১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কারণ ও প্রতিকার

দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়শই ছাত্র সংঘর্ষ এখন শোনা যাচ্ছে। যদিও এই ঘটনা আমাদের দেশে নতুন নয়। বর্তমানে এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সাময়িক বহিষ্কার আর গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এর কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে আর স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বর্তমানে রাজনীতিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা কোন একক দলের সমস্যা নয়। তাই দলমত নির্বিশেষে সকলকেই এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।

বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম। তাদের উদ্দেশ্য যেনতেনভাবে অর্থ উপার্জন করা। যেখানে অর্থ উপার্জনে বাধা, সেখানেই সংঘর্ষ। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরাও ছাত্র রাজনীতিতে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। এছাড়া কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মধ্যে মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের প্রভাবও ছাত্র সংঘর্ষের একটি কারণ।

ছাত্র সংঘর্ষের এই কারণগুলো দূর করতে হলে স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা হিসেবে প্রথমে শিক্ষাঙ্গনে অছাত্রদের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ছাত্রদের মধ্যে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষাঙ্গন থেকে এদের চিরতরে বের করে দিতে হবে। ছাত্র রাজনীতিতে জাতীয় ও আঞ্চলিক নেতাদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। ছাত্রছাত্রীরা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। ভাল ও মেধাবী ছাত্ররা যাতে ছাত্র রাজনীতিতে আসতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শিক্ষকের আদেশ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অনুসরণ করেই একজন ছাত্র বা ছাত্রী তার নিজের জীবনকে গড়ে তুলতে চান। তাই ছাত্রছাত্রীদের জীবনে শিক্ষকের প্রভাব অনেক বেশি। শিক্ষকতার মহান আদর্শের কথা মনে রেখে প্রত্যেক শিক্ষককে অবশ্যই সৎ ও চরিত্রবান হতে হবে। তাঁরাই দেশের ছেলেমেয়েদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষকদের এই দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে বড় হয়েও ছাত্রছাত্রীরা দেশের জন্য কাজ করার মতো উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন। সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দিতে হবে।

বিপ্লব

ফরিদপুর

মিথ্যাচারের সাতকাহন

একাত্তরে পাকসেনা, রাজাকার-আলবদররা মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন, ৩০ লাখ বাঙালী হত্যা, অনেক ঘরবাড়ি ও সেতু ধ্বংস করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসন, অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সাড়ে তিন বছরে দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসেন।

পঁচাত্তরে ঘাতক-খুনীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বেতারে মিথ্যাচার করে জানিয়ে দেয়, তাঁকে উদ্ধার করতে আসা ভারতের দুটি হেলিকপ্টার কুমিল্লা ও ঠাকুরগাঁওয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। ক’দিন পর তারা আরেকটি মিথ্যাচার করে যে, হেলিকপ্টার দুটি ভারতকে ফেরত দিয়েছে। পাকিস্তানী দালালদের অপপ্রচার ছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির বানানো হবে। অথচ তাদের গডফাদার পাকিস্তানে শত শত মসজিদ মাদ্রাসা বোমা সন্ত্রাসে ধ্বংস এবং বহু মুসলমান নামাজরত অবস্থায় হত্যা করেছেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে কোন মসজিদ ধ্বংস হয়নি, বরং বেড়েছে।

’৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ভারতের সঙ্গে করা মৈত্রী চুক্তিতে বিএনপি-জামায়াত গোলামী চুক্তি বলে মিথ্যাচার করে। ’৯৭ সালে শেখ হাসিনা সরকার শান্তিচুক্তি করলে বিএনপি-জামায়াত মিথ্যাচার করে যে ফেনী, চট্টগ্রাম ভারতকে দিয়ে ফেলেছে। যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে বলে মসজিদের মাইকে জামায়াতের মিথ্যাচারে বহু লোক হতাহত হন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা পেয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শান্তি মিছিলে হেফাজত-জামায়াত মসজিদের মাইকে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বহু লোককে হতাহত করে। শাপলাচত্বরে ৫ মের সমাবেশে সরকার ২৫০০ আলেম হত্যা করেছে বলে হেফাজত ও বিএনপি-জামায়াত মিথ্যাচার করে। বিএনপি-জামায়াত দীর্ঘ বছর ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অপকর্ম করে এখন মিথ্যাচার করছে যে তারা তা করেনি। পেট্রোল বোমায় হতাহতদের অভিশাপে বিএনপি-জামায়াত এখন রাজনৈতিক দেউলিয়া।

নুরুল আলম (মিন্টু)

ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম