২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষি ও এসএমইতে ঋণ বিতরণ বাড়ছে

  • নারী ও নতুন উদ্যোক্তাদের ১০ শতাংশের কম সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকির ফলে কৃষি ও এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ছে। বেড়েছে ঋণ পাওয়া উদ্যোক্তার সংখ্যাও। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই (জুলাই-আগস্ট) মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে প্রায় চার লাখ ৩০ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে ৫৬ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা এসএমই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৯.৫৩ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসএমইতে ঋণের সুদহার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচী চালু করে নারী ও নতুন উদ্যোক্তাদের ১০ শতাংশের কম সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। আগের তুলনায় ব্যাংকগুলোও কৃষিঋণ বিতরণে বেশি মনোযোগী হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাইতে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ কমলেও আগস্টে বেড়েছে। আগস্টে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ৯৫২ কোটি টাকা, যা জুলাই মাসের চেয়ে সাড়ে ১০ শতাংশ বেশি। এটি গেল অর্থবছরের আগস্ট মাসের চেয়ে প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই (জুলাই-আগস্ট) মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বন্যার কারণে ফসলের জমি প্রস্তুত করতে বিলম্ব হওয়ায় জুলাইতে কৃষিঋণ বিতরণ কমেছিল। কিন্তু বন্যার পর কৃষক থেকে ঋণের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারির কারণে ব্যাংকগুলোও এ খাতে ঋণ বিতরণে মনোযোগী হয়েছে। এজন্য আগস্টে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোও কৃষিঋণ বিতরণে বেশি মনোযোগী হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, টানা কয়েক অর্থবছরে কৃষিখাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে। গেল অর্থবছরও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা গেল অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ বা ৮৫০ কোটি বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ব্যাংকগুলো মোট কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ১ হাজার ৮১৪ কোটি ৩৪ লাখ, যা গেল অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। গেল অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছিল ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছিল ৮৬১ কোটি ৯১ লাখ, যা গেল অর্থবছরে জুলাই মাসের চেয়ে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ কম ছিল। অন্যদিকে, গেল অর্থবছরের আগস্টে কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৮০২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, গেল অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩ শতাংশ বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয় ব্যাংকগুলো। এছাড়া গেল অর্থবছরে ঋণের ৭০ শতাংশ আদায় হয়, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে, গেল অর্থবছরে আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদ হারে সাড়ে ৯৫ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮২ শতাংশ অর্জিত হয়।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। বেড়েছে ঋণ পাওয়া উদ্যোক্তার সংখ্যাও। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জানুয়ারি-জুন সময়ে প্রায় চার লাখ ৩০ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে ৫৬ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৯.৫৩ শতাংশ বেশি। আগের বছরের প্রথম ছয় মাসে দুই লাখ ৬২ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে ৪৭ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, কম সুদের কারণে রফতানিমুখী বড় শিল্প উদ্যোক্তারা এখন বিদেশ থেকে বেশি ঋণ নিচ্ছেন। বিনিয়োগ বোর্ডের (বিওআই) মাধ্যমে গত ছয় বছরে বেসরকারী খাতে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের বিদেশী ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর গত জুন পর্যন্ত এক বছরের কম মেয়াদি বিদেশী ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৯০ কোটি ডলার। ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে যা ২৯৮ কোটি ডলার ছিল। এতে করে দেশীয় উৎস থেকে বড় শিল্প উদ্যোক্তারা আগের মতো আর ঋণ নিচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো তাদের নীতি পাল্টেছে। কেননা একটি সময় এসএমই খাতে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো তেমন আগ্রহ দেখাত না। নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে এ খাতের দিকে ঝুঁকছে।