২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিজেদের নিদোর্ষ দাবি চিট্টাগং শেয়ার কেলেঙ্কারির আসামিদের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চিট্টাগং সিমেন্ট (হিডেলবার্গ সিমেন্ট) শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলায় জবানবন্দীতে আসামীরা আদালতের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। রবিবারে পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার আসামি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান এবং চিটাগং সিমেন্টের সাবেক পরিচালক ও বুলবুল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শহিদুল হক বুলবুল লিখিত জবানবন্দী দেন। এ মামলার অপর আসামী টি কে ওয়েল রিফাইনারি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তৈয়ব অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে লিখিত জবানবন্দী দেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এ সময় আসামী শহিদুল হক বুলবুলের পক্ষে ডিএসই’র দুই সাবেক কর্মকর্তাকে সাফাই স্বাক্ষী দেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন আইনজীবী মহসিন রশিদ। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী ১৪ অক্টোবর সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। স্বাক্ষী দুইজন হলেন ডিএসই’র সাবেক কোম্পানি সেক্রেটারি শেখ মাহমুদুল্লাহ এবং সাবেক ডেপুটি ডিরেক্টর সরকার আলী আসগর। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাফাই স্বাক্ষীদের জেরা করবেন।

লিখিত জবানবন্দীতে রকিবুর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, এই মামলায় আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমি বিএসইসি অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী কোন অপরাধ করিনি এবং ১৭ ধারায় যে সকল অভিযোগে অভিযুক্ত করা যায় তার কোনটি আমার দ্বারা সংঘটিত হয়নি। লিখিত জবানবন্দীতে তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার দুই পোর্টফোলিওতে চিটাগং সিমেন্টের (বর্তমান হাইডেলবার্গ সিমেন্ট) যে শেয়ার ছিল তদন্ত চলাকালীন সময়েও পোর্টফোলিও থেকে কোন শেয়ার বিক্রি হয়নি এবং কেনাও হয়নি। বরং সে সময় কোম্পানি ২:১ অনুপাতে বোনাস এবং ২:১ অনুপাতে রাইট শেয়ার ইস্যু করাতে আমার পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ারের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ৪ ডিসেম্বর ১৯৯৬ তারিখে বিএসইসি থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জের কোন সদস্য তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারবে না। আর যারা বর্তমানে রয়েছেন তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভা অথবা ৬ মাসের মধ্যে যেটি আগে এর মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। আমি বিএসইসি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১৯ মার্চ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করি। ১৯ মার্চ ১৯৯৭ তারিখে কোম্পানির ১১৯তম বোর্ড সভায় আমার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করা হয়। এ মামলার অন্য আসামী আবু তৈয়ব এবং শহিদুল হক বুলবুলও জবানবন্দীতে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবী করে আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থণা করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো: মাসুদ রানা খান উপস্থিত ছিলেন।

মামলার চার্জশিট থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে চিটাগাং সিমেন্টের শেয়ার কেলেঙ্কারির দায়ে রকিবুর রহামনসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা ১৯৯৬ সালে চিটাগাং সিমেন্টের পরিচালক ছিলেন। ভারতীয় ও ইরানী বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির শেয়ার কিনবে বলে আসামিরা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছড়িয়ে শেয়ার মূল্য প্রভাবিত করেন। এ ব্যাপারে পরবর্তীকালে চিটাগাং সিমেন্টের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এরপর কোম্পানির একজন পরিচালক বড় অংকের শেয়ার হস্তান্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া বিএসইসির নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রকিবুর রহমান ও এএস শহিদুল হক বুলবুল পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর ১৭ ধারা অনুসারে কারসাজি।

পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আমিরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তিন মাস পর ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ তদন্ত কমিটি সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে। আর এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৯৯৭ সালের ৪ মে মহানগর মূখ্য হাকিম আদালতে মামলা করে বিএসইসি। মামলাটি পরবর্তীকালে বিচারের জন্য প্রথম অতিরিক্ত দায়রা আদালত ঢাকায় বদলি করা হয়। এই আদালতে থাকাকালীন সময়ে মামলাটির বাদীর সাক্ষ্য শেষ হয়। পরবর্তীকালে মামলার আদালত পরিবর্তনের নির্দেশ এলে বাদী পক্ষের সম্মতিতে নিম্ন আদালতের আদেশের উপর স্থগিত আদেশ দেন উচ্চ আদালত। এরপর বিএসইসির ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর মামলাটি এই আদালতে স্থানান্তর করা হয়।