১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এরদোগান ক্ষমতা ছাড়

  • আঙ্কারায় সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ ॥ কুর্দি বিদ্রোহীদের অবস্থানে ফের বিমান হামলা

তুরস্কের সবচেয়ে ভয়াবহ জোড়া বোমা হামলার ঘটনায় রবিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ জনতার রোষ আরও তীব্রতর হয়েছে। এদিকে কর্তৃপক্ষ এই রক্তক্ষয়ী হামলার জন্য দায়ী দুই পুরুষ আত্মঘাতী হামলাকারীকে শনাক্তের লক্ষ্যে কাজ করছে। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শনিবার একটি শান্তি র‌্যালিতে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৯৭ জন নিহত হয়। এই ঘটনার জের ধরে রবিবার কুর্দি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। খবর এএফপি ও বিবিসির।

আঙ্কারায় সরকারবিরোধী ও কুর্দি সমর্থক বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছে, এ হামলার জন্য সরকার দায়ী। তারা ‘এরদোগান খুনি’ ও ‘সরকার পদত্যাগ কর’ বলে সেøাগান দেয়। এদিকে শনিবার ইস্তাম্বুলে র‌্যালিতে বিক্ষোভকারীরা ওই সমাবেশে নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করে। এই র‌্যালিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। দেশটির পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (এইচডিপি) নেতা সালেহাতিন দারমিতাস দলের টুইটার এ্যাকাউন্টে বলেছেন, সরকার জনতার ওপর হামলা চালিয়েছে। তাই বিশ্ব নেতাদের সমবেদনার প্রাপক জনগণ, এরদোগান নয়। আঙ্কারায় শোকার্তদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, এরদোগানের শাসনের অবসান জনগণের লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং তা আসন্ন নির্বাচন থেকেই। ভোটের মাধ্যমেই একনায়ককে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। দলের বিশ্বাস, হামলায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ১২৮। তকে প্রদানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, নিহতের সংখ্যা ৯৭ এবং আহত ৫০৭ জন। এদের মধ্যে ১৬০ জন এখনও হাসপাতালে এবং ৬৫ জন ১৯টি হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছে। সরকার এ ঘটনার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং কোন সংগঠনই এখনও এর দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতগলু ওই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসীদের কাজ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ হামলায় ইসলামিক স্টেট (আইএস), কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এবং কট্টর বামপন্থী রেভ্যুলেশনারি পিপল’স লিবারেশন পার্টি-ফ্রন্ট (ডিএইচকেপি-সি) জড়িত থাকতে পারে। এদিকে শান্তি সমাবেশে হামলার পেছনে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গীরা দায়ী বলে সন্দেহ করছে তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। দেশটির দুই সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, সব লক্ষণে আইএস হামলাটি চালিয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর তিন মাস আগে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর সুরুকে আইএসের চালানো আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে এর মিল রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ওই হামলায় ৩৩ জন নিহত হয়। সুরুকে হামলাকারী আব্দুর রহমান আলাজজের বড় ভাই আঙ্কারায় হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে দেশটির দুটি দৈনিক জানিয়েছে।

এদিকে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বে এবং সীমান্তের অপর পাশে উত্তর ইরাকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে রবিবার বিমান হামলা চালানো হয়। শনিবার পিকেকে একতরফাভাবে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু পিকেকের ঘোষণা সরকার প্রত্যাখ্যান করার পরপরই তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে দেশটির বিমান বাহিনী। হামলায় উত্তর ইরাকের মেতিনা এবং জাপ এলাকায় পিকেকে বিদ্রোহীদের স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। পিকেকের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তুর্কি এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, পিকেকের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কোন বিরতি ছাড়াই তাদের ওপর এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।