২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিম্নমানের মোবাইল সেট আমদানি বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিটিআরসি

  • পূর্বানুমতি না নিলে আইনী ব্যবস্থা

ফিরোজ মান্না ॥ নিম্নমানের মোবাইল সেট আমদানি বন্ধের জন্য বিটিআরসি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। পূর্বানুমতি ছাড়া মোবাইল হ্যান্ডসেটসহ অন্যান্য বেতারযন্ত্র আমদানি ও বিতরণ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিটিআরসি স্পেক্ট্র্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমদানি নীতি আদেশ ২০১২-২০১৫ ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ অনুযায়ী যে কোন প্রকার বেতার যন্ত্রপাতি (মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট, সিমযুক্ত ট্যাবলেট পিসি, ওয়াকি-টকি, বেইস, রিপিটার, ফিক্সড ওয়্যারলেস ফোন, মোডেম, ডাইরেক্ট টু হোম বা ডিটিএইচ রিসিভার ও অ্যান্টেনা স্যাটেলাইট টিভি রিসিভারসহ অন্যান্য বেতারযন্ত্র) আমদানির ক্ষেত্রে অবশ্যই বিটিআরসির কাছ থেকে আগে অনুমতি নিতে হবে। সম্প্রতি বেশ কিছু মার্কেটে অভিযান চালিয়ে কয়েক কোটি টাকার নিম্নমানের মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছে।

রবিবার বিটিআরসি স্পেক্ট্র্র্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল মোল্লা মোঃ জুবায়ের জানিয়েছেন, দেশে প্রতিদিন লাখ লাখ নিম্নমানের মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি হচ্ছে। এক শ্রেণীর বিক্রেতা, ব্যবসায়ী, সংস্থা, ব্যক্তি বিটিআরসির পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রকাশ্যে কিংবা অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের বেতারযন্ত্র আমদানি, বিতরণ, পরিবেশন, ইজারা ও বিক্রি করছে। যা আইন অনুযায়ী অপরাধ। যদিও এ বিষয়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে বিটিআরসির পূর্বানুমতি ছাড়া বেতারযন্ত্র সংক্রান্ত যে কোন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যথায়, বেতারযন্ত্রের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মোবাইল ফোন বর্তমান বিশ্বে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনলেও এর বিপরীত চিত্র ভয়াবহ। মোবাইল ফোন থেকে যে পরিমাণ রেডিয়েশন হয় তাতে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শিশুদের জন্য এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বেস স্টেশন (বিটিএস) বা টাওয়ার থেকে প্রতিদিন নির্গত হচ্ছে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাবে আগামীতে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। জটিল রোগে আক্রান্ত হবে কোটি কোটি মানুষ। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তথ্য প্রযুক্তিবিদ ও পদার্থবিদরা। তারা বলছেন, আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির কারণে জিনগত পরিবর্তন ঘটবে ব্যাপক হারে। নিম্নমানের মোবাইল সেট জীববৈচিত্র্যসহ মানবদেহের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদন নিয়ে মোবাইল সেট আমদানিকারকরা নিম্নমানের মোবাইল সেট আমদানি করছে। এতে সরকার বিপুল শুল্ক ফাঁকি মধ্যে পড়ছে। এই কাজ করে যাচ্ছে আমদানিকারকসহ অসাধু চক্র। নিম্নমানের মোবাইল সেট কিনে ঠকছেন ক্রেতারা। বাড়ছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধের ঘটনাও। ফাইভস্টার ব্র্যান্ডের এফ ৩০ (এফ-৩০) ১০ পিস স্মার্টফোন প্রতিটি ৬ ডলার অর্থাৎ ৪৭২ টাকায় (১ ডলারে ৭৮ দশমিক ৭৭ টাকা ধরে) আমদানি করা হচ্ছে। দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। একই সময় ওই একই কোম্পানি টি ৩০ মডেলের ১০ পিস মোবাইল সেট প্রতিটি সাড়ে ৬ ডলার অর্থাৎ ৫১২ টাকায় আমদানি করেছে। সেট দেশের বাজারে বিক্রি করেছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়। এভাবে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে।

জানা গেছে, চীনের তৈরি মোবাইল হ্যান্ডসেট নিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা। আমদানি করা নতুন ব্র্যান্ডের মোবাইল সেটগুলোর বেশিরভাগই নিম্নমানের। অল্প দিনের মধ্যে এসব মোবাইল সেট অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এরপর গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য আমদানিকারকরা চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।