২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিমিয়ার পথ চলা

  • মাহমুদা সুবর্ণা

মাত্র তিনটি ডব্লিউটিএ শিরোপা জিতেছেন। তবে সেগুলো তেমন বলার মতো নয়। সদ্য সমাপ্ত চায়না ওপেনেই প্রথম বড় কোন টুর্নামেন্ট যার ফাইনালে তিমিয়া ব্যাকসিনস্কি। কিন্তু শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে গারবিন মুগুরুজার কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও ফাইনাল খেলার পুরস্কার পেয়েছেন সুইজারল্যান্ডের এই টেনিস তারকা। প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেনিস র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষদশে উঠে এলেন তিনি। আর অসামান্য এই কীর্তির পর আনন্দে-উদ্বেলিত তিমিয়া ব্যাকসিনস্কি।

চায়না ওপেন শুধু ব্যাকসিনস্কিরই নয়, বরং গারবিন মুগুরুজার জন্যও টার্নিং পয়েন্ট। কেননা দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই চায়না ওপেনের মাধ্যমেই যে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বড় কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি। টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রতিভাবান তারকা ব্যাকসিনস্কিকে পরাজিত করেই স্বপ্নের শিরোপার ছোঁয়া পান এই স্প্যানিয়ার্ড। গত বছর ধরেই টেনিস কোর্টে নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেছেন তিনি। কিন্তু চলতি মৌসুমেই প্রথমবারের মতো কোন গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেন মুগুরুজা। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। উইম্বলডনের ফাইনালে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সেরেনা উইলিয়ামসের কাছে হার মানেন তিনি। তবে দমে যাননি স্প্যানিশ তারকা। চায়না ওপেনেই নিজের জাত চেনালেন মুগুরুজা।

ফাইনালে তিমিয়া ব্যাকসিনস্কির স্বপ্ন চুরমার করে দেন তিনি। মুগুরুজার কাছে হেরে স্বপ্ন ভাঙলেও ব্যাকসিনস্কির এটাই ক্যারিয়ারের অসামান্য অর্জন। কেননা চায়না ওপেনের আগে চলতি মৌসুমে চারটি টুর্নামেন্টে খেলেছেন তিনি। আর তার সবক’টিরই প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেন এই সুইস তারকা। টরেন্টো, সিনসিনাতি মাস্টার্স, নিউ হ্যাভেনের পর বছরের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনেরও প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেন তিমিয়া। তবে টানা চার টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়া এই সুইস তারকা চায়না ওপেনেই ঘুরে দাঁড়ান। কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের শীর্ষদশের দুই তারকা কার্লা সুয়ারেজ নাভারো এবং সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচকে বিদায় করে ফাইনালে উঠেন ব্যাকসিনস্কি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের মঞ্চেই নিস্প্রভ তিনি। তাকে হারিয়েই প্রথমবারের মতো ক্যারিয়ারের বড় কোন শিরোপা জয়ের স্বাদ পান গারবিন মুগুরুজা। স্প্যানিশ এই টেনিস তারকা রবিবার ৭-৫ এবং ৬-৪ গেমে হারান তিমিয়া ব্যাকসিনস্কিকে। ব্যাকসিনস্কিকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শিরোপা নিজের শোকেসে তুলেন মুগুরুজা। এই জয়ের পুরস্কারটাও খুব দ্রুত পেয়ে গেলেন ২২ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড। প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেনিস র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার নাম্বার স্থানটি দখল করলেন তিনি। বর্তমানে তার পয়েন্ট ৪,৬৯০। আর তার চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন মারিয়া শারাপোভা। তবে মুগুরুজার জন্য সুখবর হলো চোটের কারণে বর্তমানে কোর্টের বাইরে অবস্থান করছেন মাশা। এ মাসের শেষেই সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিএ ফাইনালসে তার খেলা নিয়েও রয়েছে সংশয়। তাই রাশিয়ান গ্ল্যামারগার্ল শারাপোভাকেও ছাড়িয়ে যাওয়াটা মুগুরুজার জন্য কেবলই সময়ের ব্যাপার।

চায়না ওপেনে নজর কাড়া পারফরমেন্সের পর টেনিস র‌্যাংকিংয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছেন তিমিয়া ব্যাকসিনস্কিও। সাতধাপ উপরে উঠে এলেন তিনি। সুইজারল্যান্ডের এই টেনিস তারকা প্রথমবারের মতো র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষদশে উঠে এলেন। আর এতে বিস্মিত ব্যাকসিনস্কি নিজেও। কারণ দুই বছর আগেই যে টেনিসকে বিদায় বলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি! তারপর দীর্ঘ এই পথ। অবিশ্বাস্যই মনে হতে পারে। তবে এই পথ পাড়ি দেয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার কোচ দিমিত্রি। তাই ফাইনালে হারের পর কোর্টের সাক্ষাতকারেই আবেগাপ্লুত ব্যাকসিনস্কি তার কোচকে সকল কৃতিত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই এই টুর্নামেন্ট কোন একজনকে উৎসর্গ করতে চাই। আমি আসলে অনেক পথই হেঁটে এসেছি। কেননা দুই বছর আগেই টেনিস থেকে অবসর নিতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু এই পথে, টেনিস র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষদশে আমাকে নিয়ে এসেছেন কোচ দিমিত্রি। প্রতিটি দিন আমার পাশে থেকে সহায়তা করার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ সেইসঙ্গে গ্যালারির দর্শকদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ব্যাকসিনস্কি, ‘গ্যালারির উপস্থিত সমস্ত দর্শকদের প্রতিই আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। অনেক সমর্থকই আমার জন্য চিৎকার করে গলা ফাটিয়েছেন। আপনাদের সবাইকেই ভালোবাসি আমি। সত্যিই আপনারা আমাকে অবিভূত করেছেন। চীনে খেলতে আমি সবসমই ভালবাসি। এখানে গত বছরও খেলেছি আমি। এখানকার সময়টা সত্যিই আমি অনেক বেশি উপভোগ করছি।’

টেনিসে তিমিয়া ব্যাকসিনক্সির অগ্রগতিটা আসলে চোখে পড়ার মতোই। দুর্দান্ত খেলে ক্রমেই সেরাদের তালিকায় উঠে এসেছেন তিনি। বিশ্ব টেনিস র‌্যাংকিংয়ের ৪৭তম স্থানে থেকে চলতি বছর শুরু করেছিলেন এই সুইস তারকা। গত বছরে যা ছিল ২৩৭। আর তিন বছর আগে এই ব্যাকসিনক্সিরই র‌্যাংকিং ছিল ৫৭৮! টেনিস র‌্যাংকিংয়ে তার অগ্রগতিটা অবিশ্বাস্যই। সেই খেলোয়াড়ই এখন টেনিস র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষদশে। সেরেনা উইলিয়ামস-মারিয়া শারাপোভা কিংবা ক্যারোলিন ওজনিয়াকিদের কাতারে! সুইজারল্যান্ডের চতুর্থ প্রমীলা খেলোয়াড় হিসেবে অসামান্য এই কীর্তি গড়লেন ব্যাকসিনস্কি। তার আগে বিশ্ব টেনিস র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষদশে উঠতে পেরেছিলেন সুইজারল্যান্ডের মাত্র তিনজন প্রমীলা খেলোয়াড়। তারা হলেন, ম্যানুয়েলা মালিভা (সাবেক ৩ নাম্বার), মার্টিনা হিঙ্গিস (সাবেক ১ নাম্বার) এবং প্যাটি স্নাইডার (সাবেক ৭ নাম্বার)। তিমিয়ার এমন অগ্রগতিতে প্রতিপক্ষ গারবিন মুগুরুজাও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সুইস সুন্দরীর ভুয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি তিমিয়াকে অভিনন্দন জানাতে চাই। কারণ শীর্ষ দশে উঠে আসাটা বিস্ময়কর এক অর্জন।’ এসময় নিজেরও গুণকীর্তন করেন স্প্যানিয়ার্ড, ‘গত সপ্তাহে উহান ওপেনের ফাইনালে হেরে গিয়েছিলাম আমি। ভেনাস উইলিয়ামসের কাছে সেই হারের পর চায়না ওপেন জেতাটা আমার জন্য দারুণ সন্তুষ্টির।’