২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রস্তুতি ম্যাচ ও জিম্বাবুইয়েতে সিরিজ খেলতে আজ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এ সফরে ক্রিকেটারদের একটি লক্ষ্য, নিজের পারফর্মেন্সে আরও উন্নতি করা ও উপভোগ করে খেলা।

শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবে দল। এরপর যাবে জিম্বাবুইয়েতে। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে আইরিন ভিলেজার্সের বিপক্ষে তিনটি একদিনের ও একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ১৯, ২৭ ও ২৯ অক্টোবর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় একদিনের ও মাঝখানে ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জিম্বাবুইয়ে গিয়ে ২, ৪ ও ৬ নবেম্বর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় একদিনের এবং ৯ থেকে ১২ ও ১৫ থেকে ১৮ নবেম্বর যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুইয়ে ‘এ’ দল।

সবকিছুর পরেও সফরটি যে চ্যালেঞ্জিং হবে তা বুঝতে পারছেন লিটন কুমার দাস। বলেছেন, ‘ওইখানে খেলাটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে। প্রস্তুতি সবকিছু মিলিয়ে খুব ভালই। আমি চেষ্টা করব ভাল খেলার। শুধু সফর না যে কোন ম্যাচকে আমি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি আমার জন্য। সেভাবেই করার চেষ্টা করি। এবং আমি মনেকরি এই সফরটাও ওইরকমই গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভাল করার চেষ্টা করব।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘অনেকদিন আসলে লম্বা ইনিংস খেলা হচ্ছে না। ৫০ বা ৬০ হওয়ার পরই আউট হচ্ছি। চিন্তা আছে এটা নিয়ে। তো যদি সুযোগ আসে খেলার চেষ্টা করব। এটাই আমার প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফর।’

‘এ’ দলের সঙ্গে আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন নির্বাচক কমিটির সদস্য হাবিবুল বাশার সুমনও। তিনি দলের ম্যানেজার হয়ে যাচ্ছেন। সফর নিয়ে জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হয় ‘এ’ দলের যে কোন সফর খেলোয়াড় এবং আমরা যারা নির্বাচক আছি তাদের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দুটি জিনিস হয়, খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ করেত পারে তারা পরবর্তী ধাপের জন্য কতটা প্রস্তুত। আমরাও আসলে ভালভাবে মূল্যায়ন করতে পারি এই ছেলেটা কতটা দূর যেতে পারবে। সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এটা সবার জন্য ভাল একটা সুযোগ। আর একটা জিনিস হচ্ছে ভিন্ন পরিবেশে কে কেমন খেলে সেটা আমরা দেখতে চাই। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুইয়েতে আলাদা কন্ডিশন। এমন কন্ডিশনে আমাদের ছেলেরা কেমন খেলে তাদের সুযোগ দেয়া এসব বিষয়গুলো বোঝার জন্য। তো দেখার আসলে অনেক কিছুই আছে।’

তবে লঙ্গারভার্সন ফরমেটের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে হাবিবুল বাশার। জানিয়েছেন, ‘এই সফরে আমরা বেশকিছু লঙ্গারভার্সনের ম্যাচ খেলছি। জিম্বাবুইয়েতে দুটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকাতে একটা খেলছি। অবশ্যই লঙ্গারভার্সনে ফোকাসটা তো থাকবেই। একই সময়ে যেটাতে আমরা ভাল করছি এটা থেকেও আমরা ফোকাসটা সরাতে চাই না। ওয়ানডেতে আমাদের পারফর্মেন্স খুবই ভাল। সেটা আমরা কখনই হারাতে চাই না। সেটাও তো দেখবই। একই সময়ে আমরা যেহেতু টেস্ট খেলা দেশ সেটা আমাদের মূল খেলা। সেটাতে আমাদের খেলোয়াড়দের বেশি বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে হবে। সেটার দিকে আমাদের নজর থাকবে। আর আমি এটা বিশ্বাস করি লঙ্গারভার্সন একটা অভ্যাসের বিষয়। এটা যত বেশি খেলা যাবে তত ভাল খেলবেন। আমাদের একটা সুযোগ এসেছে লঙ্গারভার্সন খেলার। তবে আমাদের দৃষ্টি দুটির দিকেই থাকবে। আমরা কোনটাকেই কম গুরুত্ব দেব না।‘ সঙ্গে যোগ করেন, ‘যদি আপনারা দলটার দিকে দেখেন গত ‘এ’ দলটা আসলে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি হিসেবে করেছিলাম। ওখানে জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় ছিল। আর এবার যদি দলটা দেখেন এবার বেশি কিছু ক্রিকেটার আছে যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ ভাল করে এসেছে। তারা পরবর্তী পর্যায়ে কেমন করছে সেটা দেখার বিষয় আছে। আরও কিছু ক্রিকেটার আছে যারা জাতীয় দলে খেলা শুরু করেছে। বাইরের কন্ডিশনে খেলার খুব বেশি সুযোগ হয়নি। তাদের অভ্যস্ত করে দেয়ার সুযোগ হয়েছে। তো আমার মনে হয় খুবই ভাল সুযোগ নতুন কাউকে দেখার জন্য ভবিষ্যতের জন্য। আমরা সব সময়ই বলে থাকি যে পাইপ লাইনটা শক্ত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তো এটা একটা ভাল সুযোগ যারা পাইপ লাইনে আছে তারা বিরুদ্ধে কন্ডিশনে চারদিনের ম্যাচে বা একদিনের ম্যাচে কেমন করে সেটা দেখার। আমার পরামর্শ খুবই স্বাভাবিক। আমি চাইব ওরা যেমন ক্রিকেট খেলছে তেমনই খেলুক।’