২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মধ্যযুগীয় বর্বরতা!

শিশুদের নিরাপদ জীবন যেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন কারণে তাদের জীবনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। শুধু নির্যাতনেই নয়, তারা দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে অথবা অপহরণ ও হত্যার নিষ্ঠুর শিকার হচ্ছে, আবার কখনও পানিতে ডুবে মরছে। অথচ শিশু অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাহলে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা আজ কোন্ পর্যায়ে? এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অবশ্যই রাষ্ট্রের। তাই যে কোন মূল্যে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এক ধরনের নিস্পৃহতার কারণেই সমাজে শিশু নির্যাতন কমছে না। নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এই হিংস্র মানুষগুলো সতর্ক হচ্ছে না। তাদের বিবেক জাগ্রত হচ্ছে না। অসহায় শিশু-কিশোরদের প্রতি মানুষের আরও সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে শিশু নির্যাতনের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থাসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক শিশুকে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। কারণ আজকের শিশুরাই ভবিষ্যত পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের হাল ধরবে। অবহেলা নয়, নির্যাতনও নয়, কোন শিশুই অপরাধী হয়ে জন্মায় না। কোন শিশু অপরাধ করলেও তার জন্য আইন আছে, তার অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনী ব্যবস্থাও আছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার।

শিশু নির্যাতন প্রায় নিয়মিতই আমাদের সমাজে হচ্ছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে। বরিশাল জেলার উজিরপুরে রবিউলের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের খবরটি শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো। রাজন, রাকিবকে নির্যাতন করে হত্যা এবং ক’দিন আগে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটারের কাজের মেয়ে হ্যাপীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এই ঘটনা ঘটল। ১২ বছরের শিশু রবিউলকে হাত-পা বেঁধে খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। সমাজ অধঃপতনের কোন্ খাদে নেমে গেলে শিশুদের ওপর এই ধরনের নির্যাতন হতে পারে তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। মানুষের মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো কেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সমাজইবা কেন শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারছে না, আইনী ব্যবস্থা তথা যাদের বিষয়গুলো দেখার বা প্রতিহত করার দায়িত্ব তারা থাকার পরও কেন একই ধরনের অপরাধ বার বার সংঘটিত হচ্ছে- এসব প্রশ্নের জবাব জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে। বিষয়গুলোতে এখনই মনোযোগ দেয়া দরকার। শিশুর ওপর নির্যাতন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। নির্যাতনকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।