১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দলীয় ভিত্তিতেই

দলীয় ভিত্তিতেই
  • সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী মন্ত্রিসভায় অনুমোদন;###;অধ্যাদেশ জারি হলে ডিসেম্বরেই এভাবে পৌর নির্বাচন

তপন বিশ্বাস ॥ এখন থেকে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল প্রার্থীর মনোয়ন দেবে। মনোনীত প্রার্থী দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। তবে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকছে। এছাড়া কোথাও পর্ষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে নির্বাচনে আগ পর্যন্ত সেখানে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত ৫টি আইন সংশোধনীর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আইন সংশোধনের প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

এটি বাস্তবায়ন হলে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে রাজনৈতিক দলীয় প্রতীকে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, এই নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনে যোগ্যতার মাফকাঠি না থাকলে তাতে সুফলের পরিবর্তে দেশে বিরূপ অবস্থা বিরাজ করতে পারে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আইনটি কার্যকর হলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত না এমন কোন রাজনৈতিক দলের নেতারা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার বা জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারবে না। কবে থেকে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এমন প্রশ্নের নির্বাচন কমিশন সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকার চাইলে আগামী ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনও দলীয়ভাবে করা যাবে। এদিকে নারী জনপ্রতিনিধিদের অর্ধেক এ ব্যবস্থার বিপক্ষে মত দিয়েছেন বলে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংশোধনী আইনে আরও একটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে পর্ষদের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর কোন কারণে নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তীকালের জন্য প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এখন স্থানীয় সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর কোন কারণে নির্বাচন না হলে আগের জনপ্রতিনিধিরাই ক্ষমতায় থাকেন। কিন্তু সংশোধিত আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর নির্বাচন না হলেও জনপ্রতিনিধি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। তাঁর পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে। আগে শুধু সিটি করপোরেশন আইনে প্রশাসক নিয়োগের বিধান ছিল।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত আইনগুলো ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে সচিব কমিটিরও সুপারিশ নিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনে আবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। পরে তা অনুমোদনে সংসদে পাঠানো হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই আইনগুলো অনুমোদন পাবে। আর এর আগে কোন নির্বাচন করতে হলে সংশোধিত আইন অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। আর এ অধ্যাদেশের বলেই ওই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে পৌরসভার সংশোধনী আইন অধ্যাদেশ করতে অনুমোাদন দেয়া হয়েছে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে এ অধ্যাদেশ জারি হবে। কারণ আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে পৌরসভা নির্বাচন।

সূত্র জানায়, সংসদীয় নির্বাচন পদ্ধতিতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এসব প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের প্রতিটি পদেই নির্বাচন করতে রজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিতে হবে। তাদের প্রত্যেককে নির্বাচন করতে হবে দলীয় প্রতীক নিয়ে। তবে স্বতন্ত্রভাবে কোন ব্যক্তি নির্বাচন করতে চাইলে তাকে নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষরসহ নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন দাখিল করতে হবে। এ জন্য সংশোধনী আইনের আলোকে বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। এ বিধিমালায় রাজনৈতিক দল কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেবে সে বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে। আর এ বিধিমালা অনুসরণ করেই রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে।

বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। এটা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন সব ক্ষেত্রে। ডিসেম্বরের মধ্যে পৌরসভা নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন-২০১৫’ ভেটিংয়ের পর অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে। আর স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ)(সংশোধন) আইন ২০১৫, উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১৫, জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১৫ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন ২০১৫ ভেটিংয়ের পর পাসের জন্য সংসদে যাবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এই পাঁচটি আইনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হয়। এই সংশোধন ছোট হলেও রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে এর প্রভাব অনেক বেশি।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে কথার নিয়ম চলে এলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ২০০৮ সালে চার সিটি করপোরেশনে নির্বাচন একসঙ্গে করার অভিজ্ঞতার পর তখনকার নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেবল আইনের পাতাতেই আছে। প্রকারান্তরে দলীয় নির্বাচনই তো হচ্ছে। দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে যে কোন সমস্যার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো দায়ী থাকে। কাজেও অনেক সুবিধা হয়। চলতি বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সব স্তরের নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে মত দেন।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ জনজণ্ঠকে বলেন, বিগত দিনেও রাজনৈতিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। তবে তা হতো আড়ালে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের আড়ালে মূলত দলীয়ভাবেই নির্বচানগুলো হতো। সরকার এটিকে অনুমোদন দেয়ায় এখন থেকে প্রকাশ্যে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোও দায়দায়িত্ব চলে আসে। এক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনে দলকে যথেষ্ট দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু আইন পাস করলেই চলবে না, ভাল প্রার্থী নির্বাচন করে নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে। এতে দেশে ভবিষ্যত নেতার সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে সারাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবিড় যোগাযোগ স্থাপিত হতে পারে। প্রার্থী নির্বাচনে যোগ্যতার মাফকাঠি থাকতে হবে। তা না হলে ভাল প্রার্থী পাওয়া যাবে না। আর মুখ দেখে প্রার্থী নির্বাচন করলে সে ক্ষেত্রে যদি চাঁদাবাজ, দখলবাজরা মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে আসে সে ক্ষেত্রে দেশে বিরূপ প্রভাব তৈরি হবে। তা দেশের জন্য কোন অবস্থায় মঙ্গলকর হতে পারে না।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, উন্নত গণতন্ত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয় মনোনয়নে হয়। যেমন ব্রিটেন। ভারতেও স্থানীয় নির্বাচন দলীয় মনোনয়নে হয়। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন বাদে অন্যান্য আইনে যে বিধান রয়েছে তাতে পাঁচ বছর মেয়াদের পর কোন কারণে নির্বাচন না হলে আগে যারা ছিলেন তারাই দায়িত্ব চালিয়ে যেতেন। আইন সংশোধনের পর তা আর সম্ভব হবে না। মেয়াদ শেষ হলে সরকার যথাসময়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করবে। যদি কোন জটিলতায় নির্বাচন না করতে পারে, অন্তর্র্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। এটা বর্তমানে সিটি করপোরেশনে আছে। আগে এটা কেবল সিটি করপোরেশন আইনে ছিল। এখন এই বিধান প্রতিটি আইনে যুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসকরা নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত থাকবেন। এর মধ্যে সরকার চাইলে তাদের পরিবর্তন করে দিতে পারবে।

জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ সমর্থক ভোটারের তালিকা দিতে হবে কি-না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অধ্যাদেশ বা সংসদে আইন পাস হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন বিধিমালা সংশোধনের সময় বিষয়টি ঠিক করবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীরা স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য আলাদা প্রতীক থাকবে।

স্থানীয় সরকারে পাঁচটি স্তর রয়েছে। এর মধ্যে- সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠাগুলোর জš§ হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণত তৃণমূলের জনগণের উন্নয়নের কাজ করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়া হয়ে থাকে। বিভিন্ন রাজতৈনিক প্রেক্ষাপটে সরকার মনোনীত প্রতিনিধি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনারও রেওয়াজ আছে। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি মনোয়ন এ প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য। এ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও নিদর্লীয় করতে সব সরকার নানা প্রচেষ্টা নিয়েছে। দিন বদলে এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ড প্রসারিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিদর্লীয় রাখা যায়নি। যদিও স্থানীয় সরকার আইনের কোন ধারাই নির্বাচন ‘দলীয় বা নিদর্লীয়’ করতে হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তারপরও নির্বাচন আচরণবিধিতে কিছু জায়গায় প্রতিবন্ধকতা ছিল দলীয়ভাবে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে। এটি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর নির্দলীয় অবস্থান ধরে রাখা যায়নি। প্রতিবেশী ও অনেক উন্নত দেশের মতো এ নির্বাচন দলীয়ভাবেই অনুষ্ঠানের পক্ষে অনেকে মতামত জানিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের পরাজয় এবং গতবছর উপজেলা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলসহ ব্যাপক অনিয়মের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে করার পক্ষে মত দেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এর আগে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন পুরোপুরি নির্দলীয় করার প্রচেষ্টা নিয়েও ব্যর্থ হয় ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। গত বছর মার্চে তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা হবে। এরপর গত বছরের ১৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় করা সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে স্থানীয় সব নির্বাচন দলীয়ভাবে হতে হবে। এরপর ওই বছরের ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক আলোচনা সভায় আগামী দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। সর্বশেষ গত ১১ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে করার কথা জানান। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আইন সংশোধন করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করলে তা অনুমোদন দেয়া হয়।

এদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, সরকার যদি আগামী সাত দিনের মধ্যেই দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের অধ্যাদেশ জারি করে তবে আগামী ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনও দলীয়ভাবে করা যাবে। সোমবার বিকেলে ইসি সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন হলে স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রের বিকাশ হবে, চর্চাও বাড়বে। সরকার যদি দলীয়ভাবে এ নির্বাচন করতে চায় তাহলে আইন সংশোধন করতে হবে। মন্ত্রিসভায় আইনের সেই খসড়াটি অনুমোদন হয়েছে এখন সেটি ভেটিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে আবার মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, চূড়ান্তের পর সেটি বিল আকারে জাতীয় সংসদে তোলা হবে। আর তা যদি না হয়, অধ্যাদেশ করা হবে। সরকার যদি আগামী সাত দিনের মধ্যেই অধ্যাদেশ করে দেয় তবে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচনও দলীয়ভাবে করা যাবে।

সব নির্বাচনেই চ্যালেঞ্জ থাকে মন্তব্য করে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ আগেও ছিল এখন আছে, দলীয়ভাবে হলেও থাকবে। তবে নতুনভাবে নির্বাচন করলে কোন অসুবিধা হবে না। এর মধ্যে আমরা সংশোধিত আইন অনুযায়ী বিধিমালাও সংশোধন করব।

দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথ খুলতে আইন সংশোধনের পক্ষে সায় এলেও নারী জনপ্রতিনিধিদের অর্ধেক এ ব্যবস্থার বিপক্ষে মত দিয়েছেন বলে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা খান ফাউন্ডেশনের গবষণা প্রতিষ্ঠান ‘অপরাজিতা’র এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিদের অর্ধেকই দলীয় ব্যানারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চান না।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় ব্যানার ও প্রতীক ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৮ শতাংশ নারী জনপ্রতিনিধি। বাকি দুই শতাংশ কোন সিদ্ধান্ত দেননি।

সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের অবস্থান’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়।

দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন নির্বাচন আইন সংশোধনের খসড়ায় সোমবার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।

বছরের শেষদিকে পৌরসভা এবং নতুন বছরের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ অবস্থায় আইন সংশোধন করে স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার অনেক আগেই অবস্থান নিলেও আইন সংশোধনের কাজটি এতদিন আটকে ছিল।

অবশ্য সরকারের এই চেষ্টা ‘নীল নকশা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

সেমিনারে খান ফাউন্ডেশনের মনিটরিং এ্যান্ড রিপোর্টিং ম্যানেজার মোরশেদ আলম গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে জানান, গত বছর আগস্ট থেকে এ বছর জানুয়ারি পর্যন্ত পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সম্ভাব্য প্রায় ১২শ’ প্রতিনিধিদের ওপর এই জরিপ চালানো হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী জনপ্রতিনিধিদের ৫৭ শতাংশ সদস্য কোন না কোনভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশ মনে করেন, সাধারণ আসনে নির্বাচিত হলে তারা নিজেদের দায়িত্ব পালনের বেশি সুযোগ পেতেন। ৮০ শতাংশ মনে করেন স্থানীয় সরকারে নারীবান্ধব পরিবেশ রয়েছে।