২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এদের জন্য কিছু করুন

আজ যে শিশু পৃথিবীর আলোয় এসেছে, আমরা তার তরে একটি সাজানো বাগান চাই- গানের এই কলিটিতে সব শিশুর কথা বলা হলেও বাস্তবে সব শিশুর জন্ম সাজানো বাগানে হয় না। আমাদের দেশের কথাই ধরা যাক, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এমন অগণিত শিশু রয়েছে যাদের পথেই জন্ম, পথেই বসবাস। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, রাজধানীসহ সারাদেশে কয়েক লাখ পথশিশু রয়েছে যাদের ৮০ ভাগেরই জন্ম ফুটপাথে। প্রায় প্রতিদিনই স্বজনহারা শিশুরা শহরে এসে এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। অবহেলা-অযতেœ বেড়ে ওঠা এই শিশুদের ‘টোকাই’, ‘পথকলি’, ‘ছিন্নমূল’ বা ‘পথশিশু’ নামে ডাকা হয়।

পথশিশু রাজধানী তথা দেশের একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। তাদের নিয়ে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে তারা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও ব্যবহৃত হচ্ছে তারা। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই কোন না কোনভাবে মাদক সেবন করে। এদের ৩০ শতাংশ ছেলে এবং ১৭ শতাংশ মেয়ে। যার ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাবলেট ও ৮ শতাংশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা করে। ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি স্পটে ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে। এমনকি মাদকাসক্ত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর তথ্যÑ মাদকাসক্ত ৮০ শতাংশ পথশিশু মাত্র সাত বছরের মধ্যে অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। দারিদ্র্য ও সামাজিক অবক্ষয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবহেলা এমনকি নগরীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা মাদকের আস্তানা দিন দিন পথশিশুদের নিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে।

বাংলাদেশের ৭৫ ভাগ পথশিশু রয়েছে রাজধানীতে। নোংরা পরিবেশ আর অপুষ্টিতে বেড়ে ওঠা এসব শিশুর বেশিরভাগই রোগাক্রান্ত। তাদের জীবনযাপন অত্যন্ত দুর্বিষহ। অধিকাংশ সময়ই তারা রাস্তা, পার্ক, ট্রেন-বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, সরকারী ভবনের নিচে ঘুমায়। পরিসংখ্যান মতে, দেশে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ জন পথশিশু রয়েছে। কেবল ঢাকা শহরে রয়েছে ৭ লাখ পথশিশু। চলতি বছর শেষে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫৪ জনে। আর ২০২৪ সাল নাগাদ সংখ্যাটা হবে ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৩০ জন। পথশিশুদের অপরাধপ্রবণতা কমাতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। সেমত কাজও হচ্ছে, তবে যা হচ্ছে তা প্রয়োজের তুলনায় খুবই কম। পথশিশুদের এই জীবনচিত্র চরম সঙ্কট হিসেবেই দেখা উচিত। এই বিপুলসংখ্যক শিশুকে এ অবস্থায় রেখে সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজ ব্যবস্থা ধরে রাখা সম্ভব নয়। বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত করা গেলে ধীরে ধীরে তাদের মাদকাসক্ত ও অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা কমে আসতে পারে। এদের স্কুলে ভর্তি করা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে আরও সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। অবহেলা নয়, তাদের নানামুখী কাজে যুক্ত করা দরকার। পথশিশুদের সঠিক পথে ফেরাতে হবে। এদের জন্য অবশ্যই কিছু করা প্রয়োজন।