২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোটরবাইকে করে ইয়াবা বেচে কোটিপতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মোটরসাইকেলে রাজধানীর অলিগলিতে ইয়াবা পৌঁছে দিতেন তারা দু’জনই। মোটরসাইকেলের সিটের নিচে রাখা ছোট একটা কাপড়ের পুঁটলিতেই সম্ভব হাজার হাজার পিস ইয়াবা অনায়াসে এক জায়গা থেকে অন্যত্র পৌঁছে দেয়া। এটা যেমন নিরাপদ, তেমনি সহজসাধ্যও। এ কারণে গত তিন বছরেই তারা দু’জন কোটিপতি বনে যান। আলাদীনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি ইয়াবা সম্রাট সেজে যাওয়া ধনাঢ্য এই দুই যুবক হচ্ছেন রিয়াদ ও ইকবাল।

ঢাকা মহানগর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উত্তরা জোনের রিমান্ডে থাকাবস্থায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন তারা। রিমান্ড শেষে আজ তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

উত্তরা জোনের মাদক পরিদর্শক কামরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, রিমান্ডে থাকা ইকবাল ও রিয়াদের কাছ থেকে মিলছে চমকপ্রদ তথ্য। কিভাবে টেকনাফ থেকে বিভিন্ন কায়দায় লাখ লাখ পিস ইয়াবা ঢাকায় এনে অভিজাত এলাকায় সরবরাহ করতেন, তা অবিশ্বাস্য। মোটরসাইকেলের সিটের নিচে কাপড়ের ছোট পুঁটলির নিচে হাজার হাজার পিস ইয়াবা লুকিয়ে রাখা সম্ভব। তারা দু’জন এ কৌশলেই গত কয়েক বছর ধরে একচেটিয়া ইয়াবার ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছেন। তাদের হেফাজতে রয়েছে অনেক মোটরসাইকেল। গত ৫ অক্টোবর মাদক বিভাগের উত্তরা ও খিলগাঁও জোনের দুই পরিদর্শক কামরুল ইসলাম ও এসএম সামছুল কবির সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের ইস্কাটন ও রামপুরা থেকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ এ কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। টেকনাফের জনৈক জয়নালের কাছ থেকে এরা ইয়াবার সংগ্রহ করতেন। রাজধানীতে আনার পর সেগুলো বিক্রি করতেন মোটরসাইকেলে। জানা গেছে, মাস দুয়েক আগেও রিয়াদ ও ইকবাল ১২ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়। পরে জেলহাজতে পাঠানো হলেও মাত্র দুই মাসের মাথায় জামিনে বের হয়ে এসে একই কায়দায় শুরু করে ইয়াবা ব্যবসা। দুই দিনের রিমান্ডে থাকাবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় এ ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন রিয়াদ ও ইকবাল।