২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মামলায় জর্জরিত সাবেক ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া অরোয়ো

  • মু. আবদুল্লাহ আল আমিন

সাবেক ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া ম্যাকাপাগাল অরোয়োকে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে আটক রাখা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বিনা বিচারে আটক রাখা বিষয়ক জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ওয়ার্কিং গ্রুপ (ডব্লিইজিএডি) মন্তব্য করেছে। ম্যানিলা ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সাবেক অধ্যাপক এবং পামপাঙ্গা অঞ্চল থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গ্লোরিয়া অরোয়ো ২০০১ থেকে ১০ পর্যন্ত ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ভাগ্যে যেমনটি ঘটে গ্লোরিয়ার বেলায়ও ঘটেছে তেমনটি। কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে যথারীতি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছে। প্রেসিডেন্ট বেনিগনো একুইনোর দফতর থেকে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন আদালত কোন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেনি।

গ্লোরিয়ার আইনজীবী প্যানেলে দেশী-বিদেশী আইনজ্ঞরা রয়েছেন। এখানে যেমন আছেন ফিলিপিনো আইনজীবী লরেঞ্জো গাডোন, তেমনি রয়েছেন আমাল আলামুদ্দিন ক্লুনির মতো সেলেব্রেটি আইন বিশেষজ্ঞরাও। লেবাননে জন্মগ্রহণকারী লন্ডনভিত্তিক আইনজীবী, অধিকারকর্মী ও লেখক আমাল হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনির স্ত্রী। গ্লোরিয়ার জামিন আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর আমাল ক্লুনি একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এরই প্রেক্ষাপটে এ মাসের ২ তারিখ ডব্লিইজিএডি একটি বিবৃতি ইস্যু করে। এতে বিনা অভিযোগে গ্লোরিয়ার আটকাদেশকে অবৈধ বলে মন্তব্য করা হয়। এদিকে গ্লোরিয়ার মামলার আদালতের বিচারক আম্পারাও কাবোতাজি ট্যাং বৃহস্পতিবার বলেন যে, দুর্নীতি দমন আদালতের কর্মকা- কখনও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে না।

অবৈধ সম্পত্তি অর্জন মামলায় গ্লোরিয়া এখন হাসপাতালে আটক অবস্থায় আছেন জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে অভিমত আসার পর বিষয়টি বাস্তবায়ন করার জন্য ফিলিপিনো সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আমাল ক্লুনি। সুপ্রসিদ্ধ জাতিসংঘের ওই সংস্থা পাঁচজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন যে, মুক্তভাবে চলাফেরার অধিকার লঙ্ঘনের জন্য গ্লোরিয়া সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। এছাড়া এতে অহেতুক বিলম্ব না করে গ্লোরিয়া যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার পেতে পারেন সেটি নিশ্চিত করার জন্য ফিলিপিনো সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০১১ সালের নবেম্বর থেকে গ্লোরিয়ার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে ঘাড় ও গলা সমস্যার চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যেতে পারছেন না।

সান্দিগানবিয়ান নামে পরিচিত ফিলিপিন্সের বিশেষ আদালতে আম্পারাও ট্যাং বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। বিচারিক আদালত আইনের বিধিবিধান ঠিকমতো অনুসরণ করছে কী না, সেটি দেখার জন্য ফার্স্ট ডিভিশন কোর্ট রয়েছে। আমি মনে করি না আদালত কোন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।’ তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান মামলাটিতে কোন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন না ঘটলে আদালত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না। এদিকে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা একটি দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী হারমিনিও কোলোমা। তবে তিনি এটাও বলেছেন যে, সরকার ডব্লিইজিএডির মতামতটি গ্রহণ করেছে এবং যথানিয়মে এর একটি জবাবও দেবে। গ্লোরিয়া গত বছর জানুয়ারিতে সান্দিগানবিয়ানের কাছে জামিনের যে আবেদন করেছিলেন, তা নাকচ হওয়ার পর এ বছর এপ্রিলে সুপ্রীমকোর্টে এ বিষয়ে পুনরায় আবেদন করেছেন। তিনি বর্তমানে কুয়েজন সিটির ভেটেরানস মেমোরিয়াল মেডিক্যাল সেন্টারে আটক আছেন। তার গলা ও কণ্ঠনালীতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।