১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পোষা প্রাণীর যত্নাদি ও দরদাম

পোষা প্রাণী বলতে আমরা বুঝি, যে সকল প্রাণীকে আমরা পোষ মানিয়েছি এবং পালন করি তাকেই। মানুষভেদে শখ আলাদা আলাদা। কেউ বা পোষে পশু আবার কেউ পোষে পাখি। আমরা যাই পুষি না কেন প্রত্যেকেরই যতœ নেয়া উচিত। মানসিক প্রশান্তির একটা মাধ্যমও হতে পারে পাখি বা পশু পালন। এক কথায় প্রাণী মানসিক প্রশান্তি দিতে সক্ষম।

প্রাণীকে পুষলেই হবে না। এর প্রতি যতœবান হতে হবে। পরিচর্যা করতে হবে। যে সকল বিষয় খুবই গুরুত্ব দিতে হবে সেগুলো হলো- বাসস্থান নির্ধারণ, মানসম্মত খাবার দেয়া, নিয়মিত বাসস্থান পরিষ্কার করা, মাঝে মাঝে ব্যায়াম করানো, নিয়মিত ভ্যাকসিন দেয়া, মাঝে মাঝে গোসল করানো, পোষা প্রাণীর সঙ্গে নিজের যথেষ্ট সময় দেয়া ইত্যাদি।

পোষা প্রাণীকে যে সমস্ত খাবার দিতে হবে

আপনি যে প্রাণীই পোষেন না কেন, তার খাবার পাত্র ও পানির পাত্র আলাদা নির্ধারণ করুন। বাসি খাবার দেবেন না। খাবার শেষে পাত্রটি পরিষ্কার করুন। তা না হলে জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে। আপনার পোষা প্রাণীটি অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। পোষা প্রাণীকে অবশ্যই পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াতে হবে।

সমস্ত বিদেশী পাখির খাবার বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, আফ্রিকা থেকে আনা হয়। কারণ একেক দেশের পাখি একেক ধরনের খাবার পছন্দ করে। ছোট প্রজাতির ও কবুতর জাতীয় পাখি দেশী খাবার খায়। সব ধরনের কুকুর মাংস খেতে পছন্দ করে, বিড়াল পছন্দ করে দুধ আর খরগোশ পছন্দ করে বাঁধা কপি। পোষা প্রাণীগুলো যে সমস্ত খাবার পছন্দ করে সে জাতীয় খাবার দেয়াই উত্তম।

পোষা প্রাণীকে সপ্তাহে অন্তত দুই বার গোসল করানো উচিত। নখওয়ালা প্রাণী যেমন- কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, খরগোশ ইত্যাদি থাকলে মাসে অন্তত একবার নখ কেটে দিন।

নখযুক্ত প্রাণী থাকলে নিয়মিত ভ্যাকসিন দিন।

নিয়মিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পোষা প্রাণীকে যথেষ্ট পরিমাণে সময় দিন, তার সঙ্গে খেলাধুলা করুন।

আপনার পছন্দের পোষা প্রাণী কোথায় পাবেন

ঢাকা নগরীতে পোষা পাখি কিংবা পশুর কিছু নির্দিষ্ট মার্কেট রয়েছে। যেখান থেকে আপনি আপনার পছন্দের প্রাণীটি কিনতে পারবেন। এ ধরনের মার্কেটগুলোতে আপনি দেশী প্রাণীর পাশাপাশি বিদেশী প্রজাতির প্রাণীও পাবেন। বিশেষ করে নানান প্রজাতির পাখির কোন বিকল্প নেই। আপনারা যারা পাখিপ্রেমী (অহরসধষ খড়াবৎ) আছেন তাদের জন্য কিছু ধারণা দিচ্ছি :

একটু লক্ষ্য করুন

পশু পাখির মার্কেট বলতে আমরা সাধারণত কাঁটাবন মার্কেটকেই মনে করি। কাঁটাবন ছাড়াও ফকিরাপুল, আগারগাঁওসহ কিছু কিছু মার্কেটেও পাওয়া যায়।

কোন্্ পশু/পাখির কেমন দাম

প্রতি জোড়া দেশী ও বিদেশী পশু/পাখির মূল্য তালিকা : মেকাও- ২ লাখ থেকে ২.৫ লাখ টাকা, গ্রেপেরোন- ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার, ইলেকটাস- ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ, কাকাতুয়া- ১ লাখ থেকে ২.২০ লাখ, লরি- ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ, রোজেলা- ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার, র‌্যাম- ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার, তার্কুজিন- ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার, কাকারিতি- ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার, গালা- ১.২০ লাখ থেকে ২ লাখ, ককাটেল- ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার, লাভ বার্ড- ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার, বাজরিকা- ৫শ’ থেকে ৮০ হাজার, প্রিন্স- ৫শ’ থেকে ১২ হাজার, জাবা- ২.৫ হাজার থেকে ৬ হাজার, ডায়মন্ড ডোব- ১২শ’ থেকে ৮ হাজার, অস্ট্রেলিয়ান ডোব- ১ হাজার থেকে ২ হাজার, সান কুনুর- ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার, কবুতর প্রজাতির মধ্যে : কিং- ৫ হাজার ৮ হাজার, লখ্যা- ১ হাজার থেকে ৩ হাজার, জকাপিন- ৮ হাজার ১২ হাজার, হাউস পিজিয়ন- ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার, ইংলিশ ক্যামেরিয়ান কোডার- ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার, ম্যাগপাই-৩ হাজার থেকে ৮ হাজার, গোল্লা- ১ হাজার থেকে ২ হাজার, র‌্যান- ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার, টাইগার ম্যালটেস- ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার, ফিলব্যাগ- ১২ হাজার থেকে ১৮ হাজার, মুক্ষি- ১৫শ’ থেকে ১০ হাজার। সকল প্রজাতির খরগোশ- ৪শ’ থেকে ১৫শ’। বিড়াল প্রজাতির মধ্যে : পার্সিয়ান ক্যাট- ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার, ক্রসবিট- ১ হাজার থেকে ৫ হাজার, কুকুর প্রজাতির মধ্যে : জার্মান সেফার- ৩০ হাজার থেকে ৮০ হাজার, স্পিস- ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার, পাক- ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার, সি-গোগি ইতালিয়ান- ১৫ লাখ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

পোষা পশু/পাখি অপছন্দ করে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকুন। দেখবেন পোষা প্রাণী ও আপনার মেজাজ ফুরফুরে থাকবে। সকল কর্মকা-ে আপনার মন থাকবে স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রশান্তি।

মাহবুব শরীফ

মডেল : রাসেল ও প্রিয়াঙ্কা পান্ডে

কৃতজ্ঞতা : ড. আবদুল ওয়াদুদ (পাখি ও বাঘ বিশেষজ্ঞ)