২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৪১ বীরাঙ্গনা প্রথম মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন

  • গেজেট প্রকাশ;###;জুলাই থেকে পাবেন সব সুযোগ সুবিধা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ৪১ বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৪ বছর পর একাত্তরের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে নির্যাতিত বাংলার বীরাঙ্গনারা এই প্রথমবারের মতো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন। বীরাঙ্গনার মৃত্যুর পর তার দাবিদাররা গেজেটে নাম প্রকাশের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন। আগামী ৩০ জুন ২০১৬ সালের মধ্যে বীরাঙ্গনা নিজে বা তার দাবিদাররা মন্ত্রণালয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করতে পারবেন। এর আগে কোন সরকার বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির কথা ভাবেননি। এর মাধ্যমে বাঙালী জাতির বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হলো। সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জনকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য সরকার যাদের তথ্য যাচাই বাছাই করছে তাদের স্বীকৃতির পরও এ বছরের জুলাই থেকেই তাদের সরকারী সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। পর্যায়ক্রমে যাচাই বাছাইয়ের পর দেশের সব বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃত দেয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০০২ (২০০২ সালের ৮ নম্বর আইন) এর ৭(ঝ) ধারা অনুযায়ী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের (বীরাঙ্গনা) তালিকা রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর সিডিউল-১ এর ক্ষমতাবলে গেজেট আকারে প্রকাশ করল। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা দেরি হলেও বিশেষ এই মুক্তিযোদ্ধাদের এ বছরের জুলাই থেকেই মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জনকণ্ঠকে বলেন, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মতো বীরাঙ্গনারাও পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বর্তমানে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক আট হাজার টাকা ভাতা ও তাদের সন্তান-স্বজনদের চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কোটা রয়েছে। এ ছাড়াও ভর্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটা সুবিধা পেয়ে থাকেন সন্তানরা। বীরাঙ্গনারাও এ বছরের জুলাই (২০১৫ সাল) থেকে এসব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। বীরাঙ্গনার মৃত্যুর পর তার দাবিদাররা গেজেটে নাম প্রকাশের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন। এছাড়া বিভিন্ন বইপত্র থেকে তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমানে বীরাঙ্গনা দাবিদার প্রায় ৫শ’ আবেদন তদন্তাধীন রয়েছে। যা উপজেলা পর্যায়ের কমিটি যাচাই বাছাই করছে। এদের মধ্যে পরে যাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে তারাও জুলাই থেকে সুবিধা পাবেন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে বীরাঙ্গনারা বা তাদের দাবিদাররা আগামী ৩০ জুন ২০১৬ এর মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। ঘোষিত বীরাঙ্গনাদের তালিকা তৈরির জন্য সরকার নারী কর্মকর্তাদের দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বাছাই করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করছে।

সূত্র জানায়, আবেদনকারী মুক্তিযুদ্ধকালীন বীরাঙ্গনা ছিলেন কি না তা অতি সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় প্রতিটি উপজেলায় ৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি করে দিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে আরও ২ নারী কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়েছে। তবে যেসব উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা নারী নন সেক্ষেত্রে উপজেলা নারী কর্মকর্তা ও তার সঙ্গে প্রথম শ্রেণীর নারী কর্মকর্তাকে নিয়ে বীরাঙ্গনা কি না তা যাচাই-বাছাই করবেন। চূড়ান্ত বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ে তা প্রেরণ করবেন। মন্ত্রণালয় তালিকা যাচাই করতে চাইলে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা নেবে।

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন ময়মনসিংহের ফুলপুরের ময়মনা খাতুন ও হালিমা খাতুন, হালুয়াঘাটের জাহেরা খাতুন ও ফাতেমা খাতুন। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মোছাম্মত এলেজান নেছা, মোমেনা খাতুন, দোলজান নেছা ও মজিরন নেছা। সিলেটের জকিগঞ্জের এশনু বেগম, হবিগঞ্জের মাধবপুরের মাজেদ বেগম ওরফে মাজেদা খাতুন। রংপুর সদরের মনছুরা বেগম, ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের ৬ জন। সুমি বাসুগী, মালেকা, মনি কিসকু, নিহারাণী দাস, নূরজাহান বেগম, হাফেজা বেগম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১১ জন। এর মধ্যে শিবগঞ্জের মালেকা বেগম, গোমস্তাপুরের রাবিয়া বেগম, হাছিনা বেগম, জলো বেগম, সফেদা বেগম, আয়েশা বেগম, রেনু বেগম, হাজেরা বেগম, আরবী বেগম ও রাহেলা বেগম। এছাড়া চাঁপাই সদরের লিলি বেগম। সিরাজগঞ্জ সদরের মোট ১১। তারা হচ্ছেন আয়মনা, মোছাঃ সূর্য বেগম, মোছাঃ কমলা, মোছাঃ জয়গন, ছুরাইয়া খাতুন, মোছাঃ মাহেলা বেগম, হামিদা বেওয়া, রহিমা বেওয়া, মোছা হাসনা বেগম, মোছাঃ শামসুন্নাহার বেওয়া, ছামেনা খাতুন। এছাড়া কাজীপাড়া উপজেলার আছিয়া বেগম ও কামারখন্দ উপজেলার রাজুবালা দে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া