২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মুখোশ উন্মোচন জরুরী

  • এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার

ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বাংলাদেশের জন্ম সাথী। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় খোন্দকার মোশতাক ও মাহবুব আলম চাষীদের ষড়যন্ত্রকে পিছে ফেলে বাংলাদেশ মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে স্বাধীন হয়। বঙ্গবন্ধু সরকারকে চাপে ও বেকায়দায় ফেলার জন্য দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের ফলে সংঘটিত হয় চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ। তখন ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশ যেন স্বাধীন সার্বভৌম নীতি ত্যাগ করে এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ক্রীড়নক হিসেবে থাকে। সাম্রাজ্যবাদীদের রাজনৈতিক ও কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার সকল প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু প্রত্যাখ্যান করেন। ফল যা হওয়ার তা-ই হলো। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বেনিফিশিয়ারি বা সুবিধাভোগী হিসেবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলেন পর পর দু’জন সামরিক শাসক। দুই সামরিক শাসক একনাগাড়ে ক্ষমতায় ছিলেন ১৫ বছর। এর অব্যবহিত পর আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকেন প্রথম সামরিক শাসকের সৃষ্ট দল। সেই হিসেবে বলা যায়, এক নাগাড়ে প্রায় ২১ বছর দেশে সামরিক সংস্কৃতির শাসন চলে।

বহুমুখী রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে আমরা আজ চেষ্টা করেও বের হতে পারছি না কেন? দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নেও এতটুকু ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে পারছি না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় ২১ বছরের রাজনীতিতে সামরিক লেগেসির কথা ও পরিণতি বিবেচনায় না রাখলে যে কোন মূল্যায়ন ত্রুটিপূর্ণ হবে এবং কোর্স অব এ্যাকশন সঠিক হবে না। প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় দর্শন সংবলিত বাহাত্তরের সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবাহী সকল শব্দ, বাক্য, অনুচ্ছেদ ও উপঅনুচ্ছেদ বাতিল করে দিলেন। তার পরিবর্তে ধর্মাশ্রয়ী ও সামরিক সংস্কৃতির রাজনীতি প্রবর্তন করলেন এবং রাষ্ট্রীয় দর্শন হিসেবে সেগুলোকে সংবিধানে সন্নিবেশিত করলেন। যার সুযোগে একাত্তরের পরাজিত শক্তি, যুদ্ধাপরাধী, ধর্মান্ধ গোষ্ঠী এবং যারা সেøাগান দেয়- আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান, এরা সবাই পুনর্বাসিত হয়। এরা সবাই বর্তমানে বিএনপিরও জোটসঙ্গী। দ্বিতীয় সামরিক শাসক এরশাদ সামরিক ও ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতির সংস্কৃতিকে আরও পাকাপোক্তা করলেন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম সন্নিবেশিত করে। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে দু’জন জামায়াতের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে বিএনপি মন্ত্রী বানিয়ে দুই সামরিক শাসকের যাত্রাকে পূর্ণতায় ভরে দিলেন। এ পর্যন্ত সামান্য যতটুকু বর্ণনা করলাম, তাতে আমরা কি বুঝতে পারি? মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ষড়যন্ত্র, চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের ষড়যন্ত্র, ১৫ আগস্টের হত্যাকা- এবং দুই সামরিক শাসকের কর্মকা- কি এই বার্তা দেয় না যে, এরা সবাই ধর্মনিরপেক্ষ এবং বাঙালী সংস্কৃতির পরিচয় বহনকারী মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এরা ধর্মাশ্রয়ী, সাম্প্রদায়িক, পাকিস্তানপন্থী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পক্ষে। এত বছর পর ২০১৫ সালে এসে বাংলাদেশের চরম বিভাজনের রাজনীতির একটি পক্ষ কি ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দর্শনের রাজনীতি সংস্কৃতি অনুসরণ করছে না? তারা কি ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালী সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী নয়? সত্তর দশকের সেই পুরনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি কি এদের মদদ দিচ্ছে না? ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে তার লক্ষণ কি আমরা স্পষ্টত দেখিনি? রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন একটা টার্নিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে। এই টার্ন সফলভাবে সম্পন্ন হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতি কেমন হতে পারে, তার একটা সম্ভাব্য চিত্র কিন্তু এখন প্রতিনিয়তই স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। যেমন- এক. পঁচাত্তরের পরে দুই সামরিক শাসক কর্তৃক প্রবর্তিত সামরিক ও ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি কোণঠাসা হয়ে প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাবে, যার কিছু আলমত এখন দেখা যাচ্ছে। দুই. সব মশহুর যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দ- কার্যকর হবে। জামায়াত, তালেবানপন্থীসহ অন্যান্য উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর রাজনীতি বন্ধ হবে। জঙ্গী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আর কোনদিন ২০০১-২০০৬ মেয়াদের মতো তা-ব বাংলাদেশে ঘটাতে পারবে না। বাংলাদেশকে ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্ন কোনদিন সফল হবে না। তিন. এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তা মাযাহার খান বাংলাদেশে স্থানীয় জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে তৎপরতায় জড়িত হওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়ে এবং পাকিস্তানে ফেরত যেতে বাধ্য হয়। দ্বিজাতিতত্ত্ব ও সাতচল্লিশের চেতনায় সমৃদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকার সুযোগে আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণের পাল্লা নিজেদের দিকে রাখার জন্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের পাকিস্তান যেভাবে সহযোগিতা দিয়েছে, তা আর আগামীতে সম্ভব হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাবার জন্য পাকিস্তানের সব চক্রান্ত ব্যর্থ হবে। বাংলাদেশে পাকিস্তানের অন্যতম স্তম্ভ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির দ- কার্যকর হওয়া বোধ হয় আর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। চার. বাংলাদেশের রাজনৈতিক টার্নিং সফলভাবে সম্পন্ন হলে চরম বিভাজনের রাজনীতি আর থাকবে না। সরকার, বিরোধী দল ও অন্য সবাইকে হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। এখন ডিভাইড এ্যান্ড রুল নীতিতে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি যেভাবে সুবিধা আদায় করে নিতে চায়, তখন আর সেটি সম্ভব হবে না। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বিরাজমান এই পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে এখন দেখা যাক, সম্প্রতি বিদেশী দুই নাগরিকের হত্যাকা- দুটি কি স্রেফ ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব-শত্রুতার ফল, নাকি কোন দেশী-বিদেশী জঙ্গী সংগঠনের কাজ, নাকি ওইসব দেশী-বিদেশী গোষ্ঠীর কাজ, যারা আগামী দিনে নিজেদের রাজনৈতিক, সামরিক ও কর্পোরেট স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আছেন।

