২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হিলারির পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় সম্মুখভাগে আছেন হিলারি ক্লিনটন। তাঁর অবস্থান বেশ শক্তিশালী। তাঁর অনেক সুবিধাও আছে। তাই বলে তাঁর প্রার্থিতালাভ একেবারে নিশ্চিত নয়। তার কিছু দুর্বলতা, ভুলভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা আছে, যা তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল তাঁর জন্য মস্ত পরীক্ষাক্ষেত্র।

২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার জন্য যখন দাঁড়িয়েছিলেন হিলারি, তখন প্রাইমারিতে এই দক্ষিণাঞ্চলেই মস্ত ঘা খেয়েছিলেন। ওবামা সেখানে তাঁকে ৫৫ শতাংশ ভোট নিয়ে হারিয়ে দিয়েছিলেন। হিলারি পেয়েছিলেন ২৭ শতাংশ। দক্ষিণ ক্যারোলিনার ৪৬টি কাউন্টির মধ্যে মাত্র একটি জিততে পেরেছিলেন হিলারি। তাঁর সেই ক্ষতচিহ্ন এখনও রয়ে গেছে। দক্ষিণের পরীক্ষা হিলারির জন্য তাই এখন অগ্নিপরীক্ষা। পুরনো ক্ষতচিহ্নের কথা ভুলে গিয়ে হিলারি কি তাঁর প্রচারাভিযানকে দক্ষিণে বিজয়ী করে তুলতে পারবেন? বলা বাহুল্য, দক্ষিণাঞ্চল হলো কৃষ্ণাঙ্গপ্রধান। কাজেই যিনি কৃষাঙ্গদের সর্বাত্মক সমর্থন পাবেন দক্ষিণাঞ্চল তাঁরই হবে।

তাই দক্ষিণাঞ্চলের প্রচারাভিযানে হিলারির দল বেশ আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েই নেমে পড়েছে। দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে তাঁরা আগেভাগেই কৃষ্ণাঙ্গদের এবং বিশিষ্ট আফ্রিকান-আমেরিকানদের ভোট সুসংহত করার চেষ্টার কাজে ব্যস্ত আছেন। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এমনিতে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থা বরাবরই ভাল। ২০০৮ সালের প্রাইমারিতে প্রথম দিকে হিলারির অবস্থাও ভাল ছিল। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থী ওবামা এসে গোটা স্রোতটাকে তাঁর দিকে টেনে নেন। তাছাড়া পার্টিতেও তখন বিভক্তি দেখা দিয়েছিল। তাই এবার বেশ আটঘাট বেঁধেই নেমেছে হিলারির দল।

দলীয় প্রার্থিতার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন হিলারি। তবে সম্প্রতি তাতে একটু ঝাঁকুনি লেগেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর ব্যবহৃত ই-মেইল সার্ভার নিয়ে যে কেলেঙ্কারী সৃষ্টি হয়েছিল, সেই স্ক্যান্ডাল এখনও তিনি মুছে ফেলতে পারেননি। তাছাড়া আরেকটা সমস্যা হলো, প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সের সৃষ্ট বামপন্থী জোয়ার। ভারমন্টের সোশ্যালিস্ট সিনিটর স্যান্ডার্স আইওয়া ও নিউহ্যাম্পশায়ারে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী। সেদিক বিচারে এই দুটি রাজ্যে হিলারির হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে সাউথ ক্যারোলিনায় তিনি যথেষ্ট শক্তিশালী। সেখানে তাঁর জয়লাভের সম্ভাবনা নিশ্চিত। এই রাজ্যে স্যান্ডার্স মোটেও তেমন পরিচিত নন। এখানকার ডেমোক্র্যাটদের অর্ধেকেরও বেশি কৃষ্ণাঙ্গ। এরাসহ বেশিরভাগ লোক হিলারিকে সমর্থন দেবেন। সম্প্রতি সাউথ ক্যারোলিনায় এক জরিপে দেখা গেছে, হিলারি ৬৬ শতাংশ ও স্যান্ডার্স ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যদি শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতার প্রতিযোগিতায় নামেন, তারপরও হিলারি অর্ধৈকেরও বেশি ভোট পাবেন সাউথ ক্যারোলিনায়। আলাবামা, আরকানসাস, জর্জিয়া ও অন্যান্য দক্ষিণের রাজ্য যেখানে কৃষ্ণাঙ্গের সংখ্যা বেশি, সেখানেও হিলারির জয়লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এই রাজ্যগুলো হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অগ্নিপ্রাচীর হিসেবে কাজ করবে। সাউথ ক্যারোলিনায় তার যে প্রচারযন্ত্র কাজ করছে, সেটিকে এখন গোটা দক্ষিণে বিস্তৃত করা হবে। হিলারিকে এখন ২০০৮ সালের চেয়ে ঢের বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে। ওবামার প্রচারাভিযানের অভিজ্ঞ লোকজন এখন তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। গত দু’মাস অসম্ভব পরিশ্রম করেছেন তাঁরা। পাড়া, মহল্লা, চার্চ, স্কুল কোথাও বাদ দেননি।

দক্ষিণে হিলারি শক্তিশালী ঠিকই, তথাপি সমর্থকদের মধ্যে কিছু অংশের হিলারির প্রতি অনুভূতি অত প্রবল নয়। তাঁর ই-মেইল স্ক্যান্ডালের দায়টা স্বীকার না করা, তাঁর এলিট স্ট্যাস্টাস ও নাক উঁচুভাব অনেকেই পছন্দ করেন না। এগুলো তাঁর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মোটকথা, আমেরিকার নির্বাচনী রাজনীতি এত গতিশীল যে, সামান্য ওলট পালট বিরাট বিপর্যয় ঘটিয়ে দিতে পারে। প্রাইমারির প্রথমদিকে কোথাও খারাপ কিছু হলে সর্বত্র ভোটারদের ধ্যান-ধারণা বদলে দিতে পারে। হিলারির বেলায় সেটা আরও সত্য।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট