২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাদুঘরে পিতা-পুত্রের মিলনাত্মক লোকনাট্য পরিবেশনা ‘যক্ষগান’

জাদুঘরে পিতা-পুত্রের মিলনাত্মক লোকনাট্য পরিবেশনা ‘যক্ষগান’
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শরতের বিদায়বেলায় যেন দেখা মিলল বর্ষার রূপ। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকেই থেমে থেমে ঝরেছে বারিধারা। মাঝে মাঝে উঁকি দিয়েছে সূয্যিমামা। দিনভর শহরজুড়ে বয়ে গেছে রোদ-বৃষ্টির খেলা। এমন বৃষ্টিস্নাত দিনের সন্ধ্যায় রাজধানীর সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য এক আয়োজন হয়ে গেল জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে। পরিবেশিত হলো যক্ষগান শীর্ষক ভারতের কর্ণাটকী লোকানাট্য। যুদ্ধাবস্থা থেকে পিতা ও পুত্রের মিলনাত্মক কাহিনীর ভেতর দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে এই লোককাহিনীর। মঞ্চজুড়ে বাজনা ছড়িয়ে দেন যন্ত্রশিল্পী, কত্থকের বয়ানে চলতে ঘটনার বর্ণনা আর নৃত্যচ্ছলে অভিনেতারা এগিয়ে নিয়ে কাহিনীকে। এমন বিচিত্র স্বাদের উপস্থাপনাটি শ্রোতা ও দর্শকদের জন্য সহজাতভাবেই ধরা দেয়া আনন্দের উপলক্ষ হয়েছে। পরিবেশনাটি উপস্থাপন করে ভারতের শিল্পীরা। মহাকাব্য মহাভারত ও রামায়ণের শত শত বর্ষের পুরনো গল্পের ছায়ায় বেড়ে উঠেছে এই লোকনাট্যের এই শিল্পমাধ্যমটি। আর লোকজ এই শিল্পধারায় একই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাহিত্য, সঙ্গীত, নৃত্য, অভিনয় ও আলাপচারিতা। ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব কালাচারাল রিলেশন (আইসিসিআর)।

মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইজিসিসির পরিচালক জয়শ্রী কু-ু।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে দূরত্বের যে সম্পর্ক দেখেছিÑ সেই পুরনো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাঝে হারানোর কিছুই নেই। এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। দুই দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতা জানতে ও বুঝতে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করবে।

পঙ্কজ শরন বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিনিময় হচ্ছে। ভারতের প্রচুর শিল্পীরা এখানে আসছেন, বাংলাদেশের শিল্পীরাও যাচ্ছেন। তবে তা সংখ্যায় কম। বাংলাদেশের শিল্পীদের পশ্চিমবঙ্গে পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও যেতে হবে। তাহলে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এরা জোরদার হবে।

অতিথিদের স্বল্প কথন শেষে শুরু হয় পরিবেশনা। মহাকাব্য রামায়ণের রামচন্দ্র এবং তার দুই যমজ ছেলের মিলনাত্মক কাহিনীর ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলে ঘটনার পরম্পরা। অযোধ্যার রাজা রামচন্দ্র। তার অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া নির্বিঘেœ পৃথিবী প্রদক্ষিণ করলে তবেই পৃথ্বীশ্বর হবেন তিনি। হঠাৎ খবর এলো দুই দুষ্টু বালক আটকে রেখেছে তার যজ্ঞের ঘোড়াকে আটকে রেখেছে। মহাবীর রামচন্দ্র যজ্ঞের ঘোড়াকে উদ্ধার করতে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন দুই বালকের সঙ্গে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে সীতা দেবী জানালেন ওই দুই যমজ বালক রামচন্দ্রের সন্তান। যারা প্রতিপালিত হচ্ছিলেন মহির্ষী বাল্মিকীর আশ্রমে। পরিচয় পেয়ে দুই পুত্র আর স্ত্রীকে নিয়ে অযোধ্যায় ফিরে গেলেন রামচন্দ্র। যুদ্ধের বদলে স্থাপিত হলো শান্তি ও সম্প্রীতি। লোকনাট্যটির চরিত্র রূপায়ণকারীদের জমকালো পোশাকের সঙ্গে মাথায় উঠান শিরোস্ত্রাণ আর মুখে ছিল চড়া সাজসজ্জা। নূপুরের ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চোখের চাহনিতে তারা তুলে আনেন বিভিন্ন অভিব্যক্তি।

মোট আট সদস্যের দল এ পরিবেশনায় অংশ নেয়। যার নেতৃত্ব দেন নাগরাজ যোশী। তিনি গেল সাড়ে তিন দশক তার গানের দল ‘শবর’-এর মাধ্যমে কয়েক শ’ যক্ষগানের আয়োজন করেছেন।

এর আগে সোমবার এ লোকনাট্যটি পরিবেশিত হয় চট্টগ্রামে। এই পরিবেশনা আজ বুধবার সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমিতে। কাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে খুলনা ক্লাবে।

কাজী সালাউদ্দিনের চিত্রপ্রদর্শনী অর্গানিক সিটি ॥ রাজধানীর ধানম-ির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হলো শিল্পী কাজী সালাউদ্দিনের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। এই শিল্প আয়োজনে ঠাঁই পেয়েছে তেলরংয়ে আঁকা ৩৯টি চিত্রকর্ম ও একটি স্থাপনাশিল্পী। শিল্পীর ৩৩তম এই একক প্রদর্শনীটির শিরোনাম অর্গানিক সিটি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলিয়ঁসের কাফে-লা ভেরান্দায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থপতি জালাল আহমদ এবং শিল্পী ও সম্পাদক মোস্তফা জামান। সভাপতিত্ব করেন আলির্য়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক ব্রুনো প্লাস। অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন শিল্পী কাজী সালাউদ্দিন।

প্রদর্শনীর ছবিগুলোর শিল্পী খুঁজে ফিরেছেন ৪০০ বছরের পুরনো শহর ঢাকার আদি সৌন্দর্য। রঙের ওপর রং চাপিয়ে চিত্রপটে পুরান ঢাকার পুনরুজ্জীবন দিতে চেয়েছেন। পঞ্চদশ শতকে মুঘলদের হাতে ঢাকা শহরের পত্তন হয়। তারপর ব্রিটিশরা ঢাকাকে বানায় পূর্ববঙ্গের রাজধানী। আর গত চার দশক ধরে ঢাকাকে খাড়াখাড়ি বড় করার প্রয়াস জারি রয়েছে। ব্যবসাদারের ব্যবসার তোড়ে, নগরকর্তার রাস্তার মোড়ে আর বিনোদনপিয়াসীর বিলবোর্ডের ঘোরে ঢাকা বিভ্রান্ত আজ। নিজস্বতা টিকিয়ে রাখার জোর লড়াইয়ে ব্যস্ত এখনকার ঢাকা। ঢাকাবাসী নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা পাচ্ছে না বিশেষ করে পুরান ঢাকা সত্যি সত্যি দিকভ্রান্ত। এই অবস্থায় শিল্পের আশ্রয়ে কাজী সালাউদ্দিন প্রশ্ন করেনÑ এই ঢাকা কি আমরা চেয়েছিলাম? সময় কিছু পরিবর্তন আনবেই তবে তা এতো গতানুগতিক না হোক। শিল্পীর বিশ্বাস করেন পুরান ঢাকার এখনও মানুষকে অনেক কিছু দেয়ার আছে যেমন মহল্লাবৎসলতা, একতা ও সৌহার্দ্য। নগরায়ন ব্যক্তি মানুষ স্বার্থপর করে তুলছে। সালাউদ্দিন তাই তার ছবি দিয়ে নতুন করে লড়াইটা উস্কে দিলেন। রেখা ও রঙে পুরান ঢাকা কথা ফুটে উঠছে। ছবিগুলোয় আছে তার শৈশব যেটি পুরান ঢাকার গন্ধমাখা। ছবির ছন্দে তিনি সেসব কথাই বলেছেন।

১৯ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীটি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। সোম থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ।

জাদুঘরে নভেরার ভাস্কর্য হস্তান্তর ॥ বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যের প্রতিকৃৎ নভেরা আহমেদের ৩৪টি ভাস্কর্য ও তার সাম্প্রতিক চিত্রকর্মের ২৮টি অনুকৃতি নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী চলছে জাতীয় জাদুঘরে চলছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের সদর দফতরে নভেরা আহমেদের একটি শিল্পকর্ম সংরক্ষিত ছিল। মঙ্গলবার এই শিল্পকর্মটি জাদুঘরের প্রদর্শনীতে প্রদর্শনের জন্য হস্তান্তর করা হয়। ভাস্কর্যটি ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি ভাগে নভেরা আহমেদ লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম দিকের কাজ। ভাস্কর্যটির উচ্চতা ব্যাসসহ ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি।

ফরিদপুরে মাসব্যাপী হুমায়ূন জন্মোৎসবের উদ্বোধন ॥ নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ফরিদপুর জেলার হুমায়ূন স্মৃতি পরিষদ মাসব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। জনকণ্ঠের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয় শহরের আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। হুমায়ূন আহমেদ রচিত গ্রন্থ, স্মারকগ্রন্থ, নাসির আলী মামুনের তোলা আলোকচিত্র, পত্র-পত্রিকার কাটিং প্রদর্শনী এবং শতাধিক ছাত্রীর অংশগ্রহণে হুমায়ূন আহমেদ রচিত গ্রন্থের সমবেত পাঠের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ব শিশু দিবসের অনুষ্ঠানমালা ॥ বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের তৃতীয় দিন ছিল মঙ্গলবার। এদিন স্বল্প সুবিধাভোগী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু সমাবেশ নিয়ে আয়োজন ছিল। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, জাতীয় শিশু অধিকার ফোরাম ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজনে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা, পুরস্কার বিতরণী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।