২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবার সরকারীভাবে লোক পাঠানো হবে মালয়েশিয়ায়

  • মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত

ফিরোজ মান্না ॥ জনশক্তি নিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়ার বার বার অবস্থান পরিবর্তন করায় এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জিটুজি প্লাস চুক্তি করার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত জিটুজি চুক্তির আওতায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপর এ বছরের জুনে বিটুবি পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আরেকটি চুক্তি হয় মালয়েশিয়া বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। এই চুক্তিও কোন কাজে আসেনি। নানা জটিলতায় বিটুবি পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে যায়। এবার তারা জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাঝে আবার দেশটির একজন সাবেক মন্ত্রীর জনশক্তি আমদানির প্রতিষ্ঠান সিনারফ্লাক্সের মাধ্যমে এককভাবে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, আমরা মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই। বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) পদ্ধতিতে কর্মী নিতে চায় না মালয়েশিয়া। তাই বিটুবির মতোই বিদ্যমান জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তি সংস্কার করে জিটুজি প্লাস হচ্ছে। জিটুজি প্লাস এটাও সরকার টু সরকার। তবে এখানে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকার ইচ্ছে করলে নিয়োগ করতে পারে। আগামী এক মাসের মধ্যে উভয় দেশ একটি সমঝোতা চুক্তি সই হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। জিটুজি প্লাস নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করেছে। খসড়াটি মন্ত্রীসভায় তোলা হবে। মন্ত্রীসভার অনুমোদন পেলে চলতি মাসের শেষের দিকে একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সফরে যাওয়ার কথা আছে। ওই সময়েই ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতার চুক্তি সই হতে পারে। এ চুক্তি হলে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও দেশটিতে কর্মী পাঠাতে পারবে।

সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় জিটুজি পদ্ধতি কর্মী পাঠানোই অত্যন্ত ধীর গতি হওয়ায় হাজার হাজার বাংলাদেশী সমুদ্রপথে মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে দেশটিতে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় এসব মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশীর গণকবর আবিষ্কার হওয়ার বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠে। পরে মালযেশিয়া মানবপাচারের ঘটনা রোধ করতে বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে এ বছরেই ৫ লাখ কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানায় মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। এই ঘোষণার ৫ মাস কেটে গেলেও কর্মী নিয়োগের বিষয়ে কোন অগ্রগতি নেই। বার বার মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে যাচ্ছে। জিটুজি থেকে বিটুবি এখন আবার জিটুজি প্লাস। মাঝখানে মালয়েশিয়ার সাবেক এক মন্ত্রীর সিনারফ্লাক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান এককভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করবে। এখানে সরকারী সংস্থা বোয়েসেল আর বেসরকারী জনশক্তি রফতানিকারক কোন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা থাকবে না। এমন এক প্রস্তাব নিয়ে জনশক্তি রফতানির বিষয়টি অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে যায়। পরে বাংলাদেশের আপত্তির মুখে ওই প্রস্তাবটি আর কার্যকর হয়নি। মালয়েশিয়া জিটুজি প্লাস নামে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অফিসিয়ালি জানিয়েছে। জিটুজি প্লাস নিয়ে আলোচনা করতে এ মাসেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়য়ের প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা রযেছে। মালয়েশিয়ার যাওয়ার জন্য দেশে সাড়ে ১৪ লাখ কর্মী নিবন্ধন করে বসে রযেছেন। বার বার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ার জন্য নিবন্ধনকারীদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন পথ নেই।

এদিকে, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া বার বার পিছিয়ে যাওয়ার কারণে বাজারটি আদৌ ফিরে পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ বিরাজ করছে। আবার একটি স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমবাজারটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় তৎপর রয়েছে। তারা চায় বৈধভাবে বাজারটি তৈরি হলে অবৈধ পথে কর্মী নিয়োগ কমে যাবে। তারা আবার মালয়েশিয়ার কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নানাভাবে দেনদরবার করে যাচ্ছে। অনেকে দেশটিতে কর্মী নিয়োগের ঘোষণার পরই অফিস খুলে বসেছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানকারী বাঙালী ও ওই দেশের লোকজন মিলে তৈরি করেছে সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটগুলো অনেক ক্ষমতাশালী। তারা চায় তাদের মাধ্যমে কর্মী নিযোগ করতে। এতে কর্মীদের কাছ থেকে বিরাট অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে পারবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলে তারা এই বিরাট অংকের টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন। প্রভাবশালী এই গ্রুপটি অনেক আগে থেকেই সক্রিয় রয়েছে।