১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবঞ্চিত অবহেলিত জনপদ

  • হায়রে সীমান্তের মানুষ তিন

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট ॥ সীমান্ত গ্রামের শিশুরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা হতে বঞ্চিত। সীমান্ত গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে শিশুরা ৯৩তম স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা হতে বঞ্চিত।

জেলা তিন ৩৬০ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে। সদর আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় সীমান্ত রয়েছে। ভারতের দিকে সীমান্ত গ্রামগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ও সরকারীভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়। সীমান্ত গ্রামের ভারতীয় কৃষকরা যখন তখন কোন দায়বদ্ধতা ছাড়া ভারতীয় ইউনিয়ন ব্যাংক হতে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থ ঋণ নিতে পারে। ভারতীয় তারকাঁটার বেড়ার পাশে ভারতীয় আন্তঃজেলা সড়ক পথ রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক। সকল সড়ক প্রায় পাকা। এমন কী জারিধরলার দুর্গম চরেও তারা রাস্তা করে দিয়েছে। রয়েছে ভারতীয় প্রাথমকি বিদ্যালয়। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী জারিধরলায় ২০- ২৫ গজ দূরুত্বে দিন রাত পাহাড়া বসিয়ে রেখেছে।

বাংলাদেশের সীমান্ত গ্রামগুলো অর্থনৈতিকভাবে অনেক দুর্বল। ঘরবাড়ি দেখলেই বোঝা যায়। ছোট ছোট টিনসেড ঝুপড়ির মতো ঘরবাড়ি। শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিতে প্রায় ২০- ২৫ কিলোমিটার দূরে শহরে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। স্কুল কলেজও সীমান্ত গ্রামে তুলনামূলক কম। কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বাংলাদেশের ভূখ- ফলিমারীর চর। ধরলা নদী এই চরটিকে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার মোগলহাট ইউনিয়ন হতে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। সেখানে কৃষি জমির দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এই চরটিতে প্রায় ১৫ হাজর মানুষের বসবাস। কিন্তু তাদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। নেই কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ফলিমারীর চরের বাসিন্দা জোবেদা খাতুন জানান, এখানে জনপ্রতিনিধিরা শুধুমাত্র ভোটের সময় আসে। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। ভোট ফুরালে আর দেখা মেলে না। রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরী ভিত্তিতে তাকে শহরে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। ধরলা নদীপাড় হয়ে শহরে যেতে হয়। সীমান্তের নিরাপত্তার কথা চিন্ত করে নদীর ঘাটে নৌকা পারাপার রাত ৯টার পর বন্ধ থাকে। অসুস্থ রোগীকে নিতে হলে সকালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলিমারীর চরে রাতে কোন বিজিবির টহল থাকে না।

রাতে ফলিমারীর চরে ভারতীয় নাগরিক ও ভারতীয় বিএসএফ বাহিনীর দখলে চলে যায়। তারা অবাধে গ্রামে বিচরণ করে। নানা অজুহাতে বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায়।