২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোরে চন্ডী পাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ভোরে চ-ীপাঠের মধ্য দিয়ে আবাহন ঘটেছে দেবী দুর্গার। দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মর্ত্যলোকে। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আগামী সোমবার ষষ্ঠীপুজোর মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও মূলত আজ থেকেই পূজার্থীরা দুর্গাপুজোর আগমনধ্বনী শুনতে পাবেন।

শাস্ত্রীয় বিধান মতে, মহালয়ার অর্থ হচ্ছে, মহান আলোয় দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে আবাহন। দুটি পক্ষ রয়েছে, একটি হলো পিতৃপক্ষ, অন্যটি দেবীপক্ষ। অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের শেষ হয়, আর প্রতিপদ তিথিতে শুরু হয় দেবীপক্ষের। সোমবার মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে সেই দেবীপক্ষ।

মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও পুজো ম-পগুলোতে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। চন্ডীপাঠ ছাড়াও মঙ্গলঘট স্থাপন, চ-ীপুজো, ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল দিনের আনুষ্ঠানিকতার অংশ। অনেক ভক্তই গঙ্গাতীরে তাদের মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদগতি প্রার্থনা করে তর্পণ করেন। আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পুজো। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

সোমবার সকাল ৬টায় ঢাকেশ^রী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় পুজোম-পে চ-ীপাঠ করে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হয়। এরপর সকাল ৯টায় মহালয়ার ঘট স্থাপন করে ফুল, তুলসী ও বেলপাতা দিয়ে পুজো করা হয়। ঢাকেশ^রী মন্দিরের পুরোহিত রঞ্জিত চক্রবর্তী পুজো পরিচালনা করেন। পরে মন্দিরের নিজস্ব জলাশয়ে গত বছরের দেবীর প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। ভোরে মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দিরেও ছিল অনুরূপ আনুষ্ঠানিকতা। সেখানে চ-ীপাঠ ও চ-ীপুজো ছাড়াও আবাহন সঙ্গীত পরিবেশিত হয়েছে। রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরসহ সব মন্দির ও পুজোম-পেও মহালয়া উদযাপিত হয়েছে।

গুলশান-বনানী সার্বজনীন পুজো উদযাপন পরিষদ বনানী পুজোম-পে ভোর ৫টা থেকে চ-ীপাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলিত করে মহালয়া অনুষ্ঠানের উ™ে^াধন করেন। তিনি মহালয়ার মাহাত্ম্য তুলে ধরার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে বিনাশ করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় গুলশান-বনানী সার্বজনীন পুজো উদযাপন পরিষদ সভাপতি সুভাষ চন্দ্র ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক শুধাংশু কুমার দাস উপস্থিত ছিলেন। দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের ভক্তিমূলক সঙ্গীতের মূর্ছনার মধ্যেই দরাজ গলায় চ-ীপাঠ করেন প্রমথ দত্ত। পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন মনোজ সেনগুপ্ত।

এছাড়া মহালয়া উপলক্ষে স্বামীবাগের লোকনাথ মন্দিরে চ-ীপাঠসহ গরীব-দুস্থদের মাঝে নতুন কাপড় বিতরণ করা হয়। দুস্থদের মাঝে পোশাক বিতরণ করেন মন্দির কমিটির সভাপতি পংকজ দেবনাথ এমপি। এ সময় মন্দির কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ ভক্তবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। দিনটি উপলক্ষে বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারী টেলিভিশন স্যাটেলাইটগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়।

নির্বাচিত সংবাদ