১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নোবেলজয়ী একঝাঁক তরুণ

নোবেল পুরষ্কার সর্বাধিক হলো সম্মানজনক পুরষ্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত কয়েক বছরে নোবেল পুরস্কারের তালিকায় নাম উঠেছে ৮৮৯ জন গুণীজন ও কিছু সংস্থার। এদের মধ্যে

কিছু তরুণ রয়েছেন, যারা মেধা এবং প্রজ্ঞা দিয়ে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছেন। নোবেল কমিটির মূল্যায়ন ও কাজের স্বীকৃতিদানে তারা ছিলেন সর্বাগ্রে।

এসব মেধাবী তরুণদের কাজ ও সাফল্য তুলে ধরেছেন পান্থ আফজাল

পল এ.এম. ডিরাক

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের অধ্যাপক। ডিরাক সমীকরণ তার আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এর সাহায্যে ডিরাক সর্বপ্রথম প্রতিপদার্থের অস্তিত্ব সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন। ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ পল ডিরাক ১৯৩৩ সালে ৩১ বছর বয়সে এডউইন শ্রোডিঞ্জারের সঙ্গে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। তিনি কোয়ান্টাম পদার্থ বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম।

ফ্রেডরিক জি বান্টিং

১৯৩২ সালে ৩২ বছর বয়সে জন জেমস রিকার্ড ম্যাকলেয়ডের সঙ্গে যৌথভাবে চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার পান। মূলত ইনসুলিন আবিষ্কারের জন্য তাদের এই পুরস্কার দেয়া হয়। তিনি কানাডার চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও চিত্রশিল্পী।

রুডলফ ম্যাসবাউয়ার

রবার্ট হফস্টাটারের সঙ্গে গামা রশ্মি নিয়ে গবেষণা করেছেন। ১৯৫৭ সালে আবিষ্কার করেন ম্যাসবাউয়ার ক্রিয়া। যে কারণে ১৯৬১ সালে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতে নেন। তখন তার বয়স ৩২। জার্মানীতে বেড়ে ওঠা।

সাং দাও লি

আমেরিকান পদার্থবিদ লি চীনা বংশোদ্ভূত। ১৯৫৭ সালে চেন নিং ইয়াংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে ৩১ বছর বয়সেই তিনি নোবেল জেতেন। তারা মূলত মৌলিক কণাগুলোর মধ্যে দুর্বল বলের মিথষ্ক্রিয়ায় কোন দর্পণ প্রতিফলন নেই বিষয়টি আবিষ্কার করেছিলেন।

মাইরিড করিগান

তিনি মূলত উত্তর আয়ারল্যান্ডের মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামী ভূমিকা পালন করে আসছেন। সেই লক্ষ্যে শান্তিকামী মানুষের জন্য তিনি একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার কাজ ও বিশ্বাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে ‘দি পিস: ফেইথ এ্যান্ড হোপ ইন নর্দান আয়ারল্যান্ড’ (২০১০) বই থেকে।

এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে শান্তি সম্পর্কে তার ধারণা ও বিশ্বাস। ১৯৭৬ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে বিটি উইলিয়ামস-এর সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

কার্ল ডি এ্যান্ডারসন

পজিট্রন আবিষ্কার করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদার্থবিজ্ঞানে পেয়ে গেলেন নোবেল। তবে তিনি একা নন, এ যাত্রায় তার সঙ্গী ছিলেন আরেক বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রাঞ্জ হেস। বয়স তখন তার ৩১।

তাওয়াক্কুল কারমান

যতদূর জানা যায়, তার পরিবার এ্যানটোলিয়ার কারামান নামক স্থান থেকে ইয়েমেনে এসেছে। জায়গাটি বর্তমানে তুরস্কের অন্তর্ভুক্ত। তুর্কি সরকার তাকে নাগরিকত্ব দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেন। অনুমান করতে কষ্ট হয় না, তাকে নাগরিকত্ব দেয়ার পেছনে তুরস্কের আগ্রহের কারণ ছিল তার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি। ২০১২ সালে যখন তাকে নাগরিকত্ব দেয়া হয় তার আগের বছর তাওয়াক্কুল কারমান নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। নারীর নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তরুণ এই নোবেলজয়ীর জন্ম ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম প্রদেশ তাইয়াজের মেখলাফে। তারিখটি ছিল ১৯৭৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। বাবা ছিলেন রাজনীতিক এবং আইনজীবী। যদিও এই পরিবারে কাব্যচর্চার ইতিহাস ছিল।

ওয়ার্নার হেইডেনবার্গ

জার্মান পদার্থবিদ ওয়ার্নার। কোয়ান্টাম মেকানিকসের জন্য ১৯৩২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে গৌরবময় নোবেল পুরস্কার পান। বয়স তখন মাত্র ৩১ বছর।

মালালা ইউসুফজাই

২০১৪ সালে মালালা ইউসুফজাই মাত্র ১৭ বছর বয়সে সর্ব কনিষ্ঠ নোবেল লরিয়েট হিসেবে এই পুরষ্কার লাভ করেন।

লরেন্স ব্র্যাগ

১৯১৫ সালে তিনি সর্ব কনিষ্ঠ পর্দাথবিদ হিসেবে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। তখন তার বয়স ছিল ২৫। এক্স রে এর ক্রিস্টাল স্ট্রাকচারের এনালাইসিস এর জন্য তিনি এ পুরষ্কার লাভ করেন।