প্রথমে ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকা-টি বিশ্লেষণ করা যাক। হত্যাকারীরা যে ছিনতাইকারী নয়, সেটা নিশ্চিত। তাভেলা বাংলাদেশে এসেছে মাত্র চার-পাঁচ মাস আগে। সে একটি বিদেশী সংস্থায় চাকরি করত। গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকত। সুতরাং ব্যক্তিগত কোন দ্বন্দ্ব ও শত্রুতা থাকার দূরবর্তী কোন কারণও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আইএস তাভেলাকে হত্যা করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিক্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ প্রথম দিকে যে তথ্য দিয়েছিল, তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভিত্তি এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ওই একই ওয়েবসাইটে আইএসের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করার তথ্য নিয়ে যে মানচিত্র তারা প্রকাশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে কোন জঙ্গী গোষ্ঠীর আনুগত্য স্বীকারের প্রমাণ নেই। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তৎপর যেসব জঙ্গী সংগঠনকে আইএস বা আল কায়েদা স্বীকৃতি দিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানেও বাংলাদেশের স্থানীয় কোন জঙ্গী সংগঠনের নাম নেই। হোশি কুনিও এবং সিজার তাভেল্লা হত্যাকা-ের যে কৌশল দেখেছি, তার সঙ্গে আইএস-আল কায়েদার টার্গেট নির্দিষ্টকরণ ও কৌশলের কোন মিল নেই। তারা নিজেদের অপারেশনের দায় স্বীকার করে পূর্বে যেভাবে ঘোষণা দিয়েছে, সেটাও এক্ষেত্রে তারা করেনি। উপরন্তু আইএস-আল কায়েদায় টার্গেট তালিকায় ইতালি-জাপানের নাম নেই। তাছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে দু’জন বিদেশী ব্যক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে হত্যা করে আইএস আল কায়েদার কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যেখানে এখন তাদের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা বিশ্বের দিকে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, এই দুই হত্যাকা-ে বাংলাদেশের নাগরিকরাই যে জড়িত, তা প্রায় নিশ্চিত।

সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদের ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যেসব ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যার পূর্বে ওই সব স্থানীয় জঙ্গী সংগঠনের পক্ষ থেকে ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী (সা) এর অবমাননার অভিযোগ উঠেছে এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে হত্যার তালিকায় তাদের নাম প্রকাশ করেছে। এই দুই বিদেশীর বেলায় এর কিছুই দেখা যায়নি। ব্লগারসহ প্রতিটি ব্যক্তিগত হত্যাকা-, যেগুলো স্থানীয় জঙ্গী সংগঠন ঘটিয়েছে, সেগুলোর প্রতিটির দায়িত্ব স্বীকার করে ফেসবুক, ওয়েবসাইট, ইউটিউবে প্রচার চালোনো হয়েছে ওই সব সংগঠনের পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে কিন্তু এটাও আমরা এ পর্যন্ত দেখিনি। সুতরাং বিশ্লেষণের এ পর্যায়ে বলা যায়Ñ আলোচিত দুই বিদেশী হত্যাকা- ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব-শত্রুতার ফল নয়। বাংলাদেশে আইএস-আল কায়েদার কোন উপস্থিতি নেই এবং তারা বা স্থানীয় কোন জঙ্গী সংগঠন এই হত্যাকা- ঘটাতে পারে, তার কোন যৌক্তিক কারণ এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া তথ্য, যা ওপরে এক থেকে চার ক্রমিকে উল্লেখ করেছি এবং সেখান থেকে পাওয়া উল্লিখিত উপসংহার বিবেচনায় নিলে যে সন্দেহটি প্রবলভাবে প্রতীয়মান হয় তা হলো, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দ- কার্যকর যাতে না হয়, তার জন্য রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এবং বিদেশী ও উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে সরকারকে অতিরিক্ত চাপে রাখার জন্য দেশী-বিদেশী কোন চক্র এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ সর্বতোভাবে যে টার্নিং পয়েন্টে আছে, সেই টার্ন সফলভাবে সম্পন্ন হলে সামরিক ও ধর্মাশ্রয়ী সংস্কৃতিনির্ভর রাজনীতি কোণঠাসা হয়ে প্রান্তিক অবস্থানে চলে গেলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারা সবকিছুকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তৃতীয়ত, যে রাষ্ট্র এখনও একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চায়, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায় এবং নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থে দ্বি-জাতিতত্ত্ব ও সাতচল্লিশের চেতনাধারী শক্তিকে বাংলাদেশে টিকিয়ে রাখতে চায়, তারা এই কাজ করেছে কিনা, সেটা সন্দেহের বাইরে রাখা যাচ্ছে না। চতুর্থত, যে বিশ্বশক্তি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গী আল কায়েদা আছে এই মর্মে অসত্য অভিযোগ তুলে তাদের ভূ-রাজনৈতিক ও কর্পোরেট স্বার্থ উদ্ধারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপ করছে, তাদের কোন গোপন সুচতুর হাত এর পেছনে থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের নতুন সামরিক নীতির আওতায় তারা বাংলাদেশকে ঘিরে যে কৌশল অবলম্বন করতে চায়, তার সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের কতখানি সামঞ্জস্য আছে, তা সব সময় ঘোলাটে মনে হয়েছে। বাংলাদেশে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে স্থানীয় জঙ্গীদের ভয়ানক উত্থান ঘটেছিল। অসাম্প্রদায়িক, মক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং বাঙালী সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী মানুষের ওপর তারা নির্বিচারে গ্রেনেডও বোমা হামলা চালিয়েছে। কিন্তু ২০০৮ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত ওই সব জঙ্গী সংগঠন তৎপরতা চালানোর বহু চেষ্টা করে একবারও সফল হয়নি। কিন্তু এই বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা যাবে না। দায়িত্বপ্রাপ্তরা কোন ঘটনার দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না। তাই দুই বিদেশী নাগরিকের হত্যাকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্ন উঠেছে, যে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তার মুখোশ উন্মোচন করা জরুরী। শুধুমাত্র দু’জন বিদেশী নাগরিকের হত্যা রহস্য উদ্্্ঘাটনের বিষয় নয়, এখানে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করতে পারলে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদেরকে প্রতিহত করবে। আর কোন কারণে যদি নেপথ্য কারিগরদের মুখোশ উন্মোচন করা না যায়, তদন্ত যদি ধামাচাপা পড়ে যায়, তাহলে সেটি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য আগামীতে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করবে।

লেখক : ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক