১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সচিবকে রাজকীয় সংবর্ধনা, পটুয়াখালীজুড়ে তোলপাড়!

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী/ বাউফল, ১১ অক্টেবর ॥ একটি রাজকীয় স্টাইলের সংবর্ধনা নিয়ে গোটা জেলায় তোলপাড় চলছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এক সচিবকে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। খরচ করা হয়েছে অর্ধকোটি টাকার বেশি। লেবুখালী ফেরিঘাট থেকে পটুয়াখালী পৌরসভা পর্যন্ত প্রায় ১০ কি.মি. সড়কে অর্ধশত তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। পটুয়াখালী শহরকে সাজানো হয় অপরূপ সাজে। ওই সচিবের ছবিসহ ফেস্টুন, ব্যানার টাঙ্গানো হয় অলিগলিতে। আলোকসজ্জাও করা হয়। পৌরসভার উদ্যোগে শনিবার তাঁকে এই রাজকীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সংবর্ধনায় মাইকে তাঁকে একটি মূল্যবান সোনার চাবি প্রদানের ঘোষণা দেয়া হলেও প্রকাশ্যে সেটি তাঁকে গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সোনার চাবিটি তাঁর জন্য তৈরি করা হয়। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এই সংবর্ধনা সফল করতে আয়োজকরা ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। এ ধরনের সংবর্ধনা স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে পটুয়াখালীতে কোন রাষ্ট্রনায়ককেও দেয়া হয়নি। সংবর্ধনা শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় সচিবকে বিশেষ প্রটোকল দিয়ে নিয়ে আসা হয় বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের সাবপুরায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে। এ সময় বগা ফেরিঘাট থেকে বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলের অনুসারীরা দুই সহস্্রাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শো-ডাউন করে তাঁকে বাড়ি নিয়ে আসে। তাঁর আগমন উপলক্ষেও একাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয় শহরজুড়ে। খানাখন্দে ভরা সড়কটি মেরামত করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি বাড়ি পৌঁছানোর পর, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ শুভেচ্ছা বিনিময়। এরপর নিজ বাড়িতে রাত কাটিয়ে রবিবার সকাল আটটার দিকে তিনি পটুয়াখালীর দুমকি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচীতে যোগদানের উদ্দেশ্য বাউফল ত্যাগ করেন। সচিবের এই রাজকীয় সংবর্ধনা নিয়ে গোটা জেলায় চলছে তোলপাড়। এ নিয়ে বিস্মিত আ’লীগের অনেক নেতাকর্মীও। তাঁদের মতে আয়োজনও মন্ত্রীর মতো।