২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারীরা আজও যেখানে মর্যাদাহীন

  • হায়রে সীমান্তের মানুষ দুই

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট ॥ সীমান্তে গ্রামের দরিদ্র নারীরা এ সভ্যসমাজেও ভোগ্যপণ্য। মর্যাদাহীন জীবনযাপন করছে তারা। নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মাফিয়ারা তাদের নানা অপরাধে ব্যবহার করছে। নারী ও শিশুরা এখানে অবৈধ পণ্য পরিবহনে বাহক ও খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করে। সীমান্তে বেশ কয়েকজন নারী রয়েছে, যারা মাফিয়া চক্রের হয়ে সক্রিয়ভাবে নানা অপরাধে কাজ করছে।

সীমান্তে দরিদ্র নারীরা প্রায় প্রতিদিন কোন না কোনভাবে সীমান্তরক্ষী, চোরাচালানি, মস্তান, সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছে। লোকলজ্জার ভয়ে তারা প্রকাশ করে না। সীমান্তের নারীদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় না। বরং প্রতিদিন প্রতিমুহূর্ত আশঙ্কায় থাকে তার পুরুষটি কাজের সন্ধানে বেরিয়ে এই বুঝি লাশ হয়ে ফিরল। সীমান্তে দারিদ্র্যতা জেঁকে বসায় একার আয়ে সংসার চলে না। তাই নারীরাও একটু বেশি পারিশ্রমিকের আশায় সীমান্তবর্তী ভারতের গ্রামগুলোতে চলে যায়। সেখানে সীমান্তরক্ষী, মস্তান, সন্ত্রাসীদের খপ্পরে পড়ে গেলে সম্ভ্রম নিয়ে দেশে ফিরে আসা কষ্টসাধ্য। নারী ও শিশুপাচার নিয়ে কাজ করে এমন এনজিও সূত্রে জানা যায়, নোম্যান্স ল্যান্ডের কৃষিজমিতে নারীরা কাজ করতে যায়। এমন এক শ’ নারী শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছে সম্ভ্রম হারানোর কথা।

বর্তমানে সীমান্তে প্রায় রাতেই সান্ধ্য আইন বলবত রাখছে ভারত। এতে সীমান্ত গ্রামের মানুষ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। লালমনিরহাট জেলার মোগলহাট, দুর্গাপুর ও লোহাখুচি সীমান্তে এমন কিছু চর ও দ্বীপচর রয়েছে যেখানে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জটিল ও কঠিন। ভৌগোলিক অবস্থান এখানে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করে রেখেছে।

সীমান্ত গ্রামে ১০টি বাড়ির মধ্যে একটি বাড়িতে স্বামী পরিত্যক্ত তরুণী আছে। বাবার পরিচয় নেই। এমন সন্তানের মাও আছে। সীমান্ত গ্রামের সমাজে বিষয়টি সকলেই সয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি এক কিশোরীর বিয়ে হয়েছে এক মাস হয়। নববধূ শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছে ১৩ দিন হয়। সেখানে এক ফুটফুটে পুত্রসন্তান জন্ম দেয়। এই নিয়ে তোলপাড়। নববধূকে স্বামী বাবারবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। কিশোরীর মা জানায়, সীমান্তে তার নানীর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান চমন তাকে প্রায় ৯ মাস আগে ধর্ষণ করে। বিষয়টি চেপে যেতে বলে। তা না হলে সীমান্তে মেরে ফেলে লাশ নোম্যান্স ল্যান্ডে ফেলে দেবে। কিশোরীটি ছিল পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি। সীমান্ত গ্রামের অনেক নারীকে ভারতের দিল্লী, কলকাতা ও অসমে ভাল বেতনের চাকরির প্রলোভন দিয়ে দালালরা নিয়ে যায়। পরে তাদের ভারতের পতিতাপল্লীতে দেহ ব্যবসার কাজে লাগায়।