২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জ্যানেট জ্যাকসনের আনব্রেকেবল

আমেরিকার জ্যানেট জ্যাকসন একাধারে স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার এবং অভিনেত্রী। নানা কারণেই এই পপ তারকা আলোচিত, বিতর্কিত ও সমালোচিত। সম্প্রতি তার নতুন এ্যালবাম বেরিয়েছে ‘আনব্রেকেবল’। ৭ বছর আগে ২০০৮ সালে তার ‘ডিসিপ্লিন’ এ্যালবামটি বের হয়। ওটাই ছিল তার সর্বশেষ। এই এত বছর পর এলো ‘আনব্রেকেবল’। এটি তার নিজস্ব লেবেল ‘রাইম নেশন রেকর্ডস’-এর আওতায় আত্মপ্রকাশ করেছে।

জ্যাকসনের তৃতীয় এ্যালবাম কন্ট্রোল ১৯৮৬ সালে বেরোয়। বলতে গেলে ওটাই তাকে তার নিজস্ব সঙ্গীত ভুবনের অধিশ্বরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এ্যালবামটি জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তখন এক নম্বর স্থান পায় এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় দেড় কোটি কপি বিক্রি হয়। পরবর্তী দশকগুলোতে জ্যাকসনের ঝুলিতে সাফল্যের পর সাফল্য ধরা দেয়। ‘লাভ উইল নেভার ডু উইদাউট ইউ’ এবং ‘প্লেজার প্রিন্সিপল’-এর মতো মোহনীয় সঙ্গীত পরিবেশনার দ্বারা তিনি বেতার ও এমটিভিতে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠান করে ফেলেন। সেই সঙ্গে চলে জাঁকজমকময় বিশ্ব সফর ও ম্যাগাজিনগুলোর আকর্ষণীয় প্রচ্ছদকন্যা হওয়ার সুযোগ। অবশ্য কেলেঙ্কারিরও কম জন্ম দেননি জ্যাকসন। সবচেয়ে কলঙ্কজনক মুহূর্তটা ছিল ২০০৪ সালের সুপার বোলের বিরতির সময়কার এক অনুষ্ঠানে যেখানে লাখো দর্শক শ্রোতার সামনে জ্যাকসনের বুকের ডান দিক উন্মুক্ত করে ফেলা হয়। টেলিভিশনে এভাবে যৌনতা প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে আজও বিতর্ক চলে আসছে। জ্যাকসন পরে ঐ ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ওটা ছিল নিতান্তই দুর্ঘটনা। এভাবে কতবার কতভাবে যে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জ্যানেট জ্যাকসন, তার কোন ঠিক নেই।

নতুন এ্যালবাম ‘আনব্রেকেবল’-এর নামটি জ্যাকসনের ক্যারিয়ারের সঙ্গে মানানসই। এতে প্রাণোচ্ছলতা এবং বহির্মুখী ও অন্তর্মুখী প্রেমের সন্ধান নিয়ে কয়েকটি গান আছে। তার সেরা কর্মের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গানগুলো সাহসিকতা ও আত্মার অনুসন্ধিৎসায় পরিপূর্ণ। এ্যালবামটির শুরু হয়েছে এমন এক টাইটেল ট্র্যাক দিয়ে যা জ্যাকসন ভক্তদের কাছে ভক্তিমূলক মনে হতে পাবে। যেমন: ‘নেভার ফর এ সিঙ্গল মোমেন্ট ডিড আই এভার গো উইদাউট ইউর লাভ।’ এ গানটিতে জ্যাকসন যেন হৃদয়ের সমস্ত আবেগ ঢেলে দিয়েছেন। ‘নাইট’ গানটি নব্বইয়ের দশকের প্রতি নস্টালজিক করে তোলে। এছাড়া আফটার ইউ ফল, দি গ্রেট ফরএভার, ব্রোকেন হার্ট হিলস মুহূর্তেই শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে নেয়।

আনব্রেকেবল-এর আনন্দ ও প্রাণোচ্ছলতার একাংশ এসেছে নতুন ও পুরাতনের মধ্যকার ব্যবধান অনায়াস ভঙ্গিতে মুছে দেয়ার মধ্য থেকে। দি গ্রেট ফরএভার গানটির মধ্যে ভাই মাইকেল জ্যাকসনের সুর ও ছন্দের প্রতিফলন আছে। মনে হতে পারে যে, মাইকেল জ্যাকসনই স্বয়ং গাইছেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর জ্যানেটের এটাই প্রথম এ্যালবাম। গত ১৫ বছরের মধ্যে এটাই জ্যানেটের সেরা এ্যালবাম বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বিদগ্ধজন।

অনুবাদ : এনামুল হক

সূত্র: টাইম