১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইউরোর মূলপর্বে অপরাজেয় ইতালি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইউরোপ সেরার যজ্ঞ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এক ম্যাচ হাতে রেখেই এ যোগ্যতা অর্জন করেছে। শনিবার রাতে ইউরো বাছাইপর্বের ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে ইতালি ৩-১ গোলে পরাজিত করে স্বাগতিক আজারবাইজানকে।

আজ্জুরিদের হয়ে গোলগুলো করেন সিটাডিন মার্টিন্স, স্টিফেন এল শারাউই, মাট্টেও ডারমেইন। আজারবাইজানের একমাত্র গোলদাতা দিমিট্টি নাজারোভ। বড় জয়ে ফ্রান্সের টিকেট নিশ্চিত করেছে বেলজিয়ামও। ‘বি’ গ্রুপের অ্যাওয়ে ম্যাচে বেলজিয়াম ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় স্বাগতিক অ্যান্ডোরাকে। এই গ্রুপ থেকে হেরেও চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছে ওয়েলস। বসনিয়ার কাছে ওয়েলস হেরেছে ২-০ গোলে। বাছাইপর্বে এই প্রথম হারলেও ফ্রান্সের টিকেট নিশ্চিত হয়েছে গ্যারেথ বেলের দেশের। এর ফলে ৫৭ বছর পর বড় কোন টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ওয়েলস।

এদিকে স্বাগতিক কাজাখস্তানকে ২-১ গোলে হারিয়ে চূড়ান্ত যজ্ঞে খেলার নিভু নিভু আশা বাঁচিয়ে রেখেছে হল্যান্ড। টোটাল ফুটবলের জনকদের এখন গ্রুপের শেষ ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। পরশুর অন্যান্য ম্যাচে তুরস্ক ২-০ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে, সাইপ্রাস ২-১ গোলে ইসরাইলকে, নরওয়ে ২-০ গোলে মাল্টাকে ও ক্রোয়েশিয়া ৩-০ গোলে পরাজিত করে বুলগেরিয়াকে। আইসল্যান্ড ও লাটভিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি অমীমাংসিত থাকে ২-২ গোলে।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে তোফিক বাহরামোভ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই স্বাগতিকদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে অতিথি ইতালি। ফল পেতেও বেশি বিলম্ব হয়নি। ১১ মিনিটে মার্কো ভেরাট্টির থ্রু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি বক্সের মধ্যে থেকে গোলটি করেন স্ট্রাইকার মার্টিন্স। ৩১ মিনিটে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচ জমজমাট করার ইঙ্গিত দেয় আজারবাইজান। ডি বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান দিমিট্টি নাজারোভ। গোল খেয়ে আরও আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে ইতালি। দ্রুত ফলও পেয়ে যায় তারা। ৪৩ মিনিটে এল শারাউইয়ের নৈপুণ্যে ফের এগিয়ে যায় ইউরোর গত আসরের রানার্সআপরা। বিরতির পর ৬৫ মিনিটে ডারমেইন গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইতালি। ডি বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার। ৮৮ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আজারবাইজান। ইতালির সেবাস্টিয়ান জিওভিন্সোকে ফাউল করায় সরাসরি লালকার্ড পান স্বাগতিক ডিফেন্ডার বাদাভি গুসেইনোভ।

৫৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে উঠল ওয়েলস। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে বসনিয়ার কাছে হারলেও গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইসরায়েলকে সাইপ্রাস ২-১ গোলে হারিয়ে দেয়ায় ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপের পর আবার বড় কোনো টুর্নামেন্টের মূল পর্বে যাওয়াটা নিশ্চিত হয়ে যায় ওয়েলসের। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ওয়েলসের হেরে যাওয়ায় গ্রুপের শীর্ষে উঠে আসে বেলজিয়াম। অ্যান্ডেরাকে বিধ্বস্ত করে এ কৃতিত্ব দেখায় বেলজিকরা। যে কারণে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত হয় গত বিশ্বকাপে চমক দেখানো বেলজিয়ামের। ১৯৫৮ সালে ওয়েলস প্রথম ও শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলেছিল। এরপর বিশ্বকাপ তো বটেই, ১৯৬০ সাল থেকে চালু হওয়া ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও কখনো জায়গা পায়নি। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এরপর দেশটির সেরা তারকা গ্যারেথ বেল বলেন, এটা আমার জীবনের সেরা পরাজয়! তিনি আরও বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন একটা বড় টুর্নামেন্টে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। এখন এটা এখানেই শেষ হবে না। ফ্রান্সেও আমাদের অনেক কিছু করার আছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতা বেল আরও বলেন, এটা আমার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জনগুলোর একটি। আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

গ্রুপের সেরা দুই স্থানে থেকে মূলপর্বে ওঠার আশা আগেই শেষ হয়ে গেছে। সবগুলো গ্রুপের তৃতীয় দলগুলোর মধ্যে সেরা হয়ে কিংবা প্লেঅফ খেলে লক্ষ্য পূরণের জন্যেও বাছাইপর্বের শেষ দুই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই হল্যান্ডের। কঠিন এই লক্ষ্য নিয়েই ডাচরা স্বাগতিক কাজাখদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে। ৩৩ মিনিটে কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায় ব্রাজিল বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া দলটি। ডি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোলটি করেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের স্ট্রাইকার জর্জিনিও ভিনালডাম। বিরতির পর ৫০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ডাচরা। ক্লাস-ইয়ান হুন্টেলারের বাড়ানো বল ধরে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ওয়েলসি স্নেইডার। ম্যাচের শেষ মিনিটে কাজাখস্তানের মিডফিল্ডার ইসলামবেক কুয়াট ব্যবধান কমিয়ে নাটকীয়তার আভাস দেন। তবে শেষ পর্যন্ত ডাচদের জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি তারা।