২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সোনা চোরাচালান

দেশের প্রধান বিমানবন্দর দিয়ে বলতে গেলে কয়েকদিন পরপরই অবৈধভাবে আসা সোনা আটক করা হচ্ছে এবং তা তোলা বা ভরি নয়, এখন কেজি থেকে মণও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ রেকর্ড পরিমাণ ৪৫ কেজি সোনা আটক করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তারা। এ সোনা বহন করছিলেন ৩ মালয়েশীয় নাগরিক। মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসে করে কুয়লালামপুর থেকে আসে ওই তিন মালয়েশীয়। তাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে এর আগেও তারা অন্তত ১০ বার এ দেশে এসেছে। চোরাচালানকৃত এ সোনার বর্তমান বাজারদর ২২ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে। এ সোনা ঢাকারই এক ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না তারা এর আগেও চোরাচালানের মতো অবৈধ, বেআইনী ও গর্হিত কাজ করেছে।

বার বার শাহজালাল ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিদেশী নাগরিক ও এ দেশের বিদেশফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা আটকের মধ্য দিয়ে কি প্রমাণ হয় না সোনা চোরাচালানকারী মাফিয়া গোষ্ঠী বাংলাদেশকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে? ভাবতে অবাক লাগে এরা কতটা দুঃসাহসী, দুর্বিনীত ও সংঘবদ্ধ হলে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে ১২৪ কেজির মতো বড় চালান আনতে পারে! তা যে অব্যাহত রয়েছে তার প্রমাণ ঘটল ৪৫ কেজি আটকের মধ্য দিয়ে। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পরিসংখ্যানও ভয়াবহ। ওই তারিখ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে ৬২৪ কেজি সোনা। এটা তো গেল আটকের চিত্র। কত যে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেছে তা হিসাবের বাইরে। এমন বাস্তবতা অবশ্যই উদ্বেগজনক। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠবে তা স্বাভাবিক। এই সোনা চোরাচালান দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। একে ঘিরে গড়ে উঠছে একশ্রেণীর অপরাধী, যা আইনশৃঙ্খলার প্রতি হুমকিস্বরূপ। দেশের প্রধান ও আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হয় বৈকি। সোনার বিনিময়ে অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। কেননা দেশে জঙ্গীদের যেভাবে আস্ফালন বেড়েছে তাতে এর নেপথ্য মদদ ও অর্থদাতারা এই অপকা-ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিনা তা জরুরীভিত্তিতে খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি ৪০টি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট ও শাহজালাল বিমানবন্দরের ৬টি বেসরকারী সংস্থার কথা গণমাধ্যমে এসেছে, তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা কতটা নেয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করা দরকার। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বিমানবন্দরের যে ২৭২ কর্মকর্তা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তাদের নাম প্রকাশসহ কঠোর ব্যবস্থা নিলে অন্তত অন্যরা সতর্ক হতো বা চোরাচালান রোধে কয়েক ধাপ এগিয়ে যেত। যে প্রবণতাটি ভাবিয়ে তোলে তা হলো- নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা জড়িত তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নেয় মাফিয়া চক্র। এমন বাস্তবতা একটা স্পর্শকাতর জায়গায় বিরাজ করবে তা কেউ মেনে নেবে না। অবিলম্বে এই চোরাচালান কঠোরহস্তে বন্ধ করা উচিত।