১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাহরাইনে ৪৩ হাজার বাংলাদেশী বৈধ হতে সুযোগ পাচ্ছে

  • খুলে যাচ্ছে বন্ধ শ্রমবাজার

ফিরোজ মান্না ॥ বাহরাইনে অবৈধ ৪৩ হাজার বাংলাদেশীর বৈধ হওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়ে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী বাহরাইন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে দেশটি অবৈধ বাংলাদেশীদের বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাহরাইন লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (এলএমআরএ) অবৈধদের বৈধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে বাহরাইনে বন্ধ শ্রমবাজারে নতুন করে কর্মী নিয়োগের জন্য আলাপ-আলোচনা চলছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে বাজারটি বন্ধ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই বাজারটি খুলে গেলে অনেক বাংলাদেশী কর্মী চাকরি নিয়ে যেতে পারবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও বাহরাইনের এলএমআরএর সঙ্গে অবৈধ কর্মীদের বৈধ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিষয়টি নিয়ে বাহরাইনের প্রতিনিধিদল কয়েক দফা দেশে এসেছেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল কয়েক দফা দেশটি সফর করেছে। এরপরই এলএমআরএ বিষয়টি নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবৈধ বাংলাদেশী বৈধ করার কাজ শুরু করে এলএমআরএ। একইসঙ্গে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তারা বেশকিছু শর্ত দিয়েছে। এই শর্ত পূরণের পর কর্মী নেবে বলে জানানো হয়েছে। প্রথমত সাশ্রয়ী পর্যায়ে বাহরাইনে কর্মী পাঠাতে হবে। চাকরির মেয়াদের বেশি সময় কেউ থাকতে পারবে না। এ ধরনের বেশকিছু শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জনশক্তি রফতানিকারকরা তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে নিয়ে বাহরাইনে কর্মী নিয়োগ করেছে। এতে কর্মীরা সেখানে কাজ করে তাদের খরচের টাকাই তুলতে পারেনি। এ কারণে অনেক কর্মী লুকিয়ে লুকিয়ে কাজ করছে। এজন্য অনেক বাংলাদেশী কর্মী অবৈধ হয়ে পড়ে। দরিদ্র মানুষও প্রতারণার শিকার হবে না। এলএমআরএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসামা আবদুল্লাহ আল আবসি সম্প্রতি এদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। ঘোষণায় অক্টোবর থেকে শুরু করে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈধ হওয়ার সুযোগ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে অবৈধ কর্মীরা বৈধ হতে না পারলে তাদের দেশে ফিরে আসতে হবে। কাজে অনুপস্থিত বা কাজ থেকে পলাতক, কাজ শেষে অতিরিক্ত সময় অবস্থান, কাজ শেষের পর পলাতক ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়ন না করে অতিরিক্ত সময় অবস্থানকারী প্রবাসী কর্মীরা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়বে।

জানা গেছে, কর্মীরা বৈধ হওয়ার পর ছয় মাসের জন্য তারা যে কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে যদি কেউ দেশে ফিরতে চান তাহলে দেশেও ফিরতে পারবেন। বাহরাইন ইমিগ্রেশন তাদের কোন বাধা দেবে না। যদি সাধারণ ক্ষমার সময় পার করে কেউ দেশে ফিরতে চান তাহলে তারা কালো তালিকাভুক্ত হবেন। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। যেসব কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফিরবেন সাধারণ ক্ষমা বলবত থাকা অবস্থায় তারা আবার বাহরাইনে যেতে পারবেন। অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার জন্য এলএমআরএ একটি কল সেন্টার খুলেছে। এই কল সেন্টার থেকে বৈধ হতে কি কি করতে হবে সে তথ্য জানা যাবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালযের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন বাংলাদেশের এই শ্রমবাজারটি বন্ধ ছিল। এজন্য সেখানে থাকা হাজার হাজার বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা অবৈধ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ ৭ থেকে ৮ বছর ধরে দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছেন। সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে তারা এখন বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর বাহরাইন কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় স্বাগত জানিয়েছে। প্রায় চার বছরের চেষ্টার ফলে বাহরাইনে অবৈধ কর্মী বৈধ হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল একাধিকবার দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছে।

বাহরাইনের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটির (এলএমআরএ) তথ্যানুযায়ী দেশটিতে বিভিন্ন দেশের ৬১ হাজারের মতো অবৈধ অভিবাসী আছেন। এরমধ্যে প্রায় ৪৩ হাজারই বাংলাদেশী নাগরিক। গত এক জুলাই থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৩৪১ অবৈধ প্রবাসী আউটপাস নিয়ে রেখেছিলেন। যাতে তারা কোন পুলিশি হয়রানির শিকার না হন। এখন সাধারণ ক্ষমায় তারাও আবেদন করতে পারবেন। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বৈধ হবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তখন একযোগে গোটা বাহরাইনে অভিযান চালানো চলবে। যারা অবৈধ কর্মী তাদের হয় দেশে পাঠানো হবে না হয় জেলে যেতে হবে।

অবৈধরা বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়ে ১০ হাজার অবৈধ প্রবাসী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন। এরমধ্যে ভিসা পরিবর্তন করে বৈধভাবে বাহরাইনে কাজ করার সুযোগ চেয়েছেন ৮ হাজার প্রবাসী। ২ হাজার অবৈধ প্রবাসী পুলিশের হাতে আটক হলেও তারা পরে কোন রকম জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরেছেন।