবাদকর্মীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বৈঠককারীরা।

একটি গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, পুরো বিষয়টিতে ষড়যন্ত্রের তেমন কোন আভাস তারা পাইনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বলেই জানা গেছে। রাত আটটার দিকে শংকর বাস স্ট্যান্ডের পাশে ফোর সিজনস রেস্টুরেন্টের ওই অনুষ্ঠানে একে একে সরকারী কর্মকর্তারা আসতে থাকেন। তারা একটি কক্ষে বসেন। এ সময় সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার, ৭/৮ জন জেলা জজ, এ্যাডিশনাল জেলা জজ, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন তাঁতী লীগের সভাপতি, সুপ্রীমকোর্টের কয়েকজন আইনজীবীও বৈঠকে অংশ নেন। খবর পেয়ে সংবাদ মাধ্যমের কয়েকজন কর্মী ও পুলিশের একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসলে তারা দ্রুত সটকে পড়েন। যে যার মতো করে রেস্টুরেন্ট থেকে নেমে গাড়ি নিয়ে চলে যান। তবে যাওয়ার আগে সবার কাছে একটি ফরম বিতরণ করতে দেখা গেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে কেন এই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল, বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে কিছুই নিশ্চিত করতে পারেনি সূত্রগুলো।

বৈঠক থেকে যাওয়ার সময় পুলিশের এক কর্মকর্তার কাছে সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার বলে পরিচয় দেন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৪ নবেম্বর সাবেক জ্বালানী উপদেষ্টা মাহামুদুর রহমানের নেতৃত্বে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়িতে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে সরকারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে মিডিয়ার উপস্থিতি টের পেয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের আড়াল করে পালানোর চেষ্টা করেন।

শনিবার বৈঠকে অংশ নেয়া তাঁতী লীগের সভাপতি এনাজুর রহমান চৌধুরী পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে জনকণ্ঠ’কে বলেন, আমি রাতে গুলিস্তান আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের সম্মেলন বিষয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ধানম-ির দিকে যাইনি। কোন রেস্টুরেন্টেও বসিনি। বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয়টি ডাহা মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশের রমনা জোনের ডিসি আবদুল বাতেন জনকণ্ঠ’কে বলেন, এ বিষয়ে কোন খবর আমার জানা নেই। হলে খবর পেতাম। ধানম-ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আযম জনকণ্ঠ’কে বলেন, ফোর সিজনস রেস্টুরেন্টে আমরা কোন বৈঠকের খবর পাইনি। তবে রেস্টুরেন্ট থেকে থানায় টেলিফোন করে জানানো হয় সেখানে কিছু লোক খাওয়া দাওয়ার সময় সাংবাদিক পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি নিষেধ করা সত্ত্বেও মোবাইলে ছবি তুলছিলেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে সাংবাদিককে থানায় নিয়ে আসে। আমরা খবর নিয়ে দেখি তিনি নিউ এইজ পত্রিকার রিপোর্টার। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওই সাংবাদিককে ছেড়ে দেয়ার কথা জানান তিনি।

নিউ এইজ পত্রিকার রিপোর্টার মনিরুজ্জামান মিশন জনকণ্ঠ’কে জানান, ফোর সিজনস রেস্টুরেন্টে একটি বৈঠকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে কয়েকজন জেলা জজ, সুপ্রমীকোর্টের আইনজীবী, তাঁতী লীগের সভাপতি, এ্যাডিশনার ডিস্ট্রিক জজ, সেনা কর্মকর্তাসহ ২০ জনের বেশি লোকের সমন্বয়ে পার্টির আয়োজন করা হয়। মোবাইলে ছবি ধারণ করতে গেলে তাঁতী লীগের সভাপতি আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এক পর্যায়ে মোবাইল থেকে ছবি ডিলিট করাতে বাধ্য করে এবং মোবাইল ফোনটি ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করেন তিনি। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তাকে ধানম-ি থানায় ফোন করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ করেন মিশন।