২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ-নেপাল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বন্ধ

  • তানজিনা আক্তার

নতুন সংবিধান নিয়ে মাধেসী জনগোষ্ঠীর বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের জের ধরে ভারত-নেপালে অঘোষিত বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে অস্বীকার করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো নেপালে পণ্যবাহী কোন ট্রাক যাচ্ছে না। ফলে দেশটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র নিত্যপণ্য ও জ্বালানি সঙ্কট। ভারতের অঘোষিত বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপালের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও। বাংলাদেশ নেপাল থেকে সাধারণত আমদানি করে ডাল, ওষধি গুল্ম, সবজি এবং রফতানি করে ওষুধ, ব্যাটারি, ফ্যাব্রিকস, জুস, আলু, গুঁড়ো দুধ, বিস্কুট, কাঁচা পাট, টিউব লাইট ও মোবাইল ফোন। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ নেপাল থেকে আমদানি করেছে ৮০ কোটি ৬৮ লাখ টাকার পণ্য এবং রফতানি করেছে ২০৪ কোটি টাকার পণ্য। অথচ, বিগত দু’সপ্তাহ ধরে এই দুটি দেশের বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশের বাংলাবান্ধায় ভারতীয় সীমান্তের কাছে আটকে আছে দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। এই ট্রাকগুলো শিল্পপণ্য, ফ্যাব্রিকস, জুস, জ্যাম, ব্যাটারি ও তুলা বহন করছে। নেপাল যাওয়ার পথে ভারতীয় অঞ্চল পেরোতে হয় বলে দেশটির শুল্ক বিভাগের কাছ থেকে বাধা আসার শঙ্কায় সীমান্তে আটকে আছে ট্রাকগুলো। এ বিষয়ে নেপালের ঝাঁপা জেলার কাঁকড়ভিটা অঞ্চলভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান যাদব রাজ শিওয়াকোটি জানান, বর্তমানে নেপালগামী পণ্য সীমান্ত পেরোতে দিতে কিছুটা অনিচ্ছুক বাংলাদেশী রফতানিকারকরা। কারণ তারা আশঙ্কা করছেন, নেপালে পণ্য রফতানিতে ভারতীয় শুল্ক বিভাগ যে কোনভাবে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালাবে। হচ্ছেও তাই। আবার নেপাল থেকে বাংলাদেশে ডাল, চাবনপ্রাশ, সবজিসহ অনেক পণ্য আমদানি করতে পারছে না। ভারতীয় শুল্ক বিভাগের কড়াকড়ির কারণে নেপাল থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছে না, যাচ্ছেও না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্যপথে তৃতীয় কোন দেশের ভূখ- পড়ে গেলে ওই দেশ তাতে কোন প্রকার বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। কিন্তু প্রভাবশালী ভারত ঠিকই সেই আইন লঙ্ঘন করে সীমান্ত বাণিজ্যে আরোপ করেছে কড়াকড়ি। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশ- নেপালের মধ্যকার বাণিজ্য। নেপালের মেছি শুল্ক দফতরের প্রধান ভীম প্রসাদ অধিকারী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থমকে যাওয়ায় নেপালের দৈনিক গড় রাজস্ব আয় কমেছে ১১ লাখ রুপী। এ হিসাব অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে দেশটির মোট রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ১৫ কোটি রুপী।