১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লুই কানের মূল নকশা নেই, ঝুলে গেল সচিবালয় স্থানান্তর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল নক্সা ছাড়া শেরেবাংলা নগরের নতুন সচিবালয় নির্মাণ হচ্ছে না। এ কারণে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সচিবালয় নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সেক্ষেত্রে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মূল নক্সা আনতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২ হাজার ২০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে এ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু সে সময় মূল নক্সা না থাকায় শুধু নক্সার ফটোকপির উপর নির্ভর করে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করায় অনুমোদন দেয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, লুই আই কানের মূল নক্সা ছাড়া নতুন সচিবালয় হবে না। সুতরাং দ্রুত এর মূল নক্সা দেশে নিয়ে এসে সে অনুযায়ীই সচিবালয় তৈরি করা হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয় এর মূল নক্সা আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে। সেখান থেকে এটি নিয়ে আসতে ৪ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে অর্থের সংস্থান করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

একনেক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আযম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, আইএমইডির সচিব মোহাম্মদ শহীদ উল্লা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সচিব কানিজ ফাতেমা, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আরাস্তু খান, হুমায়ুন খালিদ, গোলাম ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মূল নক্সায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর আছে কিনা সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। সুতরাং এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সেটি সরিয়ে দেয়া হবে কিনা। মূল নক্সা না আসা পর্যন্ত নতুন সচিবালয় স্থাপন প্রকল্পটি স্থগিত থাকবে।

মন্ত্রী জানান, রাজধানীর হেয়ার রোড ও মিন্টো রোডের জন্য মিনি মাস্টার প্ল্যান তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ এলাকার একটি আলাদা বৈশিষ্ট ও সৌন্দর্য রয়েছে। সেখানে উঁচু বিল্ডিং ও অপরিকল্পিত বিল্ডিং তৈরি করে সৌন্দর্য নষ্ট করা যাবে না। মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য বজায় রেখেই সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে।

অর্থ সঙ্কট এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আগ্রহের অভাবেই দীর্ঘদিন এটি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ঝুলে ছিল। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার এ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়। অনুমোদন পেলে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পটির সমাপ্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান বাংলাদেশ সচিবালয় তৎকালীন প্রাদেশিক সরকারের সময়ে নির্মিত যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। বর্তমান সচিবালয় কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণের কোন সুযোগ নেই। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ভুক্ত অনেক দফতর সচিবালয়ের বাইরে অবস্থিত হওয়ায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমন্বয় সাধনে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বর্তমান সরকার এর আগের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরই নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯৭৪ সালে শেরে-ই-বাংলা নগরে ৪টি ৯ তলা ভবনসহ অফিস, ব্যাংক, অডিটরিয়াম, মসজিদ, কার পার্কিং ইত্যাদি সম্বলিত জাতীয় সচিবালয় নির্মাণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড উইয়িসডোম এ্যান্ড এ্যাসোসিয়েট নামক একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। এছাড়া ১৯৯৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে ১০টি ব্লকে ১৪ তলার ভিত্তিসহ ৯ তলা বিশিষ্ট প্রধান ভবন নির্মাণ করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লুই আই কানের নক্সা অনুযায়ী উক্ত স্থানে ভূমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় স্থাপত্য অধিদফতর কর্তৃক নক্সাটি সংশোধন করা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই ১০ একর জমির উপর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ৩২ একর জমি ৪টি ব্লকে ভাগ করে বিবেচ্য প্রকল্পে সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২টি বড় ব্লকে ৩২টি বড় মন্ত্রণালয় এবং অবশিষ্ট ২টি ছোট ব্লকে ১৬টি ছোট মন্ত্রণালয় এর স্থান সংকুলান করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় অডিটরিয়াম, সম্মেলন কেন্দ্র, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, ৯৪৬টি কার পার্কিংসহ কাফেটারিয়ার সংস্থান রাখা হয়েছিল।