২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র ভার্সিটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এদিকে প্রায় চার হাজার শূন্যপদে নার্স নিয়োগের জন্য চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা ফের বাড়িয়ে নিয়োগবিধি শিথিলের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাদের বয়স ৩৬ বছর হবে তারাও নার্স হিসেবে সরকারী চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সকল অনুমোদন দেয়া হয়।

পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অনুমোদিত আইনের খসড়ায় ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার রাখার বিধান এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে চার জন রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর কিছু অনুশাসন ও পর্যবেক্ষণসহ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় খসড়া আইনে নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। আর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় খসড়া আইন নীতিগত অনুমোদন পায় ১১ মে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ওইসব অনুশাসন ও পর্যবেক্ষণের আলোকে সংশোধনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং নিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এ দুই আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় তোলা হয়।

এখন চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া খসড়া দুটি আইন মন্ত্রণালয়ের পুনঃভেটিং সাপেক্ষে সরাসরি সংসদে চলে যাবে বলে জানান তিনি। নীতিগত অনুমোদনের সময় ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, আইসিটি শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করাই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় কিছু অতিরিক্ত বিষয় আইনে যোগ করা হয়েছে। দেশে ও বিদেশে আইসিটির ক্ষেত্রে অসাধারণ মেধাবী ও যোগ্য লোকদের আকৃষ্ট করতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা দেয়ার বিধান থাকবে। এখানে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি দূরশিক্ষণ ও অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে আইসিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চ্যান্সেলর মনোনীত দুজন আইসিটি শিল্প উদ্যোক্তা একাডেমিক কাউন্সিলে থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা উন্নয়ন কমিটিতে পরিকল্পনা বিভাগের একজন প্রতিনিধি থাকবে, যাতে তারা প্রকল্পগুলো ঠিকঠাক নিতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকাস থাকবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি ও দর্শন এবং বিশ্ব সংস্কৃতি নিয়ে। রবীন্দ্রচর্চা বা ভাষা-সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি কলা, সংগীত, চারুকলা, নাট্যকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষি ও সমবায়, বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদও থাকবে। তবে স্বাভাবিকভাবেই এখানে কলা, সংগীত, নৃত্য, চারুকলা ও নাট্যকলা গুরুত্ব পাবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনী কাঠামো দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

গাজীপুরের হাইটেক পার্কে স্থাপিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। আর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় হবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। গত ৮ মে শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মের সার্ধশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ ইশতেহারে বাংলাদেশে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৫ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পত্র দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় হবে দেশের ৩৫তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথভাবে এর অর্থায়ন করবে বলে জানা গেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বাবার জমিদারির দেখাশোনা করতে ১৮৯০ সালে শাহজাদপুরে আসেন। সে সময় শাহজাদপুর কাচারি বাড়িতেই তিনি অবস্থান করতেন।

নার্সদের সরকারী চাকরির বয়সসীমা শিথিল ॥ প্রায় চার হাজার শূন্যপদে নার্স নিয়োগের জন্য চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা ফের বাড়িয়ে নিয়োগবিধি শিথিলের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাদের বয়স ৩৬ বছর হবে তারাও নার্স হিসেবে সরকারী চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বৈঠকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ডাক্তারের চেয়ে নার্স বেশি থাকার কথা। আমাদের দেশে উল্টো, ডাক্তারের চেয়ে নার্স আমাদের দেশে কম। সরকার এই বিষয়টাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। নার্স নিয়োগে অনেক কর্মসূচী নেয়া হয়েছে।

নার্স নিয়োগে বিধি, জ্যেষ্ঠতা, মামলা-মোকাদ্দমার কারণে পদ সৃষ্টির পরও পদ পূরণ করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখন নার্সিংয়ে চারটা নিয়োগ বিধিমালা আছে। সরকার চেষ্টা করছে, একটা সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালা করতে। এটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব জটিলতার কারণে একটা ‘ব্যাক লগ’ সৃষ্টি হয়েছে।

২০০৬ সালের পর নার্সিং পাস করা কেউ সরকারী চাকরি পায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বাস্তব অবস্থা হলো, ২০০৬ সাল পর্যন্ত নার্সিং যারা পাস করেছেন, তারা সরকারী চাকরি পেয়েছেন। এরপর কেউ সরকারী চাকরিতে আসতে পারেননি। এতে অনেকে চাকরির বয়স ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। এর আগে ২০১৩ সালের ১৭ জুন নার্সদের চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে ৩৬ বছর করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, এই পদে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হবে। পিএসসির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ প্রার্থীরা ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারী চাকরিতে ঢুকতে পারেন। তবে শিথিলকালীন সময় ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে সচিব বলেন, এর মধ্যে কিছু নিয়োগ হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, বয়সের বিষয়টা একটু বাড়ানো দরকার।

এসব বিবেচনায় নিয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নার্সদের চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা ৩০ বছরের পরিবর্তে ৩৬ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানান, বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৭২৮টি নার্সের পদশূন্য আছে। প্রধানমন্ত্রী আরও ১০ হাজার জ্যেষ্ঠ নার্স নিয়োগের কথা বলেছেন। এতে আমাদের প্রয়োজনীয় নার্স দিতে পারব। এর সুফল মানুষ পাবে।