২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠানের আইন সংশোধন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর পৌর নির্বাচনের মাধ্যমেই তা কার্যকর করতে চায় নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি। আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেশের আড়াই শোর মতো পৌরসভায় নির্বাচনের তোড়জোর চলছে ইসিতে। কমিশন বলছে নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হলে দলীয় প্রতীকের মাধমেই এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। এ জন্য বিভিন্ন পদের জন্য আলাদা রংয়ের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীর অনুকূলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে করার জন্য আইনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপত্তিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আইন সংশোধনের প্রস্তাবেব চূড়ান্ত অনুমোদ দেয়া হয়। এর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠানের সব বাধা দূর হয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনগুলো এখন থেকেই দলীয় ভিত্তিতে করার চিন্তাভাবনা করছে ইসি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদনের আগে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠানের কোন বিধান ছিল না। যদিও প্রত্যক্ষভাবে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে এতদিন নির্বাচন হয়ে আসছিল। কিন্তু প্রকাশ্যে দলীয় প্রধানের ছবি বা প্রতীক ব্যবহারের বিধান নিষিদ্ধ ছিল। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দলীয় অভিযোগ ইসি এতদিনে আমলে নেয়নি। শুধু প্রার্থীর ব্যক্তিগত অভিযোগই বিবেচনায় নেয়া হতো। কিন্তু এ আইন অনুমোদনের ফলে এখন থেকে প্রার্থী মনোনয়ন থেকে শুরু করে সব কিছু করা হবে দলীয়ভাবে।

আগের বিধান অনুযায়ী স্থানীয় সব ধরনের নির্বাচনে দলীয় কর্মকা- নিষিদ্ধ ছিল। এমনকি কোন প্রার্থী সে যে কোন দলের হোক না কেন আইন অনুযায়ী দলের প্রধানের ছবি প্রতীকে ব্যবহার করতে পারত না। আবার নির্বাচনে এতদিনে রাজনৈতিক দলের জন্য নিবন্ধিত কোন প্রতীক নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করেনি ইসি। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য আইন অনুযায়ী আলাদা প্রতীক বরাদ্দ রয়েছে। সেখান থেকে প্রার্থী পছন্দ অনুযায়ী বা লটারির মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হতো। এ ছাড়াও আগের আইন অনুযায়ী সরকার বা বিরোধীদলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল।

তবে এতদিনে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে কাগজে কলমে নির্দলীয় ভোট অনুষ্ঠিত হলেও জনগণ দলীয় প্রার্থী বিবেচনায় ভোট দিয়েছে। এমনকি সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও এই পরিচয় মুখ্য হয়ে উঠেছে। ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রেও দলীয় প্রচারে প্রাধান্য দেখা গেছে। ফলে এতদিনে নামেমাত্র নির্দলীয় হলেও অনেকদিন ধরেই স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় পরিচয় মুখ্য হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আইনের সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদনের ফলে এখন থেকে সব স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় পরিচয়েও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দূর হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহ নেওয়াজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে পৌরসভার নির্বাচন হবে। আর পৌর নির্বাচন থেকেই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করতে চায নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ২৫০টির মতো পৌরসভায় নির্বাচন হবে। আইন অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীক নিয়ে। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বা অন্য পদগুলোর জন্য আলাদা রঙের ব্যালট পেপার থাকবে। দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনের জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এজন্য কমিশনেরও কিছু বিধি সংশোধন করতে হবে। সংশোধন করেই নির্বাচন করা হবে। প্রয়োজনে বেশি লোকবল নিয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, আইন না হয়ে অধ্যাদেশ হলেও বেশি পরিশ্রম করে নির্বাচন করব, যাতে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে নির্বাচন করতে পারি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন অনুমোদনের পর ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, সরকার যদি আগামী সাতদিনের মধ্যেই দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের অধ্যাদেশ দেয় তবে আগামী ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনও দলীয়ভাবে করা যাবে। সরকার যদি আগামী সাতদিনের মধ্যেই অধ্যাদেশ করে দেয় তবে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচনও দলীয়ভাবে করা যাবে।

নির্বাচিত সংবাদ