২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিষিদ্ধ তালিকাভুক্তদের সঙ্গে লেনদেন করা যাবে না

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের সমবায় সমিতিগুলোকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন রেজুলুশনের আওতায় সন্ত্রাস অর্থায়নে জড়িত সন্দেহে তালিকাভুক্ত বা বাংলাদেশ সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তার সঙ্গে কোন ধরনের (আমানত সংগ্রহ ও ঋণ প্রদান) লেনেদেন না করতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেনামে বা ছদ্মনামে কোন গ্রাহক বা সদস্যের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ বা ঋণ প্রদান করা থেকেও তাদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ব্যক্তির ও প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ করতেও বলা হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সকল সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রতিটি সমবায় সমিতি ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনক্রমে সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বিস্তারে অর্থায়ন সংক্রান্ত লেনদেন প্রতিরোধ ও শনাক্ত করার লক্ষ্যে একটি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করবে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কিত নির্দেশনা জারি করবে ও সময় সময় তা পর্যালোচনা করবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোন রেজুলুশনের আওতায় বা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তার নামে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন/স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি বা সত্তার নামে আমানত/ঋণ রয়েছে কিনা বা কোন লেনদেন সংঘটিত হয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করার জন্য সমবায় সমিতিগুলো নিয়মিত লেনদেন মনিটর করবে এবং প্রয়োজনে লেনদেন পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে সমবায় সমিতিগুলোকে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক ঝুঁকি হতে মুক্ত রাখা এবং মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্দেশনা পরিপালনে প্রতিটি জাতীয় পর্যায়ের সমবায় সমিতি নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন উর্ধতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রধান কার্যালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যা সরাসরি সমিতির নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান তত্ত্বাবধান করবেন। এই কর্মকর্তা প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা নামে অভিহিত হবেন। মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থ যোগান প্রতিরোধ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রতিটি প্রাথমিক ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সমবায় সমিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য একজন উর্ধতন পর্যায়ের কর্মকর্তাকে কন্টাক্ট পয়েন্ট হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করবে। প্রাথমিক, কেন্দ্রীয় ও জাতীয় সব পর্যায়ের সমবায় সমিতির ক্ষেত্রে মনোনীত কর্মকর্তার নাম, পদবী, যোগাযোগের ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর, ফ্যাক্স ও ই-মেইল বিএফআইইউতে সরবরাহ করতে হবে।

এতে বলা হয়, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে এবং সমবায় খাতকে এ বিষয়ক ঝুঁকি হতে মুক্ত রাখার জন্য তাদের গ্রাহক ও সদস্য পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি সমিতির সকল কর্মকর্তাকে দৈনন্দিন লেনদেন বা কার্যক্রমে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।