২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল চেয়েছে ৫৫ ছিটবাসী

  • বাংলাদেশেই থাকতে চায়

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ ভারতের নাগরিক হতে ট্রাভেল পাস হাতে পাওয়ার পরও তা প্রত্যাহার করতে ৫৫ নাগরিক আবেদন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বরাবর। বাংলাদেশের নাগরিক হতে সদ্যবিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার ১৩ পরিবারের এসব মানুষ লিখিতভাবে এ আবেদন করে। আকর্ষণীয় প্রলোভন এবং অধিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় ভারতে যেতে নাম লিখিয়েছিল কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে দাশিয়ারছড়ার ২৮১ জন ছিটবাসী। এর মধ্যে ট্রাভেল পাস নেয়নি ৩৫ জন। কিন্তু তাদের মনে এখনও অজানা ভয় কাজ করছে। সত্যিই কি তারা এসব সুযোগ-সুবিধা পাবে। নাকি হতে হবে প্রতারণার শিকার। এরই মধ্যে কয়েকজন ট্রাভেল পাস নিয়ে ভারত ঘুরে এসে হতাশার কথা ব্যক্ত করে। এ খবর জানাজানি হলে ৫৫ নাগরিক তাদের মত পাল্টে এ দেশে থেকে যেতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ অক্টোবর দাসিয়ারছড়া সফরে এলে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এসব মানুষ।

রবিবার দুপুরে দাসিয়ারছড়ার লিটন চন্দ্র, বাবুল চন্দ্র বর্মণ, নারায়ণ বর্মণ, বদিয়ার রহমানসহ কয়েকজন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তারা বাংলাদেশের নাগরিক হতে চান। এ জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেছে তারা। আবেদনকারী ১৩টি পরিবারের মধ্যে ২টি মুসলমান পরিবারও রয়েছে। পরিবারগুলো হলোÑ নারায়ণ বর্মণের চার সদস্য, রামপ্রসাদ বর্মণের চার সদস্য, বাবুল বর্মণের চার সদস্য, শশীভূষণ বর্মণের তিন সদস্য, গজেন্দ্র বর্মণের ছয় সদস্য, কৃষ্ণকান্ত বর্মণের পাঁচ সদস্য, বদিয়ার রহমানের তিন সদস্য, মনিন্দ্র বর্মণে চার সদস্য, মোহন বর্মণের তিন সদস্য, মিলন বর্মণের পাঁচ সদস্য, দধিরাম বর্মণের পাঁচ সদস্য, আব্দুল্লাহ রহমানের পাঁচ সদস্য ও কামনী বর্মণের চার সদস্য ভারত নয়, এখন বাংলাদেশের নাগরিক হতে চায়।

জানা যায়, কুড়িগ্রামের অভ্যন্তরে ১২টি ভারতীয় ছিটমহলের মধ্যে ভারতে যেতে আগ্রহী হয়েছে ৩১৭। এদের মধ্যে ১৫৮ হিন্দু এবং ১৫৯ মুসলমান পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ১৬২টি ছিটমহলের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১১১টি ছিটমহলে হেড কাউন্টিংয়ের পর জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে ভারত যেতে নিবন্ধন করেছে ৯৭৯ জন। অপরদিকে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশী ৫১টি ছিটমহলের প্রায় ১৪ হাজার মানুষের কেউ বাংলাদেশে আসতে আগ্রহ দেখায়নি।