২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন দুরভিসন্ধিমূলক ॥ বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধান দূরভিসন্ধিমূলক উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জমান রিপন সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এ সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সরকার বিরোধীদলকে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক মাঠ থেকে দূরে রাখার জন্যই দলীয়ভাবে নির্বাচন করার এই আইন করেছে। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভাজন তৈরি করতেই সরকার এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। একইসঙ্গে তিনি মন্ত্রিসভায় সরকারের এ আইনের অধ্যাদেশ প্রকাশ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গত বছরে দলের অবরোধ কর্মসূচী সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিএনপির এ কর্মসূচী নিয়ে মনে হচ্ছে ভুল বোঝাবুঝি এখনও রয়ে গেছে। বিএনপির এখন রাজনৈতিক কোন কর্মসূচী নেই। দল পুনর্গঠনের কাজ চলছে। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নিজেও একাধিক অনুষ্ঠানে এখন বিএনপির কোন কর্মসূচী নেই জানিয়েছেন। রিপন পাঁচজনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান। এ সময় গেফতারকৃত আসামি এ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৪ অক্টোবর আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে আদালত। এর আগে গত ১৩ মে পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমালচার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। আসামিরা কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার বিদ্যানগর, আয়লা, ফতেরগুপ বিল, পীরাতন বিল ও আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষে ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়।

সাত অভিযোগ

অভিযোগ-১ : ১৯৭১ সালের ১২ নবেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার বিদ্যানগর ও আয়লা গ্রামের মোট আটজনকে হত্যা ও একজনকে আহত করা।

অভিযোগ-২ : ১৩ নভেম্বর আয়লা গ্রামের মিয়া হোসেনকে হত্যা।

অভিযোগ-৩ : একই উপজেলার মোঃ আব্দুল গফুরকে অপহরণ করে ২৬ সেপ্টেম্বর খুদির জঙ্গল ব্রিজে নিয়ে হত্যা।

অভিযোগ-৪ : ২৩ আগস্ট করিমগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলোতে শান্তি কমিটির কার্যালয়ে আতকাপাড়া গ্রামে মোঃ ফজলুর রহমান মাস্টারকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যা।

অভিযোগ-৫ : ৭ সেপ্টেম্বর রামনগর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সরকারকে হত্যা।

অভিযোগ-৬ : ২৫ আগস্ট পূর্ব নবাইদ কালিপুর গ্রামে আবু বক্কর সিদ্দিক ও রূপালীকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যা।

অভিযোগ-৭ : ১৫ সেপ্টেম্বর আতকাপাড়া গ্রামে আক্রমণ করে ২০-২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ।

জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালীর ৫ রাজাকারকে তদন্ত সংস্থার সেফহোমে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি প্রদান করেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ প্রদান করে। ১৫ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে একজন করে সেফহোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউশন পক্ষে আবেদন করেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

৫ আসামি হলেন- ইসাহাক শিকদার, আব্দুল গণি হাওলাদার, আব্দুল আওয়াল ওরফে মৌলভী আওয়াল, আব্দুস সাত্তার প্যাদা ও সুলাইমান মৃধা। প্র্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল সাংবাদিকদের বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ ৬ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যা মামলার (আইও) প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে তারা অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা ও ১৭ জনকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এখনও ৮ জন বীরাঙ্গনা জীবিত আছেন।