২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবশেষে রংপুরেই দাফন করা হলো হোশি কুনিওর লাশ

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর ॥ নানা নাটকীয়তা আর গোপনীয়তার মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার ভোরে অবশেষে জাপানী নাগরিক হোশি কুনিওর (গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাত আনুমানিক তিনটায় জাপানী প্রতিনিধি, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা সিটি কর্পোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং অন্যদের উপস্থিতিতে লাশ দাফন করা হলেও মঙ্গলবার দাফনের পর থেকেই বিষয়টি গোপন রাখে স্থানীয় প্রশাসন। পরে দুপুর ১২টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রিয়সিন্ধু তালুকদার তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দাফনের বিষয়টি স্বীকার করেন।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু জানান, সোমবার রাত দু’টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ তার কাছে মুন্সিপাড়ায় কুনিওর লাশ দাফনের লিখিত অনুমতি নেয়। পরে তিনি ওই এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজামুল হাসান বাদলকে কবরস্থানে দাফনের বিষয়ে দায়িত্ব দেন। পরে রাত আড়াইটায় মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রিয়সিন্ধু তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন ও আব্দুল্লাহ আল ফারুকসহ অন্যরা কুনিওর লাশ মর্গ থেকে বের করে জাপানী তিন প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা। এরপর সেখান থেকে তার লাশ নিয়ে আসা হয় মুন্সিপাড়া কবরস্থানে। সেখানে রাত আনুমানিক তিনটায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের পর সকাল থেকেই নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক, সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু কেউই মিডিয়ার কাছে কোন কিছু স্বীকার করেননি।

শুধুমাত্র সিটি মেয়র সাংবাদিকদের জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রাত দু’টায় পুলিশ তার কাছ থেকে মুন্সিপাড়ায় লাশ দাফনের বিষয়ে অনুমতি নিয়ে যায়। তবে দাফন হয়েছে কী না তা তিনি বেলা ১১টা পর্যন্তও মিডিয়ার কাছে স্বীকার করেননি। ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজামুল হাসান বাদল জানান, সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। লাশের দাফন নিয়ে কেন এই নাটকীয়তা ও গোপনীয়তা এ সম্পর্কে কিছু বলতে রাজি হননি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রিয়সিন্ধু তালুকদার এবং সিটি মেয়র ঝন্টু। তবে কুনিও যেই এলাকায় থাকতেন সেই মুন্সিপাড়া এলাকাবাসী জানান, অল্প সময়ের মধ্যে কুনিও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। সঙ্গত কারণেই দিনের বেলা তার লাশ দাফন করা হলে তার জানাজায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হতো।

শেষ ইচ্ছে পূরণ সাড়ে তিন হাত কবরে ॥ মানুষের ভালবাসার কারণে ইচ্ছে ছিল রংপুরেই স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন হোশি কুনিও ওরফে গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া। এজন্য বিয়েও করতে চেয়েছিলেন রংপুরে, হয়েছিলেন মুসলিমও। শেষ পর্যন্ত থাকলেনও রংপুরেই। কিন্তু জীবিত অবস্থায় নয়, চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে শেষ ঠিকানা সাড়ে তিন হাত কবরে।