২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ বাংলাদেশেই

  • বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বললেন, কোন দেশ শঙ্কা প্রকাশ করেনি, নিরাপত্তার বিষয়ে সচেষ্ট বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ বাংলাদেশেই হচ্ছে। অচিরেই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলও বাংলাদেশে খেলতে আসবে।’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের এমন আভাসে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা দূর হয়ে যাচ্ছে। তবে এখনও সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যায়নি। আজ যে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির আসল সভা শুরু হচ্ছে। বোর্ড সভা শুরু হচ্ছে আজ। দুইদিনব্যাপী এ সভা চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। যেখানে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বোর্ডের সভাপতিরা ও তিনটি অ্যাসোসিয়েট সদস্যের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে আলোচনা হবে। চূড়ান্তও হবে। এ সভাতেই নিরাপত্তা শঙ্কা দূর করার মিশনে নামতে হবে বাংলাদেশকে। সভা শুরুর আগেই অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে হওয়া নিয়ে যে শঙ্কার কথা শোনা গেছে, তা দূর হয়ে গেছে।

দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে সভা। সেদিন আইসিসি উইমেন্স কমিটির সভা হয়েছে। এরপর শুক্রবার আইসিসি প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে সভা হয়েছে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনও। শনিবার ডেভলপমেন্ট কমিটির সভা শেষে রবিবারও প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে সভা হয়। আজ ফিন্যান্স ও কমার্শিয়াল কমিটির সভা শেষে বোর্ড সভা শুরু হবে। এ সভার আগেই অবশ্য বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন অন্য বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে আলোচনা করছেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যেন নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদে আঁচ আনতে না পারে, সেই চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ বাংলাদেশেই হবে। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনই। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ কী শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশেই হবে? শুরুতে বললেন, ‘ইনশাআল্লাহ।’ এরপর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ দ্রুত আয়োজনের চেষ্টা করা ও জিম্বাবুইয়ে যেন বিপিএলের আগেই বাংলাদেশে খেলতে আসে, সেই চেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে জানালেন। জানুয়ারিতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় অনুর্ধ-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে আরও বলতে গিয়ে দুবাই থেকে মোবাইলযোগে বিসিবি সভাপতি জানালেন, ‘এখনও সভাই হয়নি। সোমবার শুরু হবে আইসিসির সভা। চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। কোন কিছু নিয়েই ঠিকমত আলোচনা হয়নি এখনও। অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ হবে কি হবে না, এটা মাথাতেই আসে কেন? বিশ্বকাপ যে হবে তাতো আগে থেকেই জানি আমরা। তা নিশ্চিত হয়েছে আগেই। আমাদেরতো এখন পর্যন্ত কেউ জানায়নি বাংলাদেশে হবে না। কেউ শঙ্কার কথা জানাচ্ছে না। শঙ্কা প্রকাশ করছে না। তাহলে নিজে থেকে কিছু বলারই থাকে না। এটা (অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ) নিয়ে এখানে কোন আলোচনাই নেই। আইসিসি কিছুই জানাচ্ছে না। তাদের ভেতর থেকে কোন শঙ্কার কথা জানানো হচ্ছে না।’

নিরাপত্তা শঙ্কা দূর করার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশে খেলতে রাজি করানো এবং জিম্বাবুইয়ের সঙ্গে নবেম্বরেই একটি সিরিজ হওয়া জরুরী। এ নিয়ে পাপন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যে ক্ষতিটা হয়েছে, সেটা কিভাবে কাভার করা যায়। আলোচনা হচ্ছে, চলছে (অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে)। দিন-তারিখ যতক্ষণ নিশ্চিত না হচ্ছে, ততক্ষণ নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। আশা করছি, সোমবারের মধ্যে সব চূড়ান্ত করে ফেলব। জিম্বাবুইয়ে আসবে বলছে। কিন্তু যদি বলে ২০১৬’তে আসবে, তাহলে কী লাভ হল? আমাদের চূড়ান্তসূচী ঠিক করতে হবে। আশা করি, সেটাও হয়ে যাবে।’বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া আসেনি। এরপর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে কথা উঠছে। দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা ক্রিকেট দলও বাংলাদেশে খেলতে আসেনি। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া থেকে জানানো হয়েছে, বিসিবির সঙ্গে দ্রুত সিরিজ করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড জানিয়েছিলেন, ‘যদি অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে ভাবনা হয়, তাহলে বলতে হয়, তা অনেক দূরে আছে। আশা করছি দ্রুতই নিরাপত্তা ইস্যুটির নিষ্পত্তি হবে। এটা কোনভাবেই অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপের ওপর প্রভাব ফেলবে না।’

যেখানে খোদ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া থেকেই এমন বলা হচ্ছে, যারা সফরে আসেনি, তারাই চাচ্ছে অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ হোক; সেখানে ভারতীয় মিডিয়া কী লিখল, না লিখল তা নিয়ে বেশি ভাবারও প্রয়োজন নেই। এমনই মনে করছেন বিসিবি সভাপতি। জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ থেকেই এটা (অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ) নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা হচ্ছে। শঙ্কার কথা জানা যাচ্ছে। আমরা কেন এই জিনিসটা চাচ্ছি বা উত্থাপন করছি। আইসিসি কিংবা কেউই বলছে না যে চিন্তিত, হবে না বিশ্বকাপ; আমরাই এটা নিয়ে আলোচনা করছি।’ তার মানে বোঝাই যাচ্ছে, অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ হচ্ছে এবং আইসিসি সভায় এ বিষয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে নিরাপত্তা শঙ্কাও দূর হবে।