১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্যালিয়েটিভ কেয়ার কমাতে পারে অন্তিমশয্যায় রোগীর শারীরিক যাতনা-

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্যালিয়েটিভ কেয়ার হ্রাস করতে পারে নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত অন্তিমশয্যায় শায়িত রোগীদের শারীরিক যাতনা। জোগাতে পারে মানসিক সমর্থন, স্বস্তি ও বাস্তবকে মেনে নেয়ার শক্তি, আধ্যাত্মিক শান্তি। আর সেই সঙ্গে রোগীর পরিবারের জন্যও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি তাদের জীবনে নতুন দিন আনে না; কিন্তু তাদের প্রতিটি দিনে যোগ করে নতুন জীবন। এ রোগীরা যেহেতু জানতে পারে সে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই তার মানসিক কষ্টও কম নয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা শারীরিকভাবে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রয়োজন। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কষ্ট লাঘব করে চিকিৎসাসেবা এবং সহানুভূতি ও মমতার সমন্বয়ে রোগীকে পরিচর্যা করাই প্যালিয়েটিভ কেয়ারের লক্ষ্য।

শনিবার বিশ্ব হসপিস ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ার আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘অবহেলিত জীবন, অবহেলিত রোগী’। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রুহুল আমিন মিয়া কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আলী আসগর মোড়ল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ার-এর সমন্বয়ক অধ্যাপক ডাঃ নিজামউদ্দিন আহমদ।

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রুহুল আমিন মিয়া বলেন, জটিল ও নিরাময় অযোগ্য রোগীরা তাঁদের মৃত্যুর আগে যে কয়টা দিন বেঁচে থাকেন তাঁদের একটি যন্ত্রণামুক্ত সুন্দর জীবন উপহার দেয়াই প্যালিয়েটিভ কেয়ারের লক্ষ্য। এ সেবা এখন শুধু হাসপাতালেই নয়, বাড়িতে, টেলিফোনেও কথপোকথনের মাধ্যমে দেয়া সম্ভব। তবে বাংলাদেশে সীমিত সংখ্যক মানুষ এ সেবাটি পাচ্ছেন।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মৃত্যুর পূর্বে একজন রোগী কতটা যন্ত্রণা ভোগ করেন সে অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই রয়েছে। ক্যান্সার, এইডস, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী মৃত্যুর আগে পাঁচ বছর কিংবা আরও অধিক সময় সীমাহীন যন্ত্রণা ভোগ করে থাকেন। এসব রোগীদের কষ্ট লাঘবের জন্য প্যালিয়েটিভ সেবার গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্যালিয়েটিভ সেবাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।