২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌদিতে বাড়িভাড়া নিয়ে দুর্নীতি ॥ মুখ খুললেন ধর্মসচিব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার হজযাত্রীর জন্য বাড়িভাড়া নিয়ে দুর্র্নীতি ও অনিয়মের দায় মন্ত্রীর ওপর চাপিয়ে ধর্মসচিব চৌধুরী মোঃ বাবুল হাসান জানান, মন্ত্রী নিজেই সবকিছু করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যখন অনেক কিছু করে ফেলেন, তখন কিছু বলার থাকে না। সচিবালয়ে নিজ দফতরে রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব এ কথা জানান।

অতিরিক্ত কোটায় পাঠানো পাঁচ হাজার হজযাত্রীর বাড়িভাড়া বেশি দেখিয়ে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এ সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হাবের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ অনিয়মের অভিযোগ করছেন হাবের বর্তমান কমিটির নেতাসহ ওই কমিটির অন্য সদস্যরা। জামাল উদ্দিন বর্তমানে সৌদিতে অবস্থান করে এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ নিয়ে মিডিয়ায় গত কয়েক দিনে ব্যাপক লেখালেখির পরিপ্রেক্ষিতে সচিব এ সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন।

এ সময় বাড়িভাড়ার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মসচিব বলেন, ‘বাড়িভাড়া যখন হয় তখন আমি ছিলাম না। মন্ত্রী মহোদয় (সৌদি আরবে) চলে গেলেন। কিন্তু আমি যেহেতু সরকারের সচিব, পার্মানেন্ট পোস্ট হোল্ড করি, সে জন্য দেখলাম আমার দায়িত্বটা বেশি। এ জন্য আমি যেতে পারিনি। আমি তিনবার যাওয়ার সময় পরিবর্তন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাড়িভাড়া হয়ে যাওয়ার পর আমাদের ভিসা হয়েছে। বাড়িভাড়ার জন্য নির্বাচিত ও অনির্বাচিত হাব (হজ এজেন্সিস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) নেতাদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি কমিটি মন্ত্রী করে দিয়েছেন। তারা বাড়িভাড়া করেছেন। তখন বেশি-কম হতেই পারে। আমি যতটুকু জানি, বাড়িভাড়ার বিষয়টি নিয়ে বেশি আলাপ করেছিলেন জামাল সাহেব (হাবের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন)। সময় তো ছিল না, কিছু অনিয়ম হতেই পারে। সে ব্যাপারে আমার কোন ইয়া নেই।’

হাবের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘দেখেন কী হয়।’

মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব কিন্তু আপনার উপরেও পড়ে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘তা তো আসেই। তবে ইনচার্জ মিনিস্টার অনেক কিছু করে ফেলেন, তখন কিছু বলার থাকে না। যদি গবর্নমেন্ট করে করবে (শাস্তিমূলক ব্যবস্থা)।

মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল হাসান বলেন, ‘সৌদি আরবের নিয়মে হজের সময় কোন মৃতদেহ তারা অন্য দেশে পাঠায় না। ইরান ছাড়া অন্য কোন দেশ এ অনুমতি পেয়েছে বলে আমার জানা নেই। বাংলাদেশও এ পর্যন্ত অনুমতি পায়নি। মৃতের পরিবার ফেরত আনার আবেদন করেছে বলেও আমার জানা নেই।’

ধর্মসচিব বলেন, ‘হজের সময় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মৃতদেহ ফেরত আনার রেওয়াজ নেই। সেক্ষেত্রে সরকার ফেরত আনতে চাচ্ছে কিনা, তা জানতে হবে- সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাতে পারবে।’

ইরান তো পেরেছে, আমরা কেন পারছি না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইরান চেয়েছে তাই তারা পেরেছে। আমাদের সরকার চায় কিনা, তা জানতে হবে- সে প্রশ্ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে করুন।’

মিনার দুর্ঘটনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, এ জন্য হাজীরা দেশে ফিরতে দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানান সচিব।

নিহতদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন কিনা- জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘হজ নিয়ে আমরা এত ব্যস্ত ছিলাম! এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিলে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেয়ার কথা। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ ফান্ডে যে অর্থ থাকে, তা দিয়ে যা কিছু করা দরকার তা করেছি।’