১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

না’গঞ্জে বাস ভাড়া নিয়ে প্রতিদিনই হাতাহাতি

  • যৌক্তিক ভাড়া নেয়ার দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ১১ অক্টোবর ॥ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে সরকারী নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে প্রতিনিয়তই বাস-মিনিবাসসহ গণপরিবহনের শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের বচসা হাতাহাতি নানা ধরনের ঘটনা ঘটছে। যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের নেতৃবৃন্দ দূরত্ব অনুযায়ী যৌক্তিক বাস ভাড়া নির্ধারণ করার দাবি জানান।

জানা গেছে, ১ অক্টোবর থেকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে চলাচলরত প্রতি রুটেই গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সরকারী নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে গণপরিবহনের মালিক ও শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের লিংক রোড দিয়ে চলাচলকারী উৎসব, বন্ধন পরিবহন এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো সড়কের (পাগলা) আনন্দ পরিবহনের ভাড়া ৩ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে যেখানে ভাড়া ছিল উৎসব ও বন্ধনের ৩৫ টাকা সেখানে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩৮ টাকা আর আনন্দ পরিবহনের ৩০ টাকার ভাড়া ৩৩ টাকা করা হয়েছে। অবশ্য সড়ক পরিবহনমন্ত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিলে ও স্থানীয় এমপির হস্তপেক্ষে উৎসব ও বন্ধন পরিবহনে ২ টাকা করে বাস ভাড়া কমানো হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে শিমরাইল (চিটাগাং রোড) চলাচলকারী শীতলক্ষ্যা, দুরন্ত ও বন্ধু পরিবহনে ৩ টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। শীতলক্ষ্যা ও দুরন্ত পরিবহনের ভাড়া ১৫ টাকার স্থলে ১৮ টাকা ও বন্ধু পরিবহনের ভাড়া ১৭ টাকার স্থলে ২০ টাকা করা হয়েছে। শীতলক্ষ্যা পরিবহনের যাত্রী ফারুক জানায়, এ রুটে শীতলক্ষ্যা পরিবহনে এক লাফে ৩ টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। অথচ সরকার গ্যাস বৃদ্ধির পরে প্রতি কিলোমিটারে ১০ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সে হিসেবে অনুযায়ী ১ টাকা বৃদ্ধির কথা থাকলেও তারা অযৌক্তিকভাবে ৩ টাকা বাড়িয়েছে। শীতলক্ষ্যা পরিবহনের শ্রমিক কালাম জানায়, মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছে। আমাদের কথার কিছুই নেই। আমরা ১ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। অযৌক্তিক বাস ভাড়া কমানোর দাবিতে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন ও সমাবেশ করে আসছে।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটের দূরত্ব আমরা মেপে দেখেছি ১৭ কিলোমিটার। কিন্তু মালিক পক্ষ দেখাচ্ছে ২০ কিলোমিটার। এই দূরত্ব ধরেই বাস ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার হওয়ার পরে এই রুটের দূরত্ব কমে সাড়ে ১৫ কিলোমিটার হলেও ২০ কিলোমিটারের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

অর্থাৎ জনপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়া ১ টাকা ৬০ পয়সা এবং ফ্লাইওভারের ৫ টাকা টোল মিলিয়ে সাড়ে ১৫ কিলোমিটারের ভাড়া হয় ২৯ টাকা ৮০ পয়সা। অথচ আদায় করা হচ্ছে ৩৬ টাকা। নারায়ণগঞ্জ-পাগলা-ঢাকা রুটের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার ধরে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৩২ টাকা, এখানে ৩ কিলোমিটার ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। ফলে এই রুটে প্রকৃত ভাড়া হয় ২৮ টাকা। নারায়ণগঞ্জ-শিমরাইল রুটে সাড়ে ১২ কিলোমিটার দেখিয়ে ২০ টাকা হারে ভাড়া আদায় করলেও, এখানে প্রকৃত দূরত্ব ১১ কিলোমিটার, যার ভাড়া হয় ১৭ টাকা। সব পরিবহন থেকে এভাবে প্রতিদিন ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। বছর শেষে ৩৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চিহ্নিত চক্রটি। তারা সকল রুটে দূরত্ব অনুযায়ী যৌক্তিক বাস ভাড়া নির্ধারণ করার দাবি জানান।