২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট শুরু আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মরুর দেশ আরব আমিরাতের আবুধাবিতে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে আজ মাঠে নামছে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। ২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে সফরকারী শ্রীলঙ্কা দলের টিম বাসে বন্দুকধারীর আক্রমণের পর থেকে পাকিস্তানের মাটিতে নির্বাসিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। ক’দিন আগে অবশ্য জিম্বাবুইয়ে সেখানে ওয়ানডে ও টি২০ খেলে। বড় দলগুলোর সঙ্গে দেশটির সকল দিপক্ষীয় সিরিজ হয়ে আসছে আমিরাতে। সে অর্থে আমিরাত পাকিস্তানের দ্বিতীয় ‘হোম ভেন্যু’। যেখানে দলটির সাফল্যের পাল্লাও ভারি। ২০১২ সালে এই আমিরাতেই ইংল্যান্ডকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করে পাকিস্তান। বল হাতে একাই ইংলিশদের গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন স্পিনার সাঈজ আজমল। এবার তিনি নেই, তবে আছেন লেগস্পিনার ইয়াসির শাহ। সম্প্রতি বল হাতে ‘জাদু’ দেখাচ্ছেন তিনি। লেগি ইয়াসিরকে সামনে রেখেই ইংলিশ-বধের ছক কষছেন মিসবাহ-উল হক।

এমনিতে উপহাদেশের কন্ডিশনে ইংলিশদের অতীত রেকর্ড ভাল নয়। তার ওপর আমিরাতের প্রচ- গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা কুকদের। গত কয়েকদিন প্র্যাকটিসে কঠিন সংগ্রাম করতে দেখা গেছে জো রুট, মঈন আলীদের। ঘরের মাটিতে সদ্য এ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করলেও এই সিরিজটা ইংল্যান্ডের জন্য তাই মোটেও সহজ হবে না। প্রতিকূল পরিবেশ জয় করেই সাফল্য চান সেনাপতি কুক। দলের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা জো রুটও মরিয়া। আগেরবারের মতো লজ্জা এড়াতে চাইলে এবারও পাকিস্তানের নতুন স্পিন আক্রমন সামাল দিতে হবে ইংলিশদের- ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে সিরিজের মুল ‘থিম’ এটাই। ২০১২ সালের ওই সিরিজে ইংল্যান্ডকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার পথে সাঈদ আজমল ২৪ ও অপর স্পিনার আব্দুর রেহমান নিয়েছিলেন ১৯ উইকেট! এবার দুজনই নেই। তবে আছেন ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা লেগস্পিনার ইয়াসির, সঙ্গে অফস্পিনার জুলফিকার বাবর। প্র্যাকটিসে সামান্য অস্বস্তিতে থাকলেও আজ ইয়াসির খেলবেন বলে আশাবাদী পাকিরা।

গত বছর এই আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং তিন মাস আগে শ্রীলঙ্কা সফরে পাকিস্তানের সিরিজ জয়ে মুখ্য ভূমিকা ইয়াসিরের। এবার ইংল্যান্ড-বধেও তাঁকে সামনে রাখতে চান মিসবাহ। এই সিরিজ শেষেই হয়ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে যাওয়া চল্লিশোর্ধ পাক অধিনায়ক বলেন, ‘ইয়াসির যেভাবে বোলিং করছে তাতে সে অন্য দলগুলোর মতো ইংল্যান্ডের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দেখা দেবে। তবে পাশাপশি আমাদের পেসার এবং ব্যাটসম্যানদেরও ভাল করতে হবে।’ আমিরাতে পাকিদের সামলানো সহজ হবে না বলে স্বীকার করেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক। কুক বলেন, ‘আমি জানি আমিরাতে পাকিস্তান গত ছয়-সাত সিরিজের একটিতেও হারেনি। এ থেকেই বোঝা যায় আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জটা কত বড়। বিদেশে জেতাই টেস্ট ক্রিকেটের আসল মহত্ব।’

প্রতিপক্ষ স্পিন নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আজমলের অনুপস্থিতিতে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ দুর্বল হয়েছে বলে আমি মনে করি না। মাত্র ১০ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৬০ উইকেট সোজা ব্যাপার নয়- ইয়াসিরও বড় মাপের স্পিনার। আমিরাতের অস্বাভাবিক গরমে তাঁদের ভালভাবে সামলাতে হবে। আমি আশাবাদী। আমার হাতে মঈন আলী, আদিল রশিদের মতো স্পিনার আছে। এ্যাশেজ জয়ে ব্যাটসম্যানরা উদ্দীপ্ত। এবার ভাল কিছু করতে মরিয়া সবাই।’ পাকিস্তানের ব্যাটিংলাইনও কম শক্তিশালী নয়। গত বছর অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ৪৬৮ রানের পর গত শ্রীলঙ্কা সফরে ম্যাচজয়ী ১৭১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন ইউনিস খান। জাভেদ মিয়াদাদকে টপকে পাকিস্তানের সর্বাধিক রানের মালিক হওয়ার খুব কাছাকাছি তিনি। সঙ্গে অধিনায়ক মিসবাহ, সরফরাজ আহমেদ, আসাদ শফিক, মোহাম্মদ হাফিজ, ফাওয়াদ আলম, শোয়েব মালিককে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং যে কোন বোলিং আক্রমণকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।

তবে পাকিস্তানের দুঃসংবাদ, পায়ের আঙ্গুলে চোট পাওয়ায় এই টেস্টে খেলতে পারছেন না ফর্মের তুঙ্গে থাকা আজহার আলী। তার পরিবর্তে দীর্ঘ ছয় বছর পর সাদা পোশাকে ডাক পেয়েছেন ফাওয়াদ আলম। ওয়ানডের পারফর্মেন্সে দীর্ঘদিন পর সুযোগ হয়েছে অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকেরও। আবুধাবিতে আজহারের পরিবর্তে মালিকের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। ১৯৫৪ থেকে ৭৪ টেস্টে মুখোমুখি হয়ে ইংল্যান্ডের জয় ২২ ও পাকিস্তানের ১৬টিতে। ড্র ৩৬। সর্বশেষ ২০১২-এ দুবাইয়ে ৭১ রানে জিতেছিল পাকিস্তান।