২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাকিব হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনায় আলোচিত শিশু রাকিব হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। রবিবার দুপুরে বাদী নূরুল আলমের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিলরুবা সুলতানা সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্য প্রদানকালে বাদী তার পুত্র হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি (বাদী) আদালতের কাছে মামলার দ্রুত ও ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী ও বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, খুলনার সমন্বয়কারী এ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, রবিবার খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাকিব হত্যা মামলার বাদী নুরুল আলমসহ ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্য প্রদানকারী অপর ৬ জন হলেন খুলনা থানার এস আই জহিরুল ইসলাম, কনস্টেবল মোকসেদুল ইসলাম, কনেস্টবল বদরুল আলম, রাকিবদের প্রতিবেশী মিজান হাওলাদার, জাহিদুল ইসলাম ও খোকন শেখ। এস আই জহিরুল ইসলাম মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন, কনস্টেবল মোকসেদুল ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং কনেস্টবল বদরুল আসামি আটক দলের সদস্য। এ সময় আসামি শরীফ, মিন্টু খান ও বিউটি বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম তুষার ও মাজাহার উল ইসলাম মিলন সাক্ষীদের জেরা করেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট সুলতানা রহমান শিল্পী জানান, আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ৪ দিন টানা এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে। আজ সোমবার রাকিবের মা লাকী বেগমসহ আরও ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

এক কর্মস্থল ছেড়ে অন্য স্থানে যোগ দেয়ায় শিশু রাকিবকে গত ৩ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেয়া কম্প্রেসার মেশিনের পাইপের মুখ মলদ্বারে ঢুকিয়ে পেটে হাওয়া দেয়ায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা টুটপাড়া কবরখানা এলাকার মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটর্সের মালিক শরীফ ও তার কথিত চাচা মিন্টু মিয়াকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে শরীফের মা বিউটি বেগমকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। ঘটনার পরের দিন নিহত শিশুর বাবা নুরুল আলম ওই তিন জনের নামে খুলনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।