২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চুরি নয়, বলাৎকারে ব্যর্থ হয়েই রাজনকে হত্যা করা হয়

  • আদালতে ইউপি সদস্য

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ চুরির দায়ে নয়, বলাৎকারে ব্যর্থ হয়েই হত্যা করা হয়েছিল শিশু সামিউল আলম রাজনকে। আর হত্যার দায় থেকে বাঁচতেই দেয়া হয়েছিল চুরির অপবাদ। সোমবার আদালতে রাজন হত্যা মামলার আলোচিত সাক্ষী স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন তার জবানবন্দীতে এ বক্তব্য রাখেন।

রাজন হত্যার পর পরই আসামিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা ও অর্থের বিনিময়ে পুলিশের মাধ্যমে আপোসরফার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে। কামরুলকে সৌদি পালাতে গিয়াস উদ্দিনই পুলিশের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্তে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে গিয়াস উদ্দিনের সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলে।

অপরদিকে রাজনকে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে হত্যার অভিযোগ ছিল শুরু থেকেই। অভিযোগ ছিল, কুমারগাঁও এলাকার নৈশপ্রহরী ময়না ওরফে ময়না চৌকিদার রাজনকে একা পেয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে রাজনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে চোর ধরার কথা বলে কামরুলসহ তার ভাইদের খবর দিয়ে আনে ময়না। তারা এসে রাজনের ওপর বর্বর নির্যাতন চালায়। সোমবার আদালতেও এমন সাক্ষ্য প্রদান করেন গিয়াস মেম্বার। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট শওকত আহমদ বলেন, আদালতে গিয়াস মেম্বার বলেছে, ভোরে সবজি বিক্রি করতে আসা রাজনকে একা পেয়ে বলাৎকারের চেষ্টা চালায় ময়না চৌকিদার। এতে রাজন রাজি না হলে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে নির্যাতন চালানো হয়। শওকত আহমদ বলেন, প্রথমে গিয়াস মেম্বার এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেছিল। তখন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা তাকে বৈরী ঘোষণা করলে সে স্বপ্রণোদিত হয়ে এমন সাক্ষ্য দেয়। শিশু রাজন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের ৬ষ্ঠ দিনে গিয়াস মেম্বারসহ আরও ৩ সাক্ষী সাক্ষ্যপ্রদান করেন। গিয়াস মেম্বার ছাড়াও কুমারগাঁও এলাকার কুরবান আলী, আফতাব মিয়া ও আবদুল করিম সাক্ষ্য দেন। দুপুর ১টা থেকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন। এ নিয়ে রাজন হত্যা মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। ১৩ ও ১৪ অক্টোবর এ মামলায় টানা সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন আদালত। এ মামলায় মোট ৩৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।