২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাসিনা দৌলাকে দুদকে তলব

  • ভুয়া প্রকল্পের নামে এক শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের নামে ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাসিনা দৌলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয় থেকে তার কাছে জিজ্ঞাসাবাদের এ নোটিস পাঠানো হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ তৌফিকুল ইসলাম এ নোটিস পাঠিয়েছেন। নোটিসে আগামী ২১ অক্টোবর সকাল সাড়ে দশটায় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে তাকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। দুদক সূত্র সোমবার সকালে জনকণ্ঠকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, জেলা পরিষদের সব কাজের বিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন প্রশাসক। ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক শ’ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেন তিনি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনেও বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের নামে অর্থ ছাড়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে অভিযোগ অনুসন্ধানে সমবায় মন্ত্রণালয় তথ্য সরবরাহ না করায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিবের (জেলা পরিষদ অধিশাখা) কাছে আবারও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। এবারের চিঠিতে আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, জেলা পরিষদ প্রশাসক হাসিনা দৌলার স্থানীয়ভাবে কথিত পিএস বোয়াইল ধামরাইয়ের মাহবুবুর রহমান (মনি) বিভিন্ন পিআইসির সভাপতির নামে এবং তার নিজ নামে স্বাক্ষর করে ১ হাজার ৫০টি চেকের মাধ্যমে মোট ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৩৮ হাজার ২৫০ টাকা গ্রহণ করেন। ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে তিনি এ চেকগুলো তুলেছেন। অন্যান্য বছরেও অনুরূপ চেক গ্রহণ করেছেন তিনি। চেক রেজিস্টার নথি পরীক্ষা করে এ চিত্র দেখা গেছে। কোন অথরিটি ছাড়াই তিনি ওই অর্থ তুলেছেন। পিআইসির মাধ্যমে বাস্তবায়িত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পগুলোয় ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে।

২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৩ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের ঢাকার নবাবগঞ্জের ‘যন্ত্রাইল কবরস্থান উন্নয়ন’ প্রকল্পের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এক্ষেত্রে কোন কাজ না করেই প্রায় দেড় বছর আগেই প্রথম চলতি বিলে কাজের ৭৯ শতাংশ অর্থাৎ ১৭ লাখ ২১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। ১০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের ঢাকার নবাবগঞ্জ ‘অফিসার্স ক্লাব সংস্কার’ প্রকল্পে কোন সংস্কার কাজ না করেই জেলা পরিষদ থেকে চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হয়। ২৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের নবাবগঞ্জ আধুনিক মার্কেট মেরামত প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করে বিরাট অংকের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ১০০ কোটি টাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির কাছে প্রমাণিত হয়। যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন) সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী ওই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক, উপ-সচিব (উপজেলা অধিশাখা) ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরফুল আনাম খান তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।

এদিকে সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, চলতি বছরের ৯ মার্চ ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাসিনা দৌলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১৭ পৃষ্ঠার এক তদন্ত প্রতিবেদন দুদকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়। এর পর জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম-সচিব ৪৮৪ পৃষ্ঠার আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগের সচিবের কাছে দাখিল করেছেন। চিঠিতে ৪৮৪ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিবকে দুদকে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ স্থাপন প্রকল্প, নবাবগঞ্জ যন্ত্রাইল কবরস্থান প্রকল্প, নবাবগঞ্জ আধুনিক মার্কেট মেরামত প্রকল্প, ঢাকা জেলার বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় ৫০টি কম্পিউটার সরবরাহ, নবাবগঞ্জ মার্কেট নির্মাণ প্রকল্প, দোহার সুতারপাড়া শামসুল হুদার গাজীরচেক মিনা মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্প, নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা মাঝপাড়া যুব সংঘ উন্নয়ন প্রকল্প, নবাবগঞ্জ উপজেলা চৌকিঘাটা কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্প, নবাবগঞ্জ তুইতাল মেইন রাস্তা থেকে তুইতাল বাজার পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্প এবং নবাবগঞ্জ নয়নশ্রী ইউ, বাংলাবাজার থেকে ঘোষপাড়া কালীমন্দির হয়ে উত্তর বাহা রাস্তার ইট সলিং প্রকল্পের প্রাক্কলন দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সংক্রান্ত কাগজপত্র, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়ন শিট, কার্যাদেশ, রানিং বিল, চূড়ান্ত বিল, পরিমাপ বইসহ সকল প্রকল্পের নথি ও নোটশিটসহ যাবতীয় রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপি দুদকে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকন্তু চেক রেজিস্টার ও বোয়াইল ধামরাইয়ের মাহবুবুর রহমানের (মনি) চেক গ্রহণ সংক্রান্ত রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপিও জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে চাওয়া হয়েছে।