২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জানি না গিনেজ বুকে আমার নাম উঠবে কি না – রানী হামিদ

জানি না গিনেজ বুকে আমার নাম উঠবে কি না – রানী হামিদ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘যতদিন মাথা চলবে, হাত চলবে, সুস্থতা থাকবে, আর আনন্দ লাগবে, ততদিনই খেলে যাব।’ কথাগুলো প্রথম মহিলা আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার ‘দাবার রানী’ খ্যাত রানী হামিদের। জাতীয় দাবায় ২১ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রানী হামিদ। এটা বিশ্ব রেকর্ড। কিন্তু দাবা ফেডারেশনের অদক্ষতা, অনীহায় এটি গিনেজ বুকে এখনও অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি পীড়া দেয় রানীকে, ‘জানি না আমার এ কৃতিত্ব কোনদিনও গিনেজ বুকে উঠবে কি না!’

এদেশে দাবাকে এখনও পেশা হিসেবে নেয়ার মতো প্রেক্ষাপট সেভাবে তৈরি হয়নি। যেসব দাবা টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়, সেগুলোতে খুব কমই আর্থিক পুরস্কার দেয়া হয়। দিলেও পরিমাণটা থাকে খুবই নগণ্য। এ নিয়ে আক্ষেপ করেন রানী। এজন্য দাবা ফেডারেশনকেও আংশিক দায়ী করেন তিনি, ‘এ অবস্থার জন্য ফেডারেশন দায় এড়াতে পারে না। তবে তাদের পুরোপুরি দোষ দেব না। শুটিং ফেডারেশনের মতো তাদের যদি আয়ের আলাদা কোন উৎস থাকতো, তাহলে নিশ্চয়ই তারা এ দিকটা দেখতো।’

এই প্রজন্মের অনেক মহিলা দাবাড়–রই আদর্শই হচ্ছেন রানী হামিদ। তারা চায় রানী হামিদের মতো হতে। এ ব্যাপারে রানীর সহাস্য প্রতিক্রিয়া, ‘ভাল লাগলো শুনে। তবে ওরা আমার মতো হবে কেন? আমি তো চাই ওরা আমাকেও ছাড়িয়ে যাক। তাহলে দেশের মহিলা দাবা অনেক উন্নতি করবে, এটাই প্রত্যাশা করি।’

গত জুলাইয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের সিনিয়র বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা রানীর দাবা সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের সর্বশেষ সাফল্য। এটি নিয়ে অনেক তৃপ্ত তিনি, ‘এই বয়সেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলে সাফল্য পেয়েছি। এটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বর্পূণ ব্যাপার। এতে আরও খেলে যাবার প্রেরণা পেয়েছি।’

বাংলাদেশের মহিলা দাবার উন্নয়নে ১৯৮৫ সাল থেকেই কাজ করছেন রানী। ‘মহিলা দাবা সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তিনি। মাঝে অবশ্য কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর ২০০০ সাল থেকে আবারও সচল হয়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম। জাতীয় দাবাড়– জাহানারা হক রুনু এর সাধারণ সম্পাদক। আরেক জাতীয় দাবাড়– মাহমুদা হক চৌধুরী মলি সংগঠনের জন্য প্রায়ই আর্থিক সহায়তা করেন বলে জানান রানী হামিদ। তিনি বলেন, ‘এই সংগঠনের কাজ হচ্ছে যেসব মেয়ে ভাল দাবাড়–, অথচ কোন ক্লাব পায় না, তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করা। একটা পর্যায় পর্যন্ত তারা যেন উন্নতি করতে পারে। এজন্য অবশ্যই প্রয়োজন ভাল প্রশিক্ষণের। আমরা অবশ্য কোচিং করাচ্ছি না।’

পুরুষ দাবায় এখন গ্র্যান্ডমাস্টারের সংখ্যাটা পাঁচ। আর মহিলাদের বেলায় সংখ্যাটা শূন্য। কবে দেখা যাবে দেশের প্রথম মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টারকে? ‘এখন মহিলা দাবার যে অবস্থা, তাতে তো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কাউকে দেখছি না। লিজা সম্ভাবনাময়ী। কিন্তু ও তো রেটিং সেভাবে বাড়াতে পারছে না। তবে আমি আশাবাদীÑ দেরিতে হলেও একদিন অবশ্যই মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টারের সন্ধান পাব আমরা।’

রানী হামিদের এই প্রত্যাশা সফল হোক, এটাই দাবাপ্রেমীদের নিগুঢ় প্রত্যাশা।