২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্রীলঙ্কা-উইন্ডিজ তারুণ্যের লড়াই

  • বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়ে গল টেস্ট শুরু আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গলে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও অতিথি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু আজ। আলোচনায় থাকছে তিনটি বিষয়- ঘুরে দাঁড়ানো, তারুণ্য এবং বৃষ্টি। দু’টি দলেরই সাম্প্রতিক অবস্থা খারাপ। শ্রীলঙ্কার একটু বেশিই খারাপ। নিজেদের শেষ দশ টেস্টের নয়টিতে জয়হীন এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল! ঘরের মাটিতে টানা দুই সিরিজে হার পাকিস্তান ও ভারতের কাছে। লঙ্কা সফরের আগে নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করা ক্যারিবিয়রা সিরিজ হারে অস্ট্রেলিয়ার কাছে। তার চেয়েও বড় কথা পরিবর্তন, একাধিক পরীক্ষিত ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি ও অবসরে দু’দলই নির্ভর করবে তারুণ্যের ওপর। আর খেলা যখন শ্রীলঙ্কায় তখন বৃষ্টি আলোচনায় থাকবে না, সেটা কি হয়? এমনকি প্রস্তুতি ম্যাচও নির্বিঘেœ শেষ হতে পারেনি। গলের আউটফিল্ড এখনো ভারি। বৃষ্টি শঙ্কা মাথায় নিয়ে শুরু হচ্ছে প্রথম টেস্ট।

ব্যাপক পরিবর্তন ও তারুণ্যে নির্ভরতা নিয়ে দু’দল একটি জায়গায় এক বিন্দু থেকেই শুরু করছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে অবসরে গেছেন দুই কিংবদন্তি লঙ্কান ব্যাটসম্যান মাহেলা জয়বর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা। অন্যদিকে টেস্ট নিয়ে আগ্রহ নেই ক্রিস গেইল আর ড্যারেন সামির মতো বড় উইন্ডিজ তারকার। সাদা পোশাকের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে জেসন হোল্ডারের। ঘরের মাটিতে পাকিস্তান ও ভারতের কাছে টানা দুই সিরিজ হেরে স্বাগতিক কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মারভান আতাপাত্তু। অন্তর্বর্তী দায়িত্বে জেরমে জয়ারতেœ। অন্যদিকে দল নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করে বরখাস্ত হন ক্যারিবিয় কোচ ফিল সিমন্স, সিরিজে দায়িত্বে এলডিন ব্যাপ্টিস্ট। ‘আমাদের দলটি খুবই নতুন এবং অধিনায়কও তরুণ। আমার কাজ হচ্ছে আসন্ন টেস্ট ম্যাচের প্রতি তাদের নজর রাখতে সহায়তা করা।’ বলেন ব্যাপ্টিস্ট। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার মাটিতে নয়টি টেস্ট খেলে জয়হীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচটিতে হার, ড্র বাকি চারটিতে।

প্রায় একই বক্তব্য জয়ারতেœরও। লঙ্কান কোচ বলেন, ‘মাহেলা-সাঙ্গার বিদায়ে দলে অভিজ্ঞতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্বাস, জয়ে ফিরতে আমাদের ভাল একটি সম্ভাবনা আছে। অবশ্যই প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখছি না।’ ফিল্ডিংয়ে উন্নতির দিকেও জোর দেন তিনি। উপমহাদেশের আর সব দলের মতো লঙ্কানরাও ‘ঘরের মাটিতে বাঘ’ বলে পরিচিত। কিন্তু শেষ দু’টি সিরিজে নিজ উঠোনেও ভরাডুবি ম্যাথুসদের। জুনে এই গলেই পাকিস্তানের কাছে প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে ম্যাথুস-বাহিনী। কলম্বোয় ৭ উইকেটের জয়ে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। কিন্তু পাল্লেকেলে ভাগ্য নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টে ৭ উইকেটে হেরে ২-১এ সিরিজ খোয়ায় লঙ্কানরা। আগস্টে গল টেস্টে জয় দিয়ে শুরু করেও কলম্বোয় টানা দুই হারে ভারতের কাছে ২-১এ হার ম্যাথুসদের। অবশ্য ২০০৫ সালে সর্বশেষ নিজেদের মাটিতে ক্যারিবিয়দের ২-০তে ‘হোয়াইটওয়াশ করেছিল’ তারা।

এই সিরিজটা ম্যাথুসদের জন্য তাই ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন লড়াই। যেখানে বল হাতে তুরুপের তাস হয়ে আবির্ভূত হতে পারেন অভিজ্ঞ স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। সঙ্গী থারিন্ডু কুশল। যদিও এ্যাকশনে ত্রুটি থাকায় ‘দুসরা’ ছুড়তে পারবেন না তরুণ এই স্পিনার। ব্যাটিংয়ে লঙ্কানদের বড় ভরসা অধিনায়ক নিজেই। ম্যাথুসের সঙ্গে থাকবেন দিমুথ করুণারতেœ, লাহিরু থিরিমান্নে, দিনেরশ চান্দিমাল ও কুশল সিলভা। পেস আক্রমণে অবশ্য ধাম্মিকা প্রসাদ (৬৬ টেস্ট) ও সুরাঙ্গা লাকমলকে (৫০ টেস্ট) নিয়ে গড়া আক্রমণে উইন্ডিজের চেয়ে পিছিয়ে লঙ্কানরা। ১২২ ও ১২০টি করে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রতিপক্ষ পেস তারকা জেরমো টেইলর ও কেমার রোচের।

লড়াই হবে র‌্যাঙ্কিংয়েও। দু’দলই আছে তলানির দিকে। দশ দলের আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বরে শ্রীলঙ্কা, আর আটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সফরকারী উইন্ডিজকে ২-০ ব্যবধানে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করতে পারলে স্বাগতিক লঙ্কানরা নিজেদের অবস্থান সুসংহত করবে। বিপরীতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে লঙ্কানদের টপকানোর সুযোগ থাকবে ক্যারিবিয়দের। ১৯৯৩ থেকে এ পর্যন্ত ১৫ টেস্টে মুখোমুখি হয়ে ৬টিতে জয় শ্রীলঙ্কার, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জেতে ৩ টেস্ট। ড্র ৬।