২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমুদ্র সৈকতের শুদ্ধতা

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হচ্ছে কক্সবাজার। একপাশে পাহাড় এবং অন্যপাশে সমুদ্র মিলে কক্সবাজারের সৌন্দর্য বেড়েছে কয়েক গুণ। সৈকতের পাশ ঘেঁষেই রয়েছে বিস্তৃত ঝাউবন। একের পর এক ঢেউ যখন সৈকতে আছড়ে পড়ে, তখন সমুদ্র যেন জানান দেয় তার অস্তিত্বের কথা। সবকিছু মিলিয়েই কক্সবাজার পৃথিবীর মানচিত্রে নিজের স্থান দখল করে আছে। আর এই কক্সবাজারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অনেক জীবিকা। প্রায় সারা বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন ঘটে কক্সবাজারে। বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা ও নিহায়ত কম নয়। যা আমাদের অর্থনীতিতে খুব ভাল একটি প্রভাব ফেলছে।

সবকিছুই ভেস্তে যাবে, যদি না আমরা আমাদের কক্সবাজারকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখি। অনেক সময় নিজেদের ইচ্ছাকৃত ভুলে কিংবা মনের অজান্তেই আমরা সমুদ্রে বেড়াতে গিয়ে সৈকত নোংরা করে ফেলি। যেমন- যত্রতত্র চিপসের খোসা, প্লাস্টিকের গ্লাস, পানির বোতল, জুসের প্যাকেট, সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ প্রভৃতি ফেলে আমরা সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করছি। যা কোনভাবেই আমাদের কাম্য নয়।

তবে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বেশ পরিপাটি এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। যা কিনা দেশের মুঠোফোন সেবাদতা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলালিংক’ এবং ‘কেওক্রাডং’ এর এক অনন্য সাফল্য। প্রতিবছর ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা দিবস’। বাংলালিংকের সহযোগিতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে এই দিন বাংলাদেশও যথাযথ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে থাকে।

পেছনের কথা

ইতিহাস বলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে ১৯৮৫ সালে সর্বপ্রথম সমুদ্র সৈকত প্রথাটি চালু হয়। এবং ১৯৯৩ সালে সর্বাধিক মায়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য নিজেদের নাম ‘গিনিজ বুকে’ ওঠায়। সেবার প্রায় ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছিলেন।

বাংলাদেশে দিনটি উদযাপন

বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলালিংকের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা দিবস’ পালিত হচ্ছে। এবং এই আয়োজনের সহযোগী সংগঠক হিসেবে কাজ করে কেওক্রাডং।

১৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হোটেল শৈবাল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকে। এদের মধ্যে কক্সবাজারের স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল নয়টায় হোটেল শৈবাল থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। যা লাবণী পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। র?্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের ভিন্ন ভিন্ন দলে ভাগ করে দেয়া হয়। এরপর তারা সমুদ্রতীরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে থাকেন। দিনব্যাপী চলতে থাকে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

লেখা ও ছবি : নাসিফ শুভ

নির্বাচিত সংবাদ