২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিনব উদ্ভাবন

ফসলের মাঠ থেকে কাক তাড়ানোর জন্য কাকতাড়ুয়ার প্রচলন কবে শুরু হয়েছিল সেটি সহজে জানা যায় না। তবে এই কাকতাড়ুয়া কেবল কাক নয়, বাদুড় এবং ক্ষতিকর উড়ন্ত পতঙ্গকুলকে ভয় দেখিয়ে ফসল রক্ষায় ভূমিকা পালন করে থাকে, এটি গ্রামের শিশুরাও জানে। ইঁদুর বড় চতুর প্রাণী। কাকতাড়ুয়াকে সে থোড়াই কেয়ার করে; এসব ঠুঁটো বিষয় তার ভালই চেনা। তবে শব্দকে সমীহ করে মূষিককুল। তাদের তাড়ানোর জন্য চাষীরা টিন বা পিতলের বাক্সে লাঠির বাড়ি দিয়ে বিকট শব্দ তৈরি করে ভয় দেখানোর কাজটি করে আসছে বহু যুগ ধরে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একজন পাহারাদারের দরকার পড়ে, যিনি ধাতব বক্সে বাড়ি মেরে আওয়াজ তুলবেন। রাতবিরাতে ইঁদুরের উৎপাত থেকে মুক্তির জন্য ওই পাহারাদারটিকে রাতভরই জেগে থাকতে হবে। বরং মানুষের সজাগ শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া কিভাবে ইঁদুরের কানে শব্দের ধাক্কা মেরে তাদের তফাত নেয়া যায়- এই ভাবনা থেকে আমাদের কৃষি বিভাগ অভিনব এক ব্যাপার উদ্ভাবন করে ফেলেছে। এখন আর দুরদুর করে ইঁদুর তাড়ানো লাগছে না। বরং ইঁদুরই দুরু দুরু বক্ষে ফসলের মাঠে প্রবেশ করতে গিয়ে লাগাতার বিচিত্র আওয়াজ শুনে দৌড়ে পালাচ্ছে। এই দারুণ বুদ্ধির জোরে ইঁদুরের লোভী দাঁতের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে ফসল।

উল্লেখ্য, ইঁদুরের উৎপাতে বাধ্য হয়ে এক মরিয়া উপায় অবলম্বন করে ময়মনসিংহের কুড়িপাড়া গ্রামের এক কৃষক। ইঁদুর ধরতে তার মতো পারদর্শী লোক ময়মনসিংহ অঞ্চলে খুব কমই আছেন। কৃষিকাজ করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, ইঁদুর হচ্ছে ফসল ও কৃষকের শত্রু। এর পর থেকেই তিনি ইঁদুর ধরার কৌশল শেখেন এবং ইঁদুর মারা শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে কৃষি বিভাগ ইঁদুর মারার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করার পর দ্বিগুণ উৎসাহে তিনি এ কাজে নেমে পড়েন। সেই শুরু। ২০০৬ সালে সাত হাজার ৭৫০টি ইঁদুরের লেজ জমা দিয়ে ওই কৃষক ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও কৃষি বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। ‘ইঁদুর ধরুন, ইঁদুর মারুন, ইঁদুরমুক্ত খামার গড়ুন’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দু’মাস নিধনযজ্ঞ চলবে। বলা বাহুল্য মাঠের ফসল উৎপাদন ও গুদামজাত শস্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইঁদুর এক বিরাট সমস্যা। ইঁদুর আকারে ছোট হলেও বছরে সবধরনের প্রায় ১০-১২শ’ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নষ্ট করে থাকে, যার বাজারমূল্য ৭শ’ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে ইঁদুর নষ্ট করে- গম শতকরা ৪ থেকে ১২ ভাগ, ধান শতকরা ৫ থেকে ৭ ভাগ, গোল আলু ৫-৭ ভাগ। এরা বছরে শুধু ধান ও গমের প্রায় ৫শ’ মেট্রিক টন পর্যন্ত ক্ষতি করে থাকে।

ইঁদুর তাড়ানোর নতুন পদ্ধতি হিসেবে আমনের ক্ষেতে পলিথিনের ঝা-া উড়িয়ে সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা। বাতাসের কারণে পলিথিন পতপত শব্দ করে ওড়ে আর ইঁদুর মনে করে কেউ আসছে, তাই ভয়ে পালিয়ে যায়। কৌশলটি ভালই কাজ দিচ্ছে। অবশ্য বায়ুপ্রবাহ মন্থর হলে কৌশলটি কতটুকু কাজে দেবে সেটি দেখতে হবে। আমরা জানি, প্যাঁচা, গুঁইসাপ, বেজি, শিয়াল, বিড়াল জাতীয় প্রাণীর প্রধান খাদ্য হচ্ছে ইঁদুর। এ প্রাণীগুলোকে সংরক্ষণ করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ ইঁদুর সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে বলে পরিবেশবাদীদের ধারণা